সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:২০

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী অথবা মাকাল ফলের গণতন্ত্র আর জনগণ চায় না

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী অথবা মাকাল ফলের গণতন্ত্র আর জনগণ চায় না

সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, ‘বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস আছে—এ ধরনের কিছু স্বীকার করানোর জন্য বাইরের চাপ আছে।এই চাপের লক্ষ্য হচ্ছে, যদি এ ধরনের কিছু স্বীকার করানো যায়, তাহলে বাংলাদেশের ওপর তারা হামলে পড়তে পারে।আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে সর্বনাশ হবে।সিরিয়া, ইরাক, মিসর, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের মতো পরিবেশ বাংলাদেশে সৃষ্টি হোক তা আমাদের কারও কাছে কাম্য নয়।’

তাঁর মতে, ‘এ বিষয়ে একটি ষড়যন্ত্র আন্তর্জাতিকভাবে যেমন আছে, তেমনি আমাদের দেশের কিছু মানুষও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত।চক্রান্তকারীদের বহু পরিকল্পনা আছে।তারা আরও বেশি দূর যেতে চায়।’

প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষ্য থেকে সহজেই অনুমেয় বর্তমানে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে রয়েছে।এছাড়া সাম্প্রতিককালে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হত্যার মিশন আর জঙ্গি তৎপরতা বিষয়ে সরকার যে কঠিন চাপের মুখে পড়েছে তাতেও কোনো সন্দেহ নেই। ত্রিমুখী চাপে সরকারে অস্বস্তি চরমে।এছাড়াও রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হানাহানি।চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিরোধীদের দমনে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা সাময়িক সমাধান হলেও সঙ্কট কাটেনি, বরং সঙ্কেটর গভীরতা বেড়ছে।বর্তমানে তা উদ্বেগজনক পর্যায়ে।যে উদ্বেগ সব মহলেই সমান তালে বিরাজমান।এভাবে আতঙ্কের মধ্যে আর কতদিন!এর একটা সুষ্ঠু সমাধানে সরকারকে যেতেই হবে।সেটা কীভাবে এ প্রশ্ন এখন সবার।

আমি কোনো রাজনীতিবিদ কিংবা রাজনৈতিক বুদ্ধা বিশ্লেষক নই। রাষ্ট্র, সমাজ ও শিক্ষা নিয়ে অধ্যয়ন-গবেষণার পাশাপাশি রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজের কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রধানত দুটি রাস্তা খোলা আছে। প্রথমত. বহুদলীয় গণতন্ত্রের মূল্যবোধের চেতনায় অর্থবহ একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে পুরোপুরি গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফেরা।এবং দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

দ্বিতীয়ত. দেশ-জাতির স্বার্থের স্লোগান তুলে নিজের বাবার মতো আনুষ্ঠানিক তথা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একদলীয় শাসনে ফেরা।যেমনটি তৎকালীন জাসদের গণবাহিনীকে দমন করতে গিয়ে সব নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে কায়েম করা হয়েছিল একদলীয় শাসন।

আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাবার তৈরি বহুল আলোচিত সংবিধানে চলে গেলে তখন আর আমরা কেউ গণতন্ত্র কিংবা মানবাধিকারের বিষয় নিয়ে ঘ্যান-প্যান প্যান করবো না।বিরোধীরাও আর আন্দোলনের নামে সরকারকে বিরক্ত করতে পারবে না।আমরা ১৬ কোটি নাগরিক সবাই মিলে এক দল এক রাজার গুণগান গাইবো, তখন আমাদের কতই না ভালো লাগবে! সব ঝামেলমুক্ত!যারাই বিরক্ত করার চেষ্টা করবে তাদেরকে রাষ্ট্রীয় আইনের বলে সাইজ করবেন সেই রক্ষিবাহিনীর আদলে তো অনুগত র্যাব-পুলিশ আছেই।যদিও এ ধরনের শাসনের অতীতের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়।

ইতিহাস থেকে সবার শিক্ষা নেয়া উচিত।তিক্ত হলেও সত্য যে- ইতিহাস কখনো মিথ্যা তথ্য কিংবা অবাস্তব শিক্ষা দেয় না।কিন্তু এরপরও সহজে কেউ এ শিক্ষা নিতে চায় না।আর যখন নেয় তখন আর সে শিক্ষা কাজে লাগে না।

এটা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না- সন্ত্রাস কিংবা জঙ্গিবাদ আকাশ থেকে পড়া কোনো মতবাদ নয়, সন্ত্রাসবাদ হল অগণতান্ত্রিক তথা স্বৈরতন্ত্রের কুফল।পৃথিবীতে যত ধরনের সন্ত্রাসবাদ কিংবা উগ্রবাদের জন্ম তা অগণতান্ত্রিক পরিবেশ থেকেই। এর মাত্রাটাও বাড়ে সেখান থেকেই।ফলে আমাদের রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদেরও ভাববার সময় এসেছে।

কেননা, সুযোগের অভাবে এখানে সন্ত্রাসবাদের প্ল্যাটফরম উর্বরতা পাচ্ছে মনে করেন বিশ্লেষকরা।তরুণদের কাছে উগপন্থার আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ দারিদ্র এবং বেকারত্ব। আমাদের সমাজে বেকারত্ব এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে। আর গণতন্ত্র শুধু বাংলাদেশের সফলতার জন্য নয়, বরং এটা সমগ্র বিশ্বের সফলতা। ইসলাম ও গণতন্ত্র, শান্তি ও সভ্যতার বিকাশের মধ্যেই এদেশের ভবিষ্যত নিহিত।ফলে ধর্ম ও গণতন্ত্রকে নির্বাচনে দিয়ে কোনো চিন্তা করা হলে তা হীতে বিপরীত হবে।

ওইদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির মাত্রাটা কিছুটা হলেও অনুভব করতে পেরেছেন। আর যদি সত্যিই অনুভ করে থাকেন তবে তাঁর উচিত হবে জরুরি ভিত্তিতে একটা জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা।আর সবার মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

সবশেষে বলবো, জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ, ন্যায় বিচার ও সুশাসন ছাড়া কোনোভাবেই এই পরিস্থিতি মোকাবেলা সম্ভব নয়।তাই আমাদেরকে সেদিকেই হাঁটতে হবে।আর এটা করতে না পারলে দেশ বড় ধরনের ক্ষতি সম্মুখীন হলে শাসকগোষ্ঠীকেই এর পুরো দায় নিতে হবে।আর সেটার জন্য তাদরকে যে অপরিমেয় মাসুল দিতে হবে এতেও কোনো সন্দেহ নেই।তাই সময় থাকতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।কেননা, এখনকার মাকাল ফলের গণতন্ত্র আর জনগণের ভালো লাগছে না।জনগণের আকাঙ্খা দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক, শান্তি ফের আসুক।

লেখক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গবেষক ও কলাম লেখক। ই-মেইল: sarderanis@gmail.com




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026