বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪

নভেম্বরের তাৎপর্য

নভেম্বরের তাৎপর্য

জুলিয়াস সিজার সম্পর্কে বলা হয়েছে He came, he saw and he conquered. জিয়াউর রহমান সম্পর্কেও সেই একই কথা বলা চলে। যদিও জুলিয়াস সিজারের অভিযান ছিল অপর দেশ বিজয়ের, অন্যদিকে এমন কোনো আকাক্সক্ষা জিয়াউর রহমানের কোনো দিনই ছিল না। তার রাজনৈতিক জীবনে যে জয়লাভ তিনি করেছেন তা বাংলাদেশর আপামর জনসাধারণর হৃদয়। জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব আসলেই ধূমকেতুর মতো হঠাৎ করেই হয়েছিল।

কিন্তু ধূমকেতুর মতো তিনি বিশ্বব্রহ্মা-ের অন্ধকার হারিয়ে যাননি। বরং মানুষের মনের মণিকোঠায় তিনি চিরস্থায়ী হয়ে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চলে আসছে তার মূল কারণ এখানেই। আসলে জিয়াউর রহমানকে যদি মানুষের স্মৃতি থেকে বিতাড়িত না করা যায় তাহলে তার বিরুদ্ধবাদীদের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যাবে। রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের প্রথম আবির্ভাব ১৯৭১-এর মার্চে , যেদিন তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিশেহারা বিভ্রান্ত মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেন। এরপর তিনি অনেকটা পেছনের কাতারে স্বপেশায় ফিরে যান।

এরপর দ্বিতীয়বারের মতো তাকে আবার রাজনীতিতে দেখা গেল ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। আগের বারের মতো এবারেও তার আবির্ভাব অনেকটা ঘটনাচক্রেই ঘটেছিল। এখানে ঐদিনের ঘটনাবলীর একটি পটভূমি দেয়া দরকার। স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের তিন বছরের শাসনামলের জনজীবন বিভিন্নভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পেড়ে।

আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির আকাশছোঁয়া মূল্য, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কবলে ব্যক্তিজীবনের নিরাপত্তাহীনতা সব কিছুই জনগণের জন্য ছিল অনেকটা জগদ্দল পাথরের মতো। জনগণের মৌলিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা এসব কিছুই কেড়ে নেয়া হচ্ছিল। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছিল আধিপত্যবাদের প্রভাব। এ ধরনের অবস্থা যখন চলছিল তখন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনা-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন হয়। অভ্যুত্থানটি ছিল খুবই মর্মন্তুদ ও শোকাবহ।

তবে দেখা গেল যে, ক্যুদেতার পরে আওয়ামী লীগেরই একজন সাবেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ক্ষমতায় আসীন হলেন এবং যাদের মন্ত্রী হিসেবে নেয়োগ করা হলো তারা সবাই ছিলেন আওয়ামী লীগার। এ সরকার আড়াই মাস যাবৎ দেশ শাসন করে। ৩ নভেম্বর দেশে আর একটি সেনা-অভ্যুত্থান হয়। এই অভ্যুত্থানের নায়ক ছিলেন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ। খালেদ মোশাররফ ছিলেন সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় ব্যক্তি।

তিনি সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে অন্তরীণ করেন, খন্দকার মোশতাক আহমদকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করেন, পার্লামেন্ট বাতিল করেন, জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান হিসেবে পদত্যাগে বাধ্য করেন এবং নিজেকে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। আরো উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যেসব তরুণ অফিসার সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিলেন তাদের সঙ্গে যোগসাজশে খালেদ মোশাররফ তাদের দেশের বাইরে চলে যাবার সুযোগ করে দেন। লক্ষণীয় এই যে, খালেদ মোশাররফের ক্যুদেতার খবর এ দেশের মানুষ জানতে পারে ভারতের আকাশ বাণী থেকে।

