রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৬

সবসময় ক্লান্তি লাগে এটা মারাত্মক কিছুর ইঙ্গিত নয় তো

সবসময় ক্লান্তি লাগে এটা মারাত্মক কিছুর ইঙ্গিত নয় তো

শরীর স্বাস্থ্য ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজই আপনাকে করতে হয়। প্রতিদিন সেগুলো ঠিকভাবে সম্পন্নও করে থাকেন। কিন্তু শরীর যেন আর চলে না। ভীষণ ক্লান্ত লাগে সবসময়।

নেকে তেমন কিছু না বলে বিষয়টিকে উড়িয়ে দেন। কিন্তু এটা মোটেও কোন ছোট ব্যপার নয়। সবসময় ক্লান্তির কারণ হতে পারে মারাত্মক কিছু শারীরিক সমস্যা। আসুন জেনে নিন। তারপর ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

অ্যানিমিয়া

অ্যানিমিয়ার কারণে অত্যাধিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে৷ রক্তে লোহিত রক্তকনিকার পরিমান কমে গেলেই এই রোগ দেখা দেয়৷ যার ফলে ফুসফুস থেকে অক্সিজেন ঠিকমত কোষগুলিতে সরবরাহ হয়না৷ অ্যানিমিয়ায় ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট লেগেই থাকে৷ মুলত দেহে লৌহের অভাব থেকেই এই রোগ হয়৷ তাছাড়া ইন্টারনাল ব্লিডিং, ব্লাড লস, আর্থ্রাইটিস, ক্যানসার কিংবা বৃক্কজনিত সমস্যা থেকে এই রোগ হতে পারে৷ মেয়েদেরই এই রোগ বেশি দেখা যায়৷ কারণ বেশিরভাগ ভারতীয় মেয়েদের দেহেই আয়রন ডেফিসিয়েন্সি দেখা যায়৷

থাইরয়েড

থাইরয়েড গ্রন্থির ক্ষরণের ওপর নির্ভর করে এই রোগ হয়৷ থাইরয়েড হরমোন দেহের মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রন করে৷ যদি ক্ষরণ বেড়ে যায় তাহলে হাইপারথাইরয়েডিজম হয় যাতে মেটাবলিজমের হার বেড়ে যায়৷ অন্যদিকে এই ক্ষরণ কম হলে মেটাবলিজমের গতি কমে যায়, একে বলে হাইপোথাইরয়েডিজম৷ থাইরয়েডের ফলেও ক্লান্তি আসে এবং নিজেকে দুর্বল মনে হয়৷ এক্ষেত্রে চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো৷

ডায়াবেটিস

ক্লান্তির অন্যতম কারন হল মধুমেহ৷ কিন্ত্ত মজার ব্যাপার এই যে বেশিরভাগ মানুষই জানেন না তাদের ডায়াবেটিস রয়েছে৷ কারন তারা ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দেন না৷ টাইপ টু ডায়াবেটিস হয়েছে কিনা তা প্রতি বছর পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত৷ রক্তে শর্করার পরিমান বেড়ে যাওয়ার ফলেই এই রোগ হয়৷ অত্যাধিক জল পিপাসা, মুত্রের হার কমে যাওয়া, অত্যাধিক খিদে এবং ওয়েট লসের মত সমস্যার সঙ্গে ক্লান্তি হলে সুগার চেক করান৷

ডিপ্রেশন

ডিপ্রেশনের সমস্যা হলে যতই ঘুমান না কেন সাউন্ড স্লিপ না হওয়ার ফলে ক্লান্তি থেকেই যায়৷ শরীরের চেয়ে মনের ব্যাধি অনেক বেশি ক্ষতিকারক৷ ঠিক মত চিকিত্সা না হলে এই সমস্যা অনেকদুর অবধি ভোগাবেই৷ সবার চিন্তাভাবনা আলাদা তাই এই রোগের লক্ষণও সবার ক্ষেত্রে আলাদা৷ তবে নেগেটিভ চিন্তা বেশি হতে শুরু করলে এই রোগ দানা বেধেছে বুঝবেন৷ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া মাস্ট থিং৷

ক্রনিক ফ্যাটিগ

যারা সিএফএসে ভোগেন তাদের মধেও ক্লান্তির সিম্পটম দেখা দেয়৷ ক্লান্তির সঙ্গে সঙ্গে মাসল পেইন, জয়েন্ট পেইন, মাথাব্যাথা প্রভৃতি সমস্যা দেখা যায়৷ এক্ষেত্রে একমাত্র আপনাকে সাহায্য করতে পারেন আপনার চিকিত্সক৷ কারন এই রোগ পরীক্ষা করার বিশেষ কোনও টেস্ট নেই৷ ফলে আজই ডাক্তারবাবুর শরণাপন্ন হন৷

স্লিপ অ্যাপনিয়া

বর্তমানে এই সমস্যা ঘরে ঘরে৷ বার বার ঘুম ভেঙ্গে গেলে যে ক্লান্তি আসবেই তা তো জানা কথা৷ এই সমস্যায় মুলত ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট হয় ফলে ঘুম ভেঙ্গে যায়৷ ওবেসিটি থেকে এই সমস্যা হতে পারে৷ স্লিপ অ্যাপনিয়া থেকে হূদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এমনকি স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে৷ ডাক্তার স্লিপ টেস্ট করে রোগ নিরূপণ করে থাকেন এক্ষেত্রে৷ তবে ক্লান্তিই এর প্রধান লক্ষন৷ আজই চিকিত্সকের পরামর্শ নিন৷




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025