বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১১

যেখানে জন্ম সেখানেই মাটিতেই সমাহিত হবেন মিসাইলম্যান আবদুল কালাম

যেখানে জন্ম সেখানেই মাটিতেই সমাহিত হবেন মিসাইলম্যান আবদুল কালাম

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: তামিলনাড়ুর উপকূলীয় শহর রামেশ্বরমে মানুষের কান্নার রোল থামছেই না। সেই সঙ্গে কাঁদছে পুরো ভারতবর্ষ। শোকে কাতর প্রতিটি মানুষ। গতকাল বিকালে সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে যখন ভারতের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট এ পি জে আবদুল কালামের মরদেহ রামেশ্বরমে এসে পৌঁছে, তখন আর কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন নি।

তারপর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের প্রিয় মানুষটিকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কয়েক কিলোমিটার লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেছেন। এদের বেশির ভাগই স্কুল ও কলেজের ছাত্র। মাঝেমধ্যে কান্নার রোল আকাশ-বাতাসকে মথিত করে তুলছিল। রামেশ্বরমের বহু ঘরে অরন্ধন পালিত হয়েছে তাদের ঘরের ছেলের বিদায়ে। দুই দিন ধরে কালামের রামেশ্বরমের বাড়ির সামনেও ছিল অগণিত মানুষের উদ্বিগ্ন অপেক্ষা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে এ চিত্র। রামেশ্বরমের এক সাধারণ পরিবারে জন্মেছিলেন কালাম। রামেশ্বরমের সঙ্গে তার যোগ ছিল আমৃত্যু। কালামের ৯৯ বর্ষীয় বড় ভাই মুথু মহম্মদ মীরন মারাইকেরের ইচ্ছাতে জন্মভূমিতেই তাকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। রামেশ্বরমের শুভ্র বালুকাবেলায় চিরদিনের জন্য সমাহিত হবেন জনতার প্রেসিডেন্ট আবদুল কালাম। আজ বেলা ১১টায় তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তোপধ্বনির মাধ্যমে শেষ বিদায় জানানো হবে। আর শেষ বিদায়ের এ অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে ও তার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য। গার্ড অব অনার জানানো হবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে।

তবে স্বাস্থ্যগত কারণে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা সেখানে হাজির থাকতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে। অবশ্য কালামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তামিলনাড়ু সরকার সার্বিক ছুটি ঘোষণা করেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় শিলংয়ে আইআইএমের ছাত্রদের সামনে ভাষণ দিতে দিতেই ঢলে পড়েন এ পি জে আবদুল কালাম। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার দুপুরে মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে তার মরদেহ দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে সারাদিন ১০ রাজাজি মার্গের বাসভবনে ছিল মানুষের ঢল। রাত পর্যন্ত মানুষ জনতার প্রেসিডেন্টকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল সকালে সেনাবাহিনীর শকটে করে তার মরদেহ পালাম বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেনাবাহিনীর তিন শাখার পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার জানানোর পর ভারতীয় বায়ু সেনার বিশেষ বিমানে তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সেনা হেলিকপ্টারে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় রামেশ্বরমে। ভারতের সংসদীয় মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোরহর পরীক্কর ও বিজেপি নেতা শাহনওয়াজ হুসেন মরদেহের সঙ্গে ছিলেন সারাক্ষণ।

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, রামেশ্বরমের পেকারামবু জায়গার সমাধিক্ষেত্রের জন্য চিহ্নিত জমিতে তাকে সমাহিত করা হবে। সেখানে ইতিমধ্যেই শেষ মুহূর্তে ভিআইপিরা যাতে বিদায় জানাতে পারেন সেজন্য প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। এদিন কালামকে মানুষের শ্রদ্ধা জানানো শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় মহিদীন আন্দাভার মসজিদে। সেখানে প্রার্থনার পর কালামের মরদেহ তুলে দেয়া হয় তার পরিবারের হাতে আনুষ্ঠানিক আচার অনুষ্ঠানের জন্য।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026