সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৬

এবার আওয়ামীলীগের জন্ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তারেক রহমান (ভিডিও)

এবার আওয়ামীলীগের জন্ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তারেক রহমান (ভিডিও)

শীর্ষবিন্দু নিউজ: যারা বিএনপিকে সেনাছাউনীতে জন্ম নেয়া দল বলে অপপ্রচার করেন আসলে তাদের পুনর্জন্ম হয়েছিল ক্যান্টনমেন্টে। আর এই দল হলো আওয়ামীলীগ। বিএনপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার র্পূব লন্ডনের রয়েল রিজেন্সী অডিটরিয়ামে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি এম এ মালেক। সভা পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদ। সভায় তারেক রহমান তার প্রায় আধাঘন্টার বক্তৃতায় বিএনপি প্রতিষ্ঠার পূর্বাপর প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বলেছেন, ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী স্বার্থ নয় বিএনপি‘র কাছে সবসময় জাতীয় স্বার্থই বড়। কারণ দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর বিএনপি‘র জন্ম হয়েছিলো। বিএনপি‘র জন্ম হয়েছিলো সম্পূর্ণ গনতান্ত্রিক উপায়ে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জনগনের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বরং আওয়ামী লীগসহ ২১টি দলের পুনর্জন্ম হয়েছিলো ১৯৭৬ সালে ক্যান্টনমেন্টে।

তারেক রহমান বলেন, এর বিপরীতে দেখা যায়, জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের জুলাই মাসে দেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেন। জিয়াউর রহমান তখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীরও প্রধান। জিয়াউর রহমান দেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত দিলেও ১৯৭৫ সালের জানুয়ারী মাসে শেখ মুজিবুর রহমান দেশের সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে এক দলীয় বাকশাল গঠন করায় দেশে তখন কোন রাজনৈতিক দল ছিলোনা। এই অবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোকে আবেদন করে স্বনামে রাজনীতি করার সুযোগ দেন তিনি।

সভায় তারেক রহমান বলেন, যারা বিএনপিকে সেনাছাউনীতে জন্ম নেয়া দল অপপ্রচার করেন তারা কুমতলবে মিথ্যাচার করছেন। কারণ বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর। তখন জিয়াউর রহমান দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। ১৯৭৮ সালের ৩রা জুন অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিয়াউর রহমানসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। ওই নির্বাচনে জনগনের ভোটে সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জিয়াউর রহমান। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই ঢাকার তৎকালীন রমনা রেস্তোরায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠার ঘোষনা দেন।

এই সুযোগে আওয়ামী লীগসহ ২১টি দল জিয়াউর রহমানের কাছে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদন করেন। জিয়াউর রহমান ২১ টি দলের আবেদন মঞ্জুর করার পর ১৯৭৬ সালের আগষ্ট মাস থেকেই আওয়ামী লীগসহ দলগুলো দেশে স্বনামে রাজনীতি করা শুরু করে। সুতরাং বলা যায় বিএনপি নয় বরং আওয়ামী লীগসহ সেই ২১টি দলেরই পূনর্জন্ম ক্যান্টনমেন্টে।

তারেক রহমান বলেন, ৭৬ সালে পূনর্জন্ম নেয়া দল আওয়ামী লীগ যে দলটিকে শেখ মুজিব নিজেই বিলুপ্ত করে দিয়েছিলেন সেই দলটি এখন অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে আবারো দেশে দূর্নীতি ও নৈরাজ্যের জন্ম দিয়েছে। জনগণের এখন বাক ও ব্যাক্তি স্বাধীনতা নেই। এমনকি এই অবৈধ সরকার গত ৩০ আগষ্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবসটিও পালন করতে দেয়নি। কোন পত্রিকায় দেশে গুমের পরিসংখ্যান দিয়ে রিপোর্টে প্রকাশ করতে দেয়া হয়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও অনুষ্ঠান করতে পারেনি। প্রেসক্লাবেও আন্তর্জাতিক গুম দিবসে অনুষ্ঠান করতে দেয়া হয়নি। বর্তমানে এই হচ্ছে দেশে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোরও তীব্র সমালোচনা করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য কমেছে, অথচ সরকার বিদ্যুতের দাম না কমিয়ে উল্টো গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিয়ে নিজস্ব লোকদের কুইক রেন্টালের নামে আরো কুইক মানি বানানোর পথ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, এর কারণ এই সরকার জনগনের সরকার নয় এ কারণে জনগনের পকেট কেটে নিজের দলের লোকদের পকেট ভারী করার কাজটি করছে।

তারেক রহমান বলেন, ২০১৪ সালের বিভিন্ন সময়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে দলীল প্রমানসহ বেশকিছু তথ্য উপস্থাপন করেছিলেন। যে সব ঐতিহাসিক বইপত্র থেকে তিনি উদ্বৃতি দিয়েছিলেন সেইসব বই বাজারে নিষিদ্ধ নয়। এমনকি অনেক বইয়ের লেখক এখনও বেঁচে আছেন। তারেক রহমান বলেন, তিনি তার সেইসব বক্তৃতায় কারা শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের প্রেক্ষাপট তৈরী করেছিলো কিংবা হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলো তাদেও কথা বলেছিলেন। কোন বক্তব্যই তিনি মনগড়া বলেননি। এখন স্ইেসব সত্য কথাগুলোই আওয়ামী লীগ কিংবা তাদের ঘরানার লোকজনই বলতে শুরু করেছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে দলের হাজার নেতাকর্মী শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের নির্যাতন নীপড়নের শিকার। অসংখ্য নেতাকর্মী গুম হয়েছে খুন হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই আন্দোলন বৃথা যেতে পারেনা। তিনি বলেন,বিএনপি চেয়ারপার্সন আপষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের মাধ্যমই অচিরেই বাংলাদেশে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। আলোচনা সভায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং দলের সামগ্রিক কার্যক্রমের উপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

সভায় আরো বক্তৃতা করেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরুদ্দিন আহমেদ অসীম, যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র উপদেষ্টামন্ডলীর সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসসহ অনেকে।

[youtube id=”ohIESBrMZVc” width=”600″ height=”350″]




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026