শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: অনেক জল্পনা-কল্পনা শেষে মাত্র লেবার লিডার নির্বাচন শেষ হলো। আর কট্টর বামপন্থি জেরেমি করবিন লেবার পার্টির নতুন লিডার নির্বাচিত হলেন। ফলাফল প্রকাশের পর লেবারের অনেক এমপি এফ শব্দের গালি দিয়ে বলতে শোনা যায় এ ফলাফল লেবারের জন্য ডিজাস্টার।
শনিবার দুপুরে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ হলে লিডারশীপ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপর জেরেমি করবিনের ভিক্টোরি স্পীচ চলার সময়েই ইভেট কুপারসহ অনেকে শেডো ক্যাবিনেট থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
আর এই নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গেই শেডো কেবিনেট থেকেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ৮ জন লেবার এমপি। এরা হলেন শেডো হোম সেক্রেটারী এবং লিডারশীপ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান দখলকারী ইভেট কুপার, শেডো বিসনেস সেক্রেটারী চুকা উমনা, শেডো পাবলিক হেলথ মিনিষ্টার এবং লিডারশীপ প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান দখলকারী লিজ ক্যান্ডল, শেডো চ্যান্সেলার ক্রিস লিসলি, শেডো পেনসন সেক্রেটারী রিচেল রিভস, শেডো এডুকেশন সেক্রেটারী ট্রিসটিয়ান হান্ট, শেডো কমিউনিটি সেক্রেটারী এমা র্যাইনল্ডস এবং শেডো হেলথ মিনিষ্টার জ্যামি রিড।
উল্লেখ্য লিডারশীপ নির্বাচনে জেরেমি করবিন ২শ ৫১ হাজার ৪শ ১৭ ভোট। তাঁর প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে ১শ ২১ হাজার ৭শ ৫১ ভোট হল দলীয় সদস্যের, ৮৮ হাজার ৪শ ৪৯ ভোট হল ৩ পাউন্ডের বিনিময়ে তালিকাভুক্ত সাপোর্টারের এবং ৪১ হাজার ২শ ১৭ ভোট হলো এ্যাফিলিয়েটেড সাপোর্টারের।
অন্যদিকে নির্বাচনের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এন্ডিবার্নহ্যাম পেয়েছেন সর্বমোট ৮০ হাজার ৪শ ৬২ ভোট। এর মধ্যে ৫৫ হাজার ৬শ ৯৮ ভোট সদস্যের, ৬ হাজার ১শ ৬০ রেজিস্টার সাপোর্টার এবং ১৮ হাজার ৬শ ৪ ভোট এ্যাফিলিয়েটেড সাপোর্টারের। এন্ডিবার্নহাম শুরু থেকেই ৩ পাউন্ডের বিনিময়ে তালিকাভুক্ত বা রেজিস্ট্রিকৃত সাপোর্টারদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
এছাড়াও দলের অনেক এমপি নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই দাবী করে আসছিলেন, অন্য পার্টি থেকে অনুপ্রবেশকারীরা জেরেমি করবিনকে ভোট দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে। নির্বাচনে ৭১ হাজার ৯শ ২৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন ইভেট কুপার।
আর ১৮ হাজার ৮শ ৫৭ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন লিড ক্যান্ডল। নির্বাচনে সর্বমোট ৪শ ২২ হাজার ৬শ ৬৪ জন সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ২শ ৪৫ হাজার ৫শ ২০ জন সদস। ১শ ৫ হাজার ৫শ ৯৮ জন রেজিষ্ট্রার সাপোর্টার। ৭১ হাজার ৫শ ৪৬ জন এ্যাফিলিটেড সাপোর্টার।
দলের সিনিয়র এক এমপি বলেছেন, তিনি করবিনকে ১২ মাসের সময় দিয়েছেন। এর বেশি দলের লিডার হিসাবে জেরেমি করবিন লাস্টিং করবেন না বলে মনে করেন তিনি। মার্কসবাদি ৬৬ বছর বয়সী জেরেমি করবিন তার রাজনৈতিক জীবনে হাউস অব কমন্সে ব্যাকব্যাঞ্চার ছিলেন।
তিনি লিডার বা নেতৃত্ব দিয়ে এমন কিছু পরিচালনা করেছেন বলে রেকর্ড নেই। তাই আধুনিক রাজনীতিতে একজন মার্কসবাদি কিভাবে দল চালান এ নিয়ে সন্দিহান আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও। যদিও ফলাফল প্রকাশের পর ধন্যবাদ ভাষণে নতুন লিডার জেরেমি করবিন দলের সবাইকে নিয়ে টোরির বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ভাষণে তিনি সাংবাদিকদের আক্রমণ করেন।