শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহত অপর দুই জঙ্গি মানিক ও ইকবাল হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। এ দু’জন কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় ছিল বলে সন্দেহ করছেন তারা।
এদিকে নিহত জঙ্গি তামিম আহমেদ চৌধুরীর মরদেহ গ্রহণ করবেন না তার নিজ গ্রাম সিলেটের বিয়ানীবাজারে বড় গ্রামের বাসিন্দারা। শনিবার (২৭ আগষ্ট) ‘অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭’ এ তামিম মারা যাওয়ার পর এই কথা জানান বিয়ানীবাজার বড় গ্রামের বাসিন্দা দুবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ।
তিনি বলেন, বড় গ্রামের মানুষ জঙ্গিবিরোধী। তার লাশ আনতে গ্রাম থেকে কেউ যাবে না।
এদিকে তামিমের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তার চাচাতো ভাই বলেন, আল্লায় বাঁচাইলা! তামিমের কানাডা প্রবাসী কোনও স্বজন দেশে অবস্থান করছেন কিনা এ বিষয়টিও তার জানা নেই বলে জানিয়েছেন চাচাত ভাই ফাহিম।
পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মানিক ও ইকবালের হাতের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়েছে। আজ জাতীয় নির্বাচন কমিশনে রক্ষিত জাতীয় পরিচয় পত্রের সার্ভারে তাদের হাতের ছাপের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে।
একইসঙ্গে কল্যাণপুর অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যানকে তাদের ছবি দেখিয়ে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে পাইকপাড়ায় অবস্থান নেন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সেখানে তিনতলা ‘দেওয়ান বাড়ি’র তৃতীয় তলার দুটি ফ্লাটে জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর বাড়িটির আশেপাশের বাড়ি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
শনিবার ভোর পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার দিকে বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথমে বাড়ির মালিক নুরুদ্দিন দেওয়ানসহ বাকি চারটি ইউনিটের ভাড়াটিয়াদের কৌশলে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর সেখানে পুলিশের স্পেশাল সোয়াট টিম, নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় পুলিশ মোতায়েন করে পুলিশের সিটি ইউনিট অভিযান শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে র্যাবের অতিরিক্ত সদস্যও মোতায়েন করা হয়।
অভিযানের এক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ লাইন্স থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে আনা হয়। তারা পুরো এলাকা ঘিরে রাখে। এলাকার ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মূল অভিযান শুরু হয় সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে। পুলিশের সদস্যরা তিনতলার দিকে এগিয়ে গেলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে জঙ্গিরা। এরপর পুলিশ জঙ্গিদের আত্মসমর্পণে আহ্বান জানায়। কিন্তু তারা তাতে রাজি না হয়ে উল্টো গ্রেনেড ছুড়ে মারে। এরপরই উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় চলতে থাকে।
এরই মধ্যে বাড়িটির পেছন দিক থেকে পুলিশের আরেকটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে সকাল ১০ ৩৫ মিনিটের দিকে অভিযান সম্পন্ন করে। সফল এ অভিযানে তারা স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করেন। পরে বাড়িটির ভেতর তিনজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
বাড়ির মালিক নুরুদ্দিন দেওয়ান পুলিশকে জানিয়েছেন, ওষুধ ব্যবসায়ী পরিচয়ে রমজান শেষে তার বাড়ির তৃতীয় তলার দুটি ইউনিট ভাড়া নেন কয়েকজন ব্যক্তি।
পুলিশের ধারণা, এই বাসা থেকে মূলত জঙ্গিরা আদমজী ইপিজেডে কর্মরত বিদেশিদের টার্গেট করেছিলেন। অভিযান শেষে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেখানে যেসব অবিস্ফোরিত বোমা রয়েছে তা নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে।