বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৮

মেয়র পূন:নির্বাচন চলছে টাওয়ার হ্যামলেটসে আজ

মেয়র পূন:নির্বাচন চলছে টাওয়ার হ্যামলেটসে আজ

সুমন আহমেদ: ব্রিটেনে জাতীয় কিংবা গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় নির্বাচনের আগেও রাস্তাঘাটে নির্বাচনী হুল্লোড় চোখে পড়ে খুবই কম। কিন্তু টাওয়ার হ্যামলেটস যেন তার ব্যতিক্রম। বিশেষ করে বাংলাদেশি অধ্যূষিত এলাকায় গেলেই টের পাওয়া যাবে নির্বাচনের উত্তাপ।

আজ বৃহস্পতিবার টাওয়ার হ্যামলেটসে চলছে পূনরায় মেয়র নির্বাচন। মূলত মেয়র নির্বাচন হলে এর উত্তাপ বেশি লক্ষ করা গেছে স্টেপনি এলাকায়। এখানে চলছে সাবেক কাউন্সিলার আলিবর চৌধুরীর সদ্য খালি হওয়া আসনে পূন:রায় নির্বাচন। যেখানে মেয়রের পাশাপাশি এই ওয়ার্ডে একজন কাউন্সিলার নির্বাচন করা হবে।

টাওয়ার হ্যমলেটসে মেয়র প্রার্থীদের সংখ্যা দীর্ঘ হলেও মূলত দুই প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদন্ধিতা হবে। লেবারের প্রার্থী জন বিগস আর সদ্য বিলুপ্ত রাজনৈতিক দল ও স্বাধীন নিরপেক্ষ মেয়র প্রার্থী রাবিনা খান। এই দুই প্রার্থীদের মধ্যে জমে উঠেছে ভোট কষাকষির হিসাব। কে বিশ বোঠ টানতে পারেন। আর নিজ আসন নিশ্চিত করে নগর অভিভাবকের স্থান দখলে নেবেন।

সরেজমিন দেখা যায়, ব্রিকলেনে ফাস্ট ফুডের দোকানে বসেই একজন মোবাইল ফোনে তার পরিচিতজনদের কল করে যাচ্ছেন পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে। নির্বাচনের ব্যাপারে বাংলাদেশিদের এই উৎসাহ একেবারে মজ্জাগত, কিন্তু অন্যান্য কিছু কারণে টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাচন যেন আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

আবাসন সংকটের পর টাওয়ার হ্যামলেটসে সম্প্রতি বড় হয়ে উঠেছে মাদকের সমস্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে অপরাধ। এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশি ছেলে-মেয়েরাও। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকে। এখানে ড্রাগ ফাইট, গ্যাং ফাইট বাড়ছে। অনেক তরুণ এসবে জড়িয়ে মারা গেছে গত কয়েক বছরে। আমি চাইবো এসব বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া হোক, বলছিলেন একজন বাংলাদেশি ভোটার।

টাওয়ার হ্যামলেটস এখন লন্ডনের একটা দ্রুত বিকাশমান এলাকা। লন্ডনের সিটি, অর্থাৎ অর্থ-বাণিজ্যের কেন্দ্র ক্রমশ টাওয়ার হ্যামলেটসের দিকে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ক্যানারি হোয়ার্ফে তো এখনই কয়েক লক্ষ মানুষ কাজ করেন। লন্ডনের পূর্ব-পশ্চিমকে সংযুক্ত করে যে ক্রস রেল তৈরি হচ্ছে, তা বদলে দেবে এই এলাকা। সব মিলিয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা হয়ে উঠছে। তাই সব দলই আগ্রহী এটার নিয়ন্ত্রণ পেতে।

টাওয়ার হ্যামলেটস বরাবরই লেবার পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্ত গেলবার তারা এখানে লজ্জাজনকভাবে হেরেছিল তাদের দলেরই এক বিদ্রোহী প্রার্থী লুৎফর রহমানের কাছে। লেবার পার্টি তাঁকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েও আবার তা প্রত্যাহার করে নেয়। তখন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মেয়র নির্বাচিত হন। গতবারের ঐ ঘটনায় লেবার পার্টি একটা বড় ধাক্কা খেয়েছিল। এবার তারা হাতছাড়া হয়ে যাওয়া এই কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণের জন্য মরিয়া। নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী জন বিগসের সঙ্গেই বর্তমান মেয়র লুৎফর রহমানের মূল লড়াই হবে বলে মনে করেন তিনি।

টাওয়ার হ্যামলেটসের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ বাংলাদেশি। নির্বাচনে হার-জিৎ নির্ধারণে তারা বড় ভূমিকা রাখেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের সমর্থনের ওপরই অনেকখানি নির্ভর করছেন নগর পিতার অবদান।

সন্দেহ নেই যে এই বাংলাদেশিদের ভোট যদি কোন একক প্রার্থীর পক্ষে পড়ে, তাহলে নির্বাচনী লড়াইয়ে বাঙ্গালী প্রার্থীই অনেক এগিয়ে থাকবেন। কিন্তু তারপরও চূড়ান্ত ফল কিন্তু নির্ভর করবে এলাকার অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ কিভাবে ভোট দিচ্ছেন তার ওপর। গতবারের নির্বাচনে প্রধান সব প্রার্থীই ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত। ফলে নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে যত উৎসাহ ছিল, অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ সেভাবে ভোট দিতে আসেন নি। এবার ভোট দানের হার কেমন হয়, সেটা নির্বাচনী ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026