শীর্ষবিন্দু নিউজ: লন্ডন শহর এখন আগুনের আতংকের শহরে পরিণত হয়েছে। গ্রিনফল টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নিনিরাপত্তা আতঙ্কে লন্ডনে কয়েকটি হাউজিং এস্টেট থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
উত্তর লন্ডনের গ্রিনফল টাওয়ারে আগুন লেগে অসংখ্য মানুষ পুড়ে মারা যাওয়ার পর এবার পাশের এলাকা ক্যামডেনের একটি বহুতল ভবনের শতাধিক ফ্ল্যাট খালি করে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে ক্যামডেন কাউন্সিল স্টেট। ক্যামডেনে চালকোট এস্টেটের ৫টি টাওয়ার থেকে প্রায় ৮০০ পরিবারকে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ক্যামডেনের কাউন্সিল জানিয়েছে, ক্যালকট স্টেটের উচু পাঁচ ভবনের মধ্যে ট্যাপলো ব্লকের ১৬১টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ সেখানে গ্রেনফেল টাওয়ারের মতো বাইরের অংশে একই ক্লাউডিং ব্যবহার করা হয়েছে। তারা ওই স্টেটের পাঁচটি টাওয়ার থেকে বাইরের থার্মাল ক্লাডিং সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা ওই এলাকা বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করার জন্য নিয়মিত অগ্নিনির্বাপন মহড়ার একটি অংশ।
স্থানীয় কাউন্সিল নেতা জর্জিয়া গোল্ড বলেছেন, ওইসব ভবনে অগ্নিকার নিশ্চয়তা নেই, অগ্নিনির্বাপকরা এমন সতর্কতা দেয়ার পর এসব পরিবারকে সরিয়ে অস্থায়ী আবাসনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুক্রবার এ জন্য বড় ধরনের অভিযান চালায় কর্তৃপক্ষ। সরিয়ে নেয়া পরিবারগুলোকে আবাসনের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় কাউন্সিল হোটেল বুকিং দেয়। কিন্তু তারপরও একটি অবসর কেন্দ্রে এয়ার ব্যাগের ওপর রাত কাটিয়েছেন প্রায় ১০০ বাসিন্দা।
ক্যামডেন কাউন্সিলের নেতা জর্জিয়া গোল্ড বলেন, আমরা ক্যামডেন কাউন্সিলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞবদ্ধ। ক্যামডেন কাউন্সিলের টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে লন্ডন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ওই ভবনে যৌথভাবে ইন্সপেকশনের কাজ করেছে। পরে আমরা সেখানে আগুন নিরাপত্তা মহড়া চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই আমরা সেখানের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছি। আর আপাতত তাদের অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছি। তাই আমরা তাদের জন্য কাজ করে যাবো।
উল্লেখ্য, গ্রেনফল টাওয়ারের মতো এই ভবনে একই উপকরণ ব্যবহার করায় সেখানের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আগুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেনফেল টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে এখন পর্যন্ত ৭৯ জন মানুষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এ সংখ্যা অবশ্যই বাড়বে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এসব ভবনও পশ্চিম লন্ডনে গ্রিনফেল টাওয়ারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ। ২০১৫-১৬ সালে গ্রিনফেল টাওয়ারের নবায়ন কাজ করেছিল রাইডন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ওই একই প্রতিষ্ঠান ২০০৬ ও ২০০৯ সালে চালকোট এস্টেটের নবায়ন কাজ করে। ওই ভবনগুলোতে যে গ্যাস পাইপ প্রবেশ করেছে তার ইনসুলেশন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।