ওই দিনের ক্যুদেতা সম্পর্কে এন্থনী ম্যানকারেনহাস তার ‘বাংলাদেশ : এ লিগ্যাসি অব বন্ড’ গ্রন্থে যা লিখেছেন তা এখানে উদ্ধৃত করা হচ্ছে ‘মোশতাক আর মেজরদের উৎখাতের খবর শুনে আওয়ামী লীগের ছাত্র ও মুজিব সমর্থিত দলগুলো রাস্তায় নেমে পড়ে। ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার তারা মুজিব দিবস হিসেবে পালন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শহীদ মিনারসহ ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে স্মৃতিসভা অনুষ্ঠিত হয়। শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে মিছিল বের হয়ে ৩২ নম্বর সড়কে মুজিবের বাসভবনের গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। তারপর ৭ নভেম্বর শুক্রবার শেখ মুজিবের স্মৃতির উদ্দেশে শোকসভা আয়োজন করে।

এসব কারণে জনগণের মনে মুজিববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য এই অভ্যুত্থানের সূচনা করা হয় বলে ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তখন জনগণ মুজিব আমলের দুঃস্বপ্ন সবেমাত্র কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে। উপরন্তু ফারাক্কা বাঁধের জন্য তাদের মধ্যে ভারতবিরোধী চেতনাও চরমে উঠেছিল, সর্বোপরি তারা যখন আবিষ্কার করল আওয়ামী লীগের মিছিলে খালেদের মা ও ভাই নেতৃত্ব দিচ্ছে তখন তারা বুঝে নেয় যে, তার অভ্যুত্থানের পেছনে ভারতও আওয়ামী লীগ জড়িত, এতে কোনো সন্দেহ নেই, ভারতীয় পত্রপত্রিকা ও সরকারি রেডিও প্রচারণায় খালেদ মোশাররফের গুণগানে মুখর হয়ে ওঠে।

একদিকে স্বাধীনতার ঘোষক সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান হলেন অন্তরীণ, অন্যদিকে খালেদ মোশাররফ ভারতের প্ররোচনায় ৩ নভেম্বর অভ্যুত্থান ঘটিয়েছেন এমন মনোভাব যখন সেনাবাহিনীর জওয়ানদের এবং সাধারণ জনমনে বিস্তার লাভ করে তখন তারা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। কিন্তু জওয়ানরা যেহেতু নেতৃত্বহীন ছিল এবং পাল্টা অভ্যুত্থানের জন্য তাদের কোনো পূর্ব-পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি ছিল না অথচ একই সঙ্গে তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ছিল, তাই তারা অনেকটা অপরিকল্পিতভাবেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। যার ফল ৭ নভেম্বর।

ওই দিন তারা দলে দলে যে গৃহে জিয়াউর রহমান অন্তরীণ ছিলেন সেখানে জমায়েত হন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জিয়াউর রহমানের পক্ষে স্লোগান দেন, তাকে অন্তরীণ অবস্থা থেকে মুক্ত করে এবং স্কন্ধে করে তুলে নিয়ে (আক্ষরিক অর্থে) স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের সব কার্যক্রম প্রতিহত করার বিজয় উল্লাসে ফেটে পড়ে ও মিছিল করে। ৭ নভেম্বর বিপ্লবের প্রদান তাৎপর্য এখানেই। প্রকৃত পক্ষেই এ বিপ্লব ছিল আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদে বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি সফল প্রয়াস।

এর দ্বারা জাতীয় সংহতি ও সুদৃঢ় হয়। ৭ নভেম্বর বিপ্লব যার প্রত্যক্ষ ফল জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রমঞ্চে আগমন, আমাদের জাতীয় জীবনে তার সূদরপ্রসারী ফল নিয়ে এসেছে। এর একটি দিক হচ্ছে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ক্ষেত্র গণতন্ত্রায়ণ। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করার জন্য আমাদের আবারও খানিকটা পেছন ফিরে তাকাতে হবে। গণতন্ত্রের অভিধা ব্যাপক। তবে সাধারণভাবে বলতে গেলে, ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধান গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য যথোপযুক্ত ছিল। তবে তৎকালীন সরকার যে এ সংবিধান খুশি মনে গ্রহণ করেছিল তা মনে হয় না।

