সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫১

মুসলমানদের জন্য ভিন্ন আইন এবং গাছ কুঠারের গল্প

মুসলমানদের জন্য ভিন্ন আইন এবং গাছ কুঠারের গল্প

ফরীদ আহমদ রেজা: সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিক গার্ডিয়ানে প্রকাশিত দুটো কলাম অনেকে পড়েছেন। কলাম দুটোর শিরোনাম ছিল ‘হিন্দুর জন্যে এক আইন এবং মুসলমানদের জন্যে ভিন্ন আইন’ এবং ‘লুৎফুর রহমানের রায় ও অবাঞ্চিত ধর্মীয় প্রভাব’র আতঙ্ক’।

দুটো কলামই লেখা হয়েছে টাওয়ার হ্যামেলেটস বরার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে। এর লেখক খৃস্টান ধর্মযাজক ড. জাইলস ফ্রেইজার। ড. জাইলস ফ্রেইজার সাউথ লন্ডনের সেন্ট মেরি চার্চের দায়িত্বশীল। এক সময় তিনি প্রসিদ্ধ সেন্ট পল ক্যাথিড্রেল’র ক্যানন চ্যান্সেলর ছিলেন। গার্ডিয়ান পত্রিকায় তিনি নিয়মিত কলাম লেখেন। তাঁর কলামের নাম ‘লুজ ক্যানন’ বা মুক্ত বিধান। মুক্তচিন্তা এবং সাহসী বক্তব্যের জন্যে তিনি বোদ্ধা পাঠকদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়।

টাওয়ার হ্যামলেটস বরার জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত মেয়র লুৎফুর রহমান আদালতের রায়ের মাধ্যমে পদচ্যুত হয়েছেন। এর ফলে টাওয়ার হ্যামলেটস বরার জনগণের কতটুকু ক্ষতি হয়েছে এর পরিমাপ করা সম্ভব নয়। লুৎফুর রহমানের অপরাধ তিনি বৃটেনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টদের জন্য হায়ার এডুকেশন গ্রান্ট চালু করেছেন। সারাদেশে বন্ধ করে দেয়া

এডুকেশন মেনটেইনেন্স এলাউন্স (ইএমএএ)-এর বিকল্প ফান্ডিং চালু করে তিনি সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বাসা-বাড়ি, স্কুল, স্বাস্থ্য-সেবা, পরিবেশ, থার্ড-সেক্টর, বিনোদন, ইউথ-সার্ভিস, কমিউনিটি সেইফটি প্রভৃতি খাতে অর্থ বরাদ্ধ এবং প্রচুর সহযোগিতা দিয়েছেন। স্বাভাবিক কারণে টাওয়ার হ্যামলেটস’র বাসিন্দারা এ জন্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

আমাদের বিশ্বাস, এগারো জুনের নির্বাচনে মজলুম জনতার সাহসী কন্ঠ রাবিনা খানের পক্ষে রায় দিয়ে তারা অবশ্যই এর জবাব দেবেন। কারণ রাবিনা খান নির্বাচিত হলে লুৎফুর রহমান উন্নয়নের যে ধারা চালু করেছেন তা অব্যাহত থাকবে। জাইলস ফ্রাইজার, কেন লিভিংস্টন, সালমা ইয়াকুব, ক্রিসটিন শোফক্রট এবং আরো অনেকে লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা টাওয়ার হ্যামলেটস’র বাসিন্দা নয়। তারা লুৎফুর রহমানের নিকট থেকে কোন সুবিধা লাভ করেননি। তারা কথা বলছেন জুলুমের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়-বিচারের স্বার্থে। স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্যে অবশ্যই তারা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে ভোট আদায় করেছেন। এর প্রমাণ, ১০১ আলেমের বিবৃতি। জাইলস ফ্রেইজার বলছেন, গত নির্বাচনে টোরি পার্টিকে ভোট দেয়ার জন্যে হিন্দু ফোরাম অব বৃটেনের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ডেভিড ক্যমারন তাদের মন্দিরে উপস্থিত হয়েছেন এবং হিন্দু কমিউনিটি গান গেয়ে তাঁকে অভিনন্দিত করেছেন।

তারা বলেছেন, হিন্দুধর্ম এখন বিপদের সম্মূখীন। ক্যামারনকে ভোট দিয়ে ধর্মকে বিপদমুক্ত করতে হবে। জাইলস ফ্রেইজ প্রশ্ন তুলেছেন, লুৎফুর রহমানকে ধর্মীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করা হলো, কিন্তু ক্যামারন যা করেছেন সেটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলছেন না? ‘হিন্দুর জন্যে এক আইন এবং মুসলমানদের জন্যে ভিন্ন আইন’, এর কারণ কী?

লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, তিনি গ্রান্ট দিয়ে ভোট কিনে নিয়েছেন। অনুদান দিয়ে বাংলা মিডিয়াকে কিনে নিয়েছেন। আমরা আশা করি, যারা গ্রান্ট বা অনুদান পেয়েছেন তারা সাহসের সাথে এ অভিযোগের জবাব দিবেন। আমরা অনেকের কথা জানি, যারা সুবিধা আদায় করতে না পেরে লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। তাদের ব্যাপারে কথা না বলাই উত্তম। তবে একটা গল্প অবশ্যই বলতে হবে।

এক কুঠারী কুঠার দিয়ে গাছ কাটছে। কুঠারকে আমরা কেউ কেউ কুড়াল বলি। গাছ কুড়ালকে জিজ্ঞেস করলো, ভাইরে ভাই কুড়াল, তুমি আমাকে কাটো কেনো? জবাবে কুড়াল বলে, তোমার জাত-ভাই আমার পেছনে না থাকলে আমার কী ক্ষমতা আছে যে তোমাকে কাটবো?




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026