শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি হোটেলে এই ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এ কে মোমেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার, অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়সহ প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য সফর সঙ্গীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারো কাছে হাত না পেতেই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হতে পারে। তবে তার জন্য চাই আত্মবিশ্বাস। দেশের মানুষ যাতে বিশ্বের বুকে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, সেলক্ষে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, নাশকতার জন্য যারা দায়ী তারা কখনই জনগণের বন্ধু নয় বরং শত্রু। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শেখ রাসেল, শেখ কামাল, শেখ জামাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কোরবানি দেয়া ৫টি খাসির মাংস দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের। প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে এখন নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তাই এ বছর প্রবাসীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন শেখ হাসিনা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কারো কাছে ভিক্ষা চায় না। সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। বিজয়ী জাতি হিসেবে বাংলাদেশের যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং যে কোন লক্ষ্য অর্জনের আত্মবিশ্বাস রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে ম্যারিয়ট মিশন হোটেলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০ তম অধিবেশনে যোগ দিতে বুধবার আটদিনের সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছেন এবং এই প্রথম দেশের বাইরে ঈদ উদযাপন করছেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতে তার এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। বিপুল ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনকারী এই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কেউই দমিয়ে রাখতে পারবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে বাংলাদেশ বহু দুর্যোগ ও বিপদ মোকাবেলা করেছে। এইসব প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ দেশবাসীকে এর ভবিষ্যত নিয়ে সঙ্কিত করে তুলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অপশক্তি পরাজিত হয়েছে এবং সংকট সৃষ্টিকারীরা দেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমান সরকার হতাশ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোন অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। হা হুতাশ করলে কিছুই পাওয়া যায় না, কাজেই আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলছি, এ বিশ্বাসে বলীয়ান হয়েই চলবো।
বাংলাদেশ ২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে- এ আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। তিনি বলেন, এটা আমাদের লক্ষ্য, যাতে ভবিষ্যতে কেউই বাংলাদেশকে অবহেলা করতে না পারে। প্রধানমন্ত্রী ঈদের দিন সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং বাকিরা যাতে সুস্থভাবে হজ পালন শেষে দেশে ফিরে আসতে পারেন তা কামনা করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং সজীব ওয়াজেদ জয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।