হাবিবুর রহমান হাবিব: ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া আর কোথাও পাকিস্তানের পতাকা উড়তে দেখিনি। পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্রই উড়েছে বাংলাদেশ পতাকা।মুজিবকে এখনই ক্ষমতা দেয়া উচিত।নইলে বিপদ আছে।’ কথাগুলো বলেছিলেন আসগর খান; তিনি ৭১ এর মার্চ মাসের গোড়ার দিকে ঢাকা সফর শেষে লাহোরে এ মন্তব্য করেন।
অবসর প্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আসগর খানের কথামত কাজ করলে কি বিপদ কেটে যেতো ? সেরকম চিন্তার অবকাশ নেই।কারণ মানচিত্র অংকিত বাংলাদেশেরর পতাকা যেদিন বঙ্গবন্ধু হাতে তুলে দিয়েছিলেন ছাত্ররা, সেদিন তিনি বলেছিলেন-‘ সে-ই দক্ষ সেনাপতি যে বিনা রক্ত পাতে লড়াইয়ে জয়ী হয়।’ কথাটার তাৎপর্য আছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন বঙ্গবন্ধু তার পরিকল্পনা অনুসারে কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতেন।এতে করে আইনানুগ বৈধতা পেয়ে যেতো গোটা ব্যাপারটি। পরে ইয়াহিয়া সরকার ব্যাপারটি টের পেয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেয়।তারা আলোচনার নামে গনহত্যার প্রস্তুতি নিতে থাকে। ২৫ মার্চ রাতে গনহত্যা শুরু হলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষনা করলেন।২৬ মার্চ ইয়াহিয়া তার ভাষনে বললেন- ‘ মুজিব রাষ্ট্রদ্রোহী সে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে। তার সাজা হবে।
‘সাজা দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুকে লাহোরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মুজিব কারাগারে, মুজিব বাংলার ঘরে ঘরে শ্লোগান উঠলো।সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়লো দেশবাসী। ২৬ মার্চ দুপুরে চট্রগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা পড়লেন আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম আব্দুল হান্নান। পরদিন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া বললেন- আমি বঙ্গবন্ধুর নামে ঘোষনা করছি…………..।
হাজার হাজার মাইল দূরে বঙ্গবন্ধুর নামেই নয় মাস ধরেই বাংলার আনাচে কানাচে মুক্তি যুদ্ধ হয়েছে।দামাল ছেলেরা তার মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে শত্রু হননের মহোৎসব করেছে। ৭২ এর জানুয়ারিতে মহানায়কের স্বদেশ আগমনের পর দেশগড়ার শ’পথ নেন। তিনি বলেছিলেন ভৌগোলিক স্বাধীনতা নিরর্থক হয়ে যাবে যদি জনগনের অর্থনৈতিক মুক্তি না আসে। সেই মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছিলেন তিনি।
শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলেই দেশী- বিদেশী শোষক গোষ্ঠীর চক্রান্ত শুরু হয় এবং তিনি অপরিসরে নিহত হন।তিনি আজ নেই,কিন্তু আছে তার সৃষ্ট বাংলাদেশ। আছে তার দেয়া মুক্তির মন্ত্র।সেই মন্ত্রে উদীপ্ত মানুষ আজ ও সংগ্রাম মুখর।
সংগ্রামী মানুষ আজ ও প্রতি বছরের মত গভীর শ্রদ্ধায় স্নরণ করে রাষ্ট্রের স্তপতিকে, স্বধীনতার পথ প্রদর্শককে, মুক্তির দিশারীকে।এদেশের মানুষ চিরকাল স্নরণ করবে,কেন না উজ্জল ভবিষ্যৎ নির্মানের সংগ্রামে তুমিই প্রেরণার উৎস, তুমিই শক্তি। তুমি আছো কবরে,তুমি আছো বাংলার ঘরে ঘরে, নিপীড়িত মানুষের হ্নদয়ের কন্দরে।।