শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ইসলামোফোবিয়া ও সেক্সিজম বিষয়ে কথা বলায় টাওয়ার হ্যামলেটস নির্বাহী মেয়র জন বিগসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন ডেপুটি মেয়রের পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া কাউন্সিলার শিরিয়া খাতুন।
শনিবার বিবিসি এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করলে তাতে শিরিয়া বলেন, তিনি বুলিং এর শিকার হয়েছেন এবং এরই প্রতিবাদে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
শিরীয়া খাতুন লেভার এক্সিকিউটিভ কমিটি এবং মন্ত্রীসভা থেকে ডেপুটি মেয়রের আসন থেকে পদত্যাগ করছেন কিন্তু এখনও লেন্সবারি ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
শিরিয়া খাতুন ক্ষোভ নিয়ে বলেন, তাকে সবসময় জিজ্ঞাসা করা হত, তিনি কেন হিজাব পরিধান করছেন, কখন তিনি তা ছেড়ে দেবেন, কতদিন পর্যন্ত তিনি তা পরিধান করবেন।
বিবিসিকে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার জন্য ধৈয্যের শেষ সীমা পেরিয়ে গিয়েছিল। যখন আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয় আমার আবায়ার নিচে কি লুকিয়ে রেখেছি, আমি হতবাক হয়ে যাই, আমার কাছে মনে হচ্ছিল এর অর্থ হচ্ছে আমি আমার আবায়ার নিচে বোমা অথবা অন্য কিছু লোকিয়ে রেখেছি।
তিনি আরও বলেন, বিগস সম্প্রতি এক কাউন্সিল মিটিং অপর এক মহিলা সহকর্মী দেখে বলেন, দেখে মনে হয়েছে বলিউড থেকে এসেছেন। তার কাছে বর্ণনা করেছেন একজন পুরুষ কখনো তৈরি হতে বেশি সময় ব্যয় করেনা।
কিন্তু জন বিগস তার উপর আনা অভিযোগ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি মুসলিমদের প্রতি খুব সম্মান প্রদর্শন করেন। মেয়র বিগস আরো বলেন, তিনি মানুষের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান করেন। আমার মনে হয় আমি বলিউড এর বিষয়ে বিষেশজ্ঞ নই। তবে বলিউডের নায়ক নায়কারদের পোষাক পরিচ্ছদের মতই তাকে মনে হচ্ছিল।
আমি জনসাধারণের সামনে নিজেকে একজন বোকা মানুষ বলা উচিত নয়, কিন্তু আমি তৈরি হতে বেশি সময় ব্যয় করিনা। আমি হয়তো বলেছিলাম আমি একজন পুরুষ হিসেবে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি এবং আমার নিজের খ্যাতির জন্য তা হাস্যকর ও অবমাননাকর। যদিও কোথাও এর প্রমাণ আছে যে আমি নিজেকে তৈরি করতে বেশী সময় ব্যয় করিনা, কারণ আমি সহজভাবে নিজেকে তৈরি করি।
মেয়র আরও যোগ করলেন যে, তিনি চিন্তা করেছেন অভিযোগটি কেবিনেট পরিবর্তনের কারণে এতটা খারাপ হয়েছে।