শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: টেলিগ্রাফ, গার্ডিয়ান, ডিপ্লোম্যাট সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত নিবন্ধে থেরেসা মে ও বার্ণার্ড লিখেছেন, গত দুই সপ্তাহ থেকে অবৈধ অভিবাসীরা আমাদের উভয় দেশের ২০ মেইল সমুদ্র এলাকার ভিতরে ঢুকে যেন তেন ভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিটেন ও ফ্রান্স ঢোকার চেষ্টা করছেন, যা আমাদের উভয় সীমান্তের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সীমান্ত নিরাপদ রাখতে যথাসাধ্য চেষ্ঠাও করছেন।
এর প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার কলিকসে ট্যানেলের সীমান্তের ফ্যান্সিং নির্মাণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সহ যাবতীয় ব্যবস্থাও নিয়েছে। ক্রমবর্ধমান ক্যালাইসে অবৈধ অভিবাসীদের মানব স্রোত এবং জোর করে ইউরোট্যানেল দিয়ে ব্রিটেন ও ফ্রান্সে প্রবেশের চেষ্টার প্রেক্ষিতে এই সমস্যা নিয়ে ব্রিটেনের হোম সেক্রেটারি থেরেসা মে এবং ফ্রান্সের ইন্টেরিয়র মিনিস্টার বার্ণার্ড ক্যাজেনোভ বিশ্ব মিডিয়ায় এক নাতি দীর্ঘ নিবন্ধ লিখেছেন।
যেখানে এই অবৈধ অভিবাসীদের স্রোত রুখে দেয়ার জন্য ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে যে সব কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে এবং আরো যে সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেই সব সহ উদ্ভূত সমস্যা যে শুধু মাত্র ব্রিটেন ও ফ্রান্সের একার পক্ষে সমাধান সম্ভব নয় এবং রাতারাতি সমাধানের কোন পথও খোলা নেই বরং এই সমস্যা সমাধানে ফ্রান্স, ইটালি, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও আরো এগিয়ে আসার আহবানও উভয় নেতা জানিয়েছেন।
[youtube id=”_lOdB4M3VsM” width=”600″ height=”350″]
বার্ণার্ড ক্যাজেনোভ লিখেছেন, ফ্রান্সের সরকারও ক্যালাইস পয়েন্টের ল এন্ড অর্ডার মেইন্টেইনের জন্য ৫৫০ জন পুলিশের নিরাপত্তা বাহিনী গ্রাউন্ডে টহল অব্যাহত রেখেছে। আরো অতিরিক্ত ১২০ জনের পুলিশী নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। উভয় দেশই ক্যালাইস ও ইউরোট্যানেলের সামনের অংশের ফ্যান্সিং গত সপ্তাহে বসানো হয়েছে এবং বাকী অংশের ফ্যান্সিং ইউরো ট্যানেল কর্তৃপক্ষ আগামী সপ্তাহের শেষের দিকেই বসানো সম্পন্ন করবে।
থেরেসা মে আরো লিখেছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী শুক্রবারে ঘোষণা করেছেন, ককেলসের নিরাপত্তা বিধানে ব্রিটেন আরো অতিরিক্ত ফ্যান্সিং নির্মাণ করবে এবং ক্লিয়ার ম্যাসেজ দিয়েছেন, ব্রিটেনে অবৈধদের প্রবেশের জন্য সহজ কোন রাস্তা খোলা নাই। স্নাইপার ডগস সহ নিরাপত্তা ক্যালাইস জোরদার ও লরি চেকিং অব্যাহত রয়েছে।
ফ্রান্সের সরকার ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা অভিবাসীদের জন্য সহযোগীতা ও সাপোর্ট প্রদান অব্যাহত আছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ফ্রান্স প্রতিদিন ২০০০ খাবার সরবরাহ এবং ৯০০ মাইগ্রেন্টদের এসাইলাম আবেদন এবং হাউজিং ফ্যাসিলিটি অব্যাহত রেখেছে।
থেরেসা মে লিখেছেন, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকার দেশ সমূহে হতে অবৈধ অভিবাসী জীবনের তোয়াক্কা না করে ট্যানেল অতিক্রম ও ফ্যান্সিং ভেঙ্গে ঢোকার চেষ্ঠা করার পর থেকে গত সপ্তাহে আমরা অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছি। গত সেপ্টেম্বরের যৌথ ঘোষনা অনুযায়ী ব্রিটিশ সরকার ক্যালাইসের নর্ডি পাস ড্য ক্যালাইসের জন্য ১২ মিলিয়ন পাউন্ড ফিজিক্যাল নিরাপত্তা সহ আরো অতিরিক্ত ১.৪ মিলিয়ন লরির জন্য অতিরিক্ত স্পেস তৈরির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি । গত সপ্তাহে ট্যানেলের রেইলহেড এবং চ্যানেলের নিরাপত্তার জন্য আরো ৭ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্ধ দিয়েছি।
ভুমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে যারা জীবনের ঝুকি নিয়ে আসছেন, সেই পথ বন্ধ করতে হবে। আমাদের যৌথ টহলে বর্তমানে আমরা সেখান থেকে দুই শত (২০০) মাইগ্রেন্টদের ফেরত পাঠাতে পেরেছি। ফ্রান্স এবং ব্রিটেন যৌথভাবে কাজ করছে এবং ১৭টি গ্যাংদের আমরা সনাক্ত করে এদের মূলোৎপাটন করেছি। আমাদেরকে সেই সব অবৈধ এজেন্টদের ও রুটস খুজে বের করতে হবে যারা মানুষের দুর্বিসহ অবস্থার সুযোগ নিয়ে মুনাফা করছে।
আফ্রিকার দেশ সমূহে বিদেশী সাহায্য, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপম্যান্ট সহ এইড আরো বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে তারা তাদের নিজেদের দেশে অবস্থান করে।এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
থেরেসা মে ও বার্ণার্ড আরো লিখেছেন, নভেম্বরে ভ্যালেটা শীর্ষ সম্মেলনে এ ব্যাপারে এই সমস্যা ও সমাধানে ব্যাপক আলোচনা করা হবে যাতে সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যায়। অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ক্লিয়ার ম্যাসেজ হচ্ছে ব্রিটেনের ফুটপাত অবৈধদের জন্য স্বর্গরাজ্য নয়, যেমন নয় ফ্রান্সেরও। আমাদের উভয় দেশ সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এ ব্যাপারে আরো পদক্ষেপ ও ভাইটাল রোল প্লে করতে হবে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বন্ধুদেরও।
দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই দুই সেক্রেটারি লিখেছেন, অবৈধ অভিবাসীদের এই সমস্যা এখন বিশ্বব্যাপী এক বড় সমস্যা। এই সমস্যা কেবলমাত্র ফ্রান্স ও ব্রিটেনের পক্ষে একা সমাধান করা সম্ভব নয়। অবৈধ অভিবাসীরা ক্যালাইস হয়ে ব্রিটেন যেমন ঢুকতে চাচ্ছে, একই সাথে ফ্রান্স, গ্রিস, ইটালি যেভাবে সুযোগ পাচ্ছে সেখানে সেভাবেই ঢুকার চেষ্ঠা করছে। তাই এই সমস্যা ঐ সব দেশ সহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিলে মিশে সমাধান করতে হবে।