শীর্ষবিন্দু নিউজ: বৃটেনে কারি ইন্ড্রাস্ট্রি যেখানে কয়েক লাখ লোক সরাসরি জড়িত এবং জীবনে বেচে থাকার তাগিদে আয় নির্ভর এই শিল্প খুজে নিয়েছেন প্রফেশন হিসেবে। আর এই ব্যবসা প্রধানত বাংলাদেশী শেফদের হাতে গড়া বৃটেনের সাড়ে চার বিলিয়ন পাউন্ডের কারি-বাণিজ্য শেফের অভাবেই হুমকির মুখে পড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসননীতিতে কড়াকড়ির ফলে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে লোকবল রপ্তানির গতি মন্থর। এর ওপর শেফের কাজ করতে বৃটিশ নাগরিকদের প্রচণ্ড অনীহা অব্যাহত রয়েছে। সরকার তাদের উৎসাহিত করলেও বৃটিশরা এতে তেমন একটা সাড়া দেয়নি। ফলে এ সংকট দেখা দিয়েছে। গতকাল হিন্দুস্তান টাইমসও এ বিষয়টি নিয়ে ফলাও করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সমগ্র বৃটেনে ১২ হাজার বৃটিশ-বাংলাদেশী রেস্তরাঁ পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানকারী সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন লন্ডন (বিসিএ) এর তথ্য মতে, বৃটেনে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ১০ থেকে ১৫টি রেস্তরাঁ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এর প্রধান কারণ হিসে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃটিশ সরকার দক্ষ জনবলের আয়ের ওপরে একটি মাপকাঠি বেঁধে দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইউরোপের বাইরে থেকে আনা কোন দক্ষ শেফকে বছরে অবশ্যই ২৯ হাজার ৫৭০ পাউন্ড আয় করতে হবে।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক রিপোর্টে বলা হয়, বৃটেনে যত ভারতীয় কারি রেস্তরাঁ চলছে তার অধিকাংশের শেফ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বাংলাদেশীরা। নয়া দিল্লি থেকে লন্ডনে ১৯৯৯ সালে গিয়েছিলেন সুনীল কুমার। তার কথায়, বৃটেনে বড় ধরনের ফুড পয়জনিং ঘটতে পারে।
কারণ অদক্ষ কর্মীদের নিয়োগ দিচ্ছেন রেস্তরাঁ মালিকরা। তারা মানসম্মত খাবার সরবরাহ করতে অপরাগ। সুতরাং রেস্তরাঁয় কারির মান অনেক নিচে নেমেছে। এ সমস্যার সমাধানে বিসিএ স্বল্পমেয়াদি ভিসায় দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো থেকে কর্মী সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। কিন্তু সেটা সরকারের ওপর নির্ভর করছে।
বিসিএ দেয়া তথ্য মতে আরো জানা যায়, একদিকে অভিবাসননীতিতে কড়াকড়ি, অন্যদিকে বৃটিশ নাগরিকদের এ পেশার প্রতি অপছন্দ এ শিল্পকে এক ভয়ানক বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ২০১২ সালে বৃটিশ সরকার তাদের তরুণসমাজকে এ শিল্পে অংশ নেয়াতে একটি বিশেষ প্রকল্প নিয়েছিল। কিন্তু তাতে সাফল্য আসেনি।
এর আগে সরকারের তরফে ইউগভপোল একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল এবং তাতে দেখা গিয়েছিল, এক-তৃতীয়াংশ তরুণ এ শিল্পে যোগ দিতে আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। তাই এশিয়ান তথা বাংলাদেশী নির্ভর এই শিল্পকে বাচাতে বিভিন্ন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বর্তমান টরি সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।