শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৬

বিলেতের কমিউনিটির ব্যাক্তিদের নিয়ে তারেক রহমানের ইফতার

বিলেতের কমিউনিটির ব্যাক্তিদের নিয়ে তারেক রহমানের ইফতার

শীর্ষবিন্দু নিউজ: শনিবার লন্ডনের বাঙ্গালী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনদের সাথে ইফতার করলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পুর্ব লন্ডনের সোনারগাও রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে আগত লন্ডনের বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিক ও কমিউনিটির সুধীজনরা তারেক রহমানের বিনয়, বুদ্ধিমত্তা আর কৌশলী আচরন এবং আত্বপ্রত্যয়ী আচরন ও বক্তব্যের উচ্ছসিত প্রশংসা করেছেন।

ইফতার অনুষ্টানে এসেই আগত অতিথিদের সাথে প্রতিটি টেবিলে টেবিলে গিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান নিজে। শুভেচ্ছা আর কুশল বিনিময় করেন। খোজঁ নেন পুর্ব পরিচিতদের। ইফতার শেষে নামাজ আদায়ের পরপরই বসেন চায়ের সাথে বৈঠকী আড্ডায়। বিশেষ করে সুধীজন ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সাথে শনিবারের ইফতার মাহফিলে ব্রিটেনে বাঙ্গালী কমিউনিটির অনেক পুরোধা ব্যাক্তিরা যোগ দেন। এসেছিলেন অনেক বর্ষীয়ান মুরব্বিও। তাদের কাছে গিয়ে কুশল ও শারীরিক অবস্থার খোজঁ নেন তারেক রহমান।

এসময় অনেক বর্ষীয়ান মুরব্বীরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। একজন বর্ষীয়ান কমিউনিটি নেতা জানান,সেই মিম্বর আলীর সময় থেকে বিএনপি করি। কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার ছেলের কাছ থেকে যে আন্তরিকতা এবং ভদ্রতা পেয়েছি এমন আচরন কোনদিনই ভুলবার নয়। মতবিনিময় সভায় বেশ কয়েকজন বক্তা তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশের সন্ত্রাস দুর্নীতিতে প্রধান দুই রাজনৈতিক দুটি দল ক্ষমতায় গিয়ে প্রায় একই ধরনের কার্যলাপে লিপ্ত থাকে। প্রধান দুই দলের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। এর জবাবে তারেক রহমান আওয়ামীলীগ থেকে বিএনপির প্রার্থক্য তুলে ধরে বলেন, যে আওয়ামীলীগ ১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত সারাজীবন আন্দোলন সংগ্রাম করেছে গণতন্ত্রের জন্য, সেই আওয়ামীলীগ দেশ স্বাধীনের পর তারা যখন ক্ষমতায় আসল তখন ২ বছর না পেরোতেই গণতন্ত্র হত্যা করেছিলো।

যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত প্রবাসী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়ে মাত্র ৪টি পত্রিকা রেখে সকল পত্রিকার বন্ধ করেছিলেন।

১৯৭৯ যখন জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন। এর ১ থেকে দেড় বছরের মাথায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। বহু দলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেন, যে গণতন্ত্র মানুষের কাছ থেকে আওয়ামীলীগ তথা শেখ মুজিব কেড়ে নিয়েছিলো সেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। এটি হচ্ছে প্রথম পার্থক্য। তিনি বলেন, গণতন্ত্র বা রাজনীতি হচ্ছে মানুষের মতামত প্রকাশের অধিকার। আমি আপনি একজন মানুষ হিসেবে, আল্লাহর সৃষ্টি সেরা জীব।

