বিস্ময়কর ডেস্ক: সড়ক দুর্ঘটনায় এক মায়ের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর ডাক্তার ও নার্সদের সহায়তায় পৃথিবীর মুখ দেখল এক শিশু। যুক্তরাষ্ট্রের মিশৌরি প্রদেশে বিরল এই ঘটনাটি ঘটেছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন মা। সেই মায়ের গর্ভ থেকে চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করে বের করে আনলেন একটি শিশুকে। মা মারা গেলেও শিশুটি সুস্থ আছে। এদিকে শিশুটির বাবা মেট গুরুতর আহত হলেও বর্তমানে শঙ্কামুক্ত আছেন। তার শরীরের বেশ কিছু হাড় ভেঙ্গে গেছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সারাহ ইলার ও তার স্বামী ম্যাট রাইডার বাস করতেন কেপ গিরারদিউ। সেখান থেকে ৬০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে পোপলার ব্লাফ শহরে হাসপাতাল। গত বুধবার তারা দু’জনে যাত্রা করেন ওই হাসপাতালের উদ্দেশে। কিন্তু পথে একটি ট্রাক্টর তাদের এসইউভি গাড়িকে প্রচ- জোরে ধাক্কা দেয়। ট্রাক্টরের ধাক্কা লাগে তাদের গাড়ির ঠিক মাঝখানে।
এপির বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, বুধবার সারাহ ইলের-এর প্রসব বেদনা হলে তার স্বামী মেট রাইডার দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মধ্য পথে সড়ক দুর্ঘটনায় হাসপাতালে নেয়ার আগেই মারা যায় সারাহ। কিন্তু সে মারা যাওয়ার ১ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হোন ডাক্তার।
প্রাথমিকভাবে ডাক্তাররা ধারণা করেন, মায়ের মৃত্যুর পর জন্মানোর কারণে শিশুটি অক্সিজেনজনিত সমস্যায় ভুগছিল এবং ভবিষ্যতে তার মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে শিশুটি সুস্থ আছে।
পুলিশ কর্মকর্তা এডাম গ্লুয়েক বলেন, ওই সময় গাড়ি থেকে ছিটকে পড়েন ইলার ও তার স্বামী রাইডার। তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইলারকে ও তার সন্তানকে বাঁচানোর জন্য জরুরি সেবা দেয়া শুরু করেন। কিন্তু কেপ গিরারদিউ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা ইলারকে মৃত ঘোষণা করেন। তা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা মৃতদেহে জরুরিভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করেন। সুস্থ অবস্থায় বের করে আনেন একটি কন্যা সন্তান।
এ সময় শিশুটির ওজন ছিল ৪ পাউন্ড ১৫ আউন্স। সঙ্গে সঙ্গে তাকে একটি ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। সেখান থেকে গত শুক্রবার তাকে বের করে আনা হয়েছে। তার নাম রাখা হয়েছে ম্যাডিসন। ইলার বোন কাসান্দ্রা ইলার বলেন, ম্যাডিসন তার চোখ খুলেছে। এখন নার্সদের হাতের আঙ্গুল আঁকড়ে ধরছে। তবে মা মারা যাওয়ায় জন্মের পূর্ব মুহূর্তে অক্সিজেনের ঘাতটিতে তার ব্রেনের কোন ক্ষতি হয়েছে কিনা তা এখন চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখবেন।
হাসপাতালের একজন মুখপাত্র বলেছেন, শিশুটি এখন সুস্থ আছে। অন্যদিকে মারাত্মক আহত ম্যাট রাইডারও আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তার বেশ কতগুলো হাড় ভেঙে গেছে। এজন্য তাকে বিমানে করে পাঠানো হয়েছে সেন্ট লুইস হাসপাতালে। সঙ্কটজনক অবস্থা থেকে তিনি এখন ভালো অবস্থায় রয়েছেন।
ওদিকে ইলার পরিবার তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ৫০০০ ডলার সংগ্রহের জন্য একটি ওয়েবসাইট খুলেছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত তাতে জমা পড়েছে ৪২০০ ডলার।