বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৭

বন্দিদের মুক্তি কামনায় নিজে বন্দিশালায় যাওয়ার প্রস্তাব দিলেন ৮৮ বছর বয়স্ক সাবেক বিচারক

বন্দিদের মুক্তি কামনায় নিজে বন্দিশালায় যাওয়ার প্রস্তাব দিলেন ৮৮ বছর বয়স্ক সাবেক বিচারক

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: নজিরবিহীন মহানুভবত্বের পরিচয় দিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এক বিচারক। অস্ট্রেলিয়ার অফশোর বন্দিশালায় আশ্রয়প্রার্থীদের দূর্দশা যখন কর্তৃপক্ষের কর্ণগোচর হচ্ছে না তখন অন্তত একজন বন্দির সঙ্গে নিজের স্থান বদলের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

জিম ম্যাকেন নামের ওই ব্যক্তি বলেছেন, নিজের বাকি জীবনটা তিনি বন্দিশালায় কাটাতে রাজি। ৮৮ বছর বয়সী ম্যাকেন দেশটির অভিবাসন মন্ত্রী পিটার ডাটনকে লেখা এক চিঠিতে বডি সোয়াপ বা ব্যক্তি অদল-বদলের প্রস্তাব দিয়েছে। মি. ম্যাকেন লিখেছেন, আমি জানি যে এটা ব্যতিক্রমি একটি অনুরোধ কিন্তু আমি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে এই প্রস্তাব দিচ্ছি।

বিবিসির খবরে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়া অভিবাসন ও আশ্রয়প্রত্যাশীদের আবেদন প্রক্রিয়ার কাজ করে নাউরু ও মানুস দ্বিপে। সেখানকার বন্দিশালাগুলোর মানবেতর পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচায় বিদ্ধ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

মি. ম্যাকেন তার চিঠিতে লিখেছেন, এই প্রস্তাব দেয়ার পেছনে আমার কারণটা অত্যন্ত সাধারণ। নিরপরাধ, নারী, পুরুষ আর শিশুদের যখন মানুস ও নাউরু দ্বিপে মানবেতর পরিস্থিতিতে আটক রাখা হচ্ছে তখন আর আমি চুপ থাকতে পারি না।

এটা আরও বাজে বিষয় যে, তাদের এমন বিপজ্জনক আর আতিথ্যবিমুখ পরিবেশে রাখা হচ্ছে অপর আশ্রয়প্রার্থীদের অস্ট্রেলিয়া আসার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করার জন্য। অস্ট্রেলিয়া সরকার এসব ক্যাম্পে শরণার্থীদের কার্যত মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে আর এটা সম্পূর্ণ নীতিবিগর্হিত। আমার নামে যখন এসব হচ্ছে তখন আমি চুপ থাকতে পারি না।

আমি এই প্রস্তাব দিচ্ছি অন্তত একজন শরণার্থীর উন্নত অবস্থা নিশ্চিতের জন্য। এটা মানুস ও নাউরু দ্বিপে আটক অন্তত একজন ব্যক্তিকে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক হওয়ার সুযোগ করে দেবে। নিজের জীবনের বাকি দিনগুলো একজন নারী বা পুরুষ শরণার্থীর পরিবর্তে বন্দিশালায় কাটানোটা আমি সম্মান হিসেবে নেবো।’

খবরে এও বলা হয়েছে, মি. ম্যাকেন প্রয়োজনে নিজের অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকত্ব ত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

এ চিঠির বিষয়ে অভিবাসন মন্ত্রী ডাটনের এক মুখপাত্র বলেন, মন্ত্রণালয় যাচাই করে দেখছে যে চিঠিটা তারা পেয়েছে কিনা। এর বেশি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় ওই মুখপাত্র।

উল্লেখ্য, চিঠিটা একমাস আগে পাঠানো। মি. ম্যাকেন প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল ও লেবার পার্টি নেতা বিল শর্টেনের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছেন। তাদের প্রতি অফশোর বন্দিশালা নীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

মি. ম্যাকেন গার্ডিয়ানকে বলেছেন, এ প্রস্তাব দিয়ে তার হারানোর কিছু নেই। এতে যদি একজন শরণার্থী ওই দ্বিপ থেকে পরিত্রান পেতে পারে আর অস্ট্রেলিয়ায় তাদের জীবনের সুযোগ দেয় আমি সেটা করতে প্রস্তুত।

তিনি এটা স্পষ্ট করেছেন যে প্রচার পাওয়া তার লক্ষ্য নয়। মানুষকে না জানিয়েই তিনি সানন্দে শরণার্থীর সঙ্গে স্থান বদল করতে প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন। মি. ম্যাকেন পেশাগত জীবনে একজন ব্যারিস্টার ও ইউনিয়ন অর্গানাইজার ছিলেন। ১৯৮৯ সালে তিনি অবসরে যান।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025