কারণ দেখা গেল, সংবিধান গৃহীত হওয়ার অল্প কিছুদিন পর থেকেই সরকার এমন সব ব্যবস্থা নিতে আরম্ভ করল যে, তা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াল। এখানে এর বিস্তৃত আলোচনার অবকাশ কম, তবুও মানবাধিকার খর্ব করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করা এবং গণতন্ত্রের মূলনীতি বিরোধী একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদির মাধ্যমে গণতন্ত্রের মূলে কুঠারাঘাত করা হয়।

জিয়াউর রহমান এসবের অনেক কিছু পুনরায় সংশোধন করে জনগণকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেন। এখানে কয়েকটি উদাহরণ আমরা উল্লেখ করব। ’৭৪ সালের ২৮ডিসেম্বর শেখ মুজিবের শাসনামলে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার দ্বারা সংবিধানে বর্ণিত জনগণকে প্রদত্ত ১৮টি অধিকারের মধ্যে ১২টি মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ’৭৮ সালের ২৭ নভেম্বর স্থগিত মৌলিক অধিকারসমূহ পুনরুজ্জীবিত করেন। বাংলাদেশের মূল সংবিধানে মৌলিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে হাইকোর্টকে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল তা ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনী দ্বারা কেড়ে নেয়া হয়। ১৯৭৬-এর ২৮ মে জিয়াউর রহমান হাইকোর্টেও সেই ক্ষমতাকে পুনর্বার প্রতিষ্ঠিত করেন।

চতুর্থ সংশোধনী দ্বারা সুপ্রিম কোর্ট-হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতিদের নিয়োগ, অপসারণ এবং চাকরিবিধি এমনভাবে পুনর্নির্ধারত হয় যে বিচার বিভাগ প্রকৃতপক্ষে তার স্বাধীনতা হারায়, যা গণতন্ত্রের মূলনীতিবিরোধী। জিয়াউর রহমান বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বহুলাংশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন। কয়েকটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, ১৯৭২-এর সংবিধানে মহামান্য প্রেসিডেন্ট সুপ্রিম কোর্টেও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে বিচারপতিদের নিয়োগদান করার যে বিধি ছিল চুর্থ সংশোধনীতে তা উড়িয়ে দেয়া হয়। পরবর্তী পর্যায়ে জিয়াউর রহমান প্রধান বিচারপতির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক পরামর্শের মাধ্যমে নিয়োগদানের রীতি প্রচলিত করেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচাপতিদের চাকরির সমাপ্তি ঘটানোর যে প্রক্রিয়া মূল সংবিধানে বর্ণিত ছিল প্রসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী দ্বারা তা বিলোপ করে স্বহস্তে সমুদয় ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এভাবেই সুপ্রিম কোর্টেও বিচারপতিদের রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর, বলা যেতে পাওে আজ্ঞাবহ করার পদ্ধতি চালু করেন।

জিয়াউর রহমান গণভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর দিনই মাননীয় বিচারপতিদের চাকরি থেকে অপসারণের কর্তৃত্ব নিজ হাতে না রেখে সুপ্রিম কোর্টের প্রদান বিচারপতি এবং অন্য দুজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত করেন।

আদালতের পূর্বের চতুর্থ সংশোধনী এবং অন্যান্য আইনের বলে যে ক্ষমতা হরণ করা হয়েছিল জিয়াউর রহমান তাও পুনর্বার পরিবর্তন করে আদালতের স্বাধীনতা অনেকখানি পুনরুদ্ধার করেন। একথাও সবার জানা যে, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনী দ্বারা শেখ মুজিবুর রহমান দেশে একদলীয় শাসন পদ্ধতি চালু করেন।

জিয়াউর রহমান যেদিন সিপাহী জনতার বিপ্লবের ফলে রাষ্ট্র মঞ্চে গমন করেন তার পরদিনই অর্থাৎ ৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিচারপতি সায়েম তা রহিত করেন। অনুমান করা যেতে পারে যে, জিয়াউর রহমানের উচ্চতা ব্যতিরেকে সেদিন তা সম্ভব হতো না। প্রকৃতপক্ষে প্রেসিডেন্টের পদ গ্রহণ করার পর পার্লামেন্টে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বহুদলীয় ভিত্তিতেই, একদলীয় বাকশালী পদ্ধতির আওতায় নয়। আর একটি বিষয়ও এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন। চতুর্থ সংশোধনী দ্বারা পার্লামেন্টে পাস হওয়া কোনো বিলে সম্মতি দান না করা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাও জিয়াউর রহমান ’৭৮ সালে রহিত করেন।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে আওয়ামী লীগ আমলে কী মৌলিক অধিকার ভোগ করার ক্ষেত্রে, কী বিচার বিভাগের স্বধীনতার ক্ষেত্রে, কী বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এবং পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে যেসব গণতন্ত্রবিরোধী আইন প্রণীত হয়েছিল জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর সেগুলো পুনরায় গণতান্ত্রিক করা হয়েছিল। ১৯৭৫-এর সিপাহী বিপ্লবের এটি আর এক তাৎপর্য। ঘটনা পরম্পরায় বিশ্লেষণে এই সিদ্ধান্তে নির্বিঘেœ উপনীত হওয়া যায় যে, জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রমঞ্চে আবির্ভাব না হলে দেশ বাকশালী শাসনের নিগড়ে বাঁধা থাকত। ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান জাতীয় জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

প্রথমত জনগণের মধ্যে আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে একটি মনোভাব গড়ে ওঠে। এর পরবর্তী পর্যায়ে শাসনব্যবস্থা চালু হয় তার ফলে আইনশৃঙ্খলার প্রভূত উন্নীত হয়, অর্থনীতির অবনতি রোধ হয় এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রচলনের ফলে জনগণের মনে শান্তি ফিরে আসে। ব্যাপক জনগণের সমর্থন লাভ করার ফলে জিয়াউর রহমান বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনয়নে সমর্থ হন। তার আমলেই দেখা গেল, বাংলাদেশ ও আইসির সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ আল কুদস কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।

জিয়াউর রহমানের আমলেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে অবশ্য জিয়াউর রহমানের প্রধান অবদান সার্ক গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তা তিনি বিদ্যদৃষ্টিতে দেখেছিলেন। যদিও কোনো কোনো সদস্যের অসহযোগিতামূলক মনোভাবের সার্কের আদর্শ সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি; কিন্তু তবুও এর অপরিসীম গুরুত্ব সম্পর্কে আঞ্চলিক রাজনীতির পর্যবেক্ষক মহল একমত।

জিয়াউর রহমানের প্রধান কীর্তি অবশ্য ১৯৭৭ সালে সম্পাদিত ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি। এখানে এ বিষয়ে আলোচনার অবকাশ কম। কিন্তু এটুকু বলা যায় যে এ চুক্তি দ্বারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ পুরোপুরি সংরক্ষিত হয়েছিল। এসবই ৭ নভেম্বরের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ফল। সবশেষে এ কথা বলা যায় যে, আমাদের জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য খুবই গুরুত্ববহ। এ দিনটি তাই এত দিন জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল।

প্রতিহিংসাপরায়ণ এই সরকার এদিনের ছুটি তো বাতিল করেছেই, উপরন্তু দিনটিকে সৈনিক হত্যা দিবস হিসেবে অভিহিত করে একদিকে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভেদের বীজ বপন করছে, অন্যদিকে জনগণের দৃষ্টিতের ঐদিনের সেনা-অভ্যুত্থানের তাৎপর্যকে মলিন করতে চাইছে। বাংলাদেশে দেশপ্রেমিক জনগণ এমন অপচেষ্টা সফল হতে দেবে না বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

লেখক: ড. মনিরুজ্জামান মিঞা




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026