কিন্তু সেই কথা বলার অধিকারও ১৯৭৪ সালে কেড়ে নিয়েছিল শেখ মুজিব তথা আওয়ামীলীগ। ৪টি পত্রিকার ছাড়া সবকটি পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আপনারা যদি ইতিহাস ঘাটেন তাহলে দেখতে পারবেন। আমি সত্যি বলছি না মিথ্যা বলছি। আবার শহীদ জিয়া মানুষের কথা বলার অধিকার বাক স্বাধীনতাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আমরা যদি দেখি আওয়ামীলীগ গণতন্ত্রের কথা বলে, সংসদীয় গণতন্ত্রের কথা বলে কিন্তু তা প্রেসিডেন্টশিয়াল পদ্ধতিতে নিয়ে গিয়েছিল। আবার তা ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেগম জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমরা যখন ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেছিলাম তখন স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করেছিলাম তখন সরকার তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারত না। সেটি ছিল স্বাধীন কিন্তু আমরা কি দেখলাম ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সরকারের অধিনে নিয়ে গেল। এরকম অনেক পার্থক্য রয়েছে। তিনি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে পার্থক্য খুজতে এগুলি ভাল করে দেখার আহবান জানান।

এদিকে বৃহস্পতিবার লন্ডনের সাংবাদিকদের সাথে ইফতার মাহফিলে যোগ দেয়া আওয়ামীলীগ ঘরানার একজন সাংবাদিক বলেন, প্রশ্নের জবাবে প্রশ্ন তাৎক্ষনিক করতে হলে বা প্রশ্ন করে প্রশ্ন খন্ডন করতে মেধা লাগে, আর লাগে যোগ্যতা। এ সভায় প্রায় দেড়শ সাংবাদিকের মধ্যে সিনিওর সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছেন,জবাবও পেয়েছেন। এবং দুটি ইফতার মাহফিলেই বিএনপির প্রতি মনোভাবাপন্ন নন এমন সুধীজন ও সাংবাদিকদের সানুগ্রহ উপস্থিতির অন্যতম কারন ছিল তারেক রহমান কী বলেন, কিভাবে বলেন, সেটি জানার চেষ্টাও।

আর সে যাত্রায় নিজের স্বভাবসুলভ ক্যারিশমায় তারেক রহমান যে দুটি সভাতেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেকে পরিনত করতে পেরেছেন,সেটি তার যোগ্যতার কুশলতার প্রমান। তারেক রহমান রহমান আগামী বাংলাদেশের আশার আলো একমাত্র নেতা একথা স্বীকার করেছেন আগত অতিথিদের মধ্যে অনেকই। নিকট ভবিষ্যতে দেশে যে নেতৃত্ব শুন্যতা দেখা দিবে তখনই দেশের জন্য তারেক রহমানকেই প্রয়োজন, আমরা তারেকের বিকল্প দেখছি না।

সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক। সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদের পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, ক্যানারি ওর্য়াপ গ্রুপের কমিউনিটি ডায়রেক্টর জাকির খান, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলার শিরিয়া খাতুন, ডেপুটি স্পীকার কাউন্সিলার রাজিব আহমদ, ইজলিংটন কাউন্সিলের সাবেক মেয়র গোলাম জিলানী, নিউহাম কাউন্সিলের কাউন্সিলার আয়শা চৌধুরী, উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমেদ, সাবেক মেয়র সাইফুল আলম, বিশিষ্ট আইনজীবী ও কমিউনিটি নেতা ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, মুফতি সদর উদ্দিন, টাওয়ার হ্যামলেটস বারার কেবিনেট মেম্বার আয়াছ মিয়া, কাউন্সিলার আয়শা খাতুন, সাবিনা বেগম, শাহেদ আলী, শাহ আলম, মাহবুব আলম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহিলা নেত্রী নাজমুন নাহার বেবি, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা কায়ছার কামাল, আবু বকর মোল্লা, ব্যারিস্টার নজির আহমেদ, সাংবাদিক সালেহ শিবলী,

অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন- তারেক রহমানের শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ব্যারিস্টার এম এ সালাম,ব্যারিস্টার গিয়াছ উদ্দিন রিমন, ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, কমিউনিটি নেতা মেহের বক্স,ফয়জুর রহমান এমবিই, জেবা রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি শায়স্তা চৌধুরী কুদ্দুছ, সহসভাপতি আকতার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পারভেজ মল্লি, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ন সম্পাদক নাসিম আহমেদ চৌধুরী, সহিদুল ইসলাম মামুন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সেলিম, সাবেক অর্থ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ময়না ও যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026