শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: গ্রিনফল টাওয়ারে ট্রাজেডি নিয়ে এখনো উৎসুক মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন টাওয়ারের আশপাশ এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক কমরু মিয়াসহ তার পরিবারের ৫ সদস্যের মধ্যে তিনজনের লাশের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এরমধ্যে এক অনির্ভরযোগ্যে এক সূত্রমতে জানা যায়, ২৩ বছর বয়সী হোসনার লাশ পাওয়া যায় ১৭ তলার লিফটের পাশে। তার মা ৬৪ বছর বয়সী রাবেয়া বেগমকেও একই ফ্লোরে নিজেদের ফ্লাটে পাওয়া যায়।
অগ্নিকাণ্ডের দু’সপ্তাহ পর হোসনা ও তার মায়ের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। ডেন্টাল রেকর্ড পরীক্ষার মাধ্যমে মা-মেয়ের লাশ শনাক্ত করা হয় বলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে মিডিয়ায় প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবনের ১৭ তলার ১৪৪ নম্বর ফ্ল্যাটে মা-বাবা আর ভাইদের সঙ্গে থাকতেন হোসনা বেগম।
ধারণা করা হচ্ছে, শেষ মুহুর্তে হোসনা হয়তো নিচে নেমে আসার চিন্তা করছিলেন। আগুনের লেলিহান শিখার আর বিকট ধোয়ার কারণে নামতে না পেরে সেখানে অজ্ঞান হয়ে আগুনে পুড়ে মারা যান।
অগ্নিকাণ্ডে মৃত কমরু মিয়ার পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল লন্ডনের বেঙ্গল রেস্টুরেন্ট। প্রায় ৯০ বছর বয়সী কমরু মিয়া অবসরে ছিলেন। তাদের মূল বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খৈসাউড়া গ্রামে।
এদিকে, চলতি বছর শেষেও নিখোঁজ অনেকের লাশ না মেলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ফিওনা মেকরম্যাক। মৃতের প্রকৃত সংখ্যাও কখনও নিশ্চিত না হওয়ার শঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড।
জানা যায়, কিছু আনুষাঙ্গিকতা শেষ না হওয়ায় হোসনা ও তার মায়ের জানাজার সময় এখনও নির্ধারিত হয়নি। জানাজা শেষে লন্ডনেই তাদের দাফন হবে বলে পরিবার সূত্র জানিয়েছে। জানাজা ইস্ট লন্ডন মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, মা-মেয়ের লাশ পাওয়া গেলেও বাবা ও দু’ছেলের লাশ শনাক্ত না হওয়া ও ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় কিছু ব্রিটিশ মূলধারার মিডিয়ার নিয়ে বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
আরো জানা যায়, আর যেসব লাশ শনাক্ত হবে সেটি কোন পরিবারের সেটি নিশ্চিত হওয়া গেলেও সমবয়সী একাধিক ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া দুরুহ হবে। কারণ, মৃত ব্যক্তিদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখার মতো ব্যবহার্যগুলোও পুড়ে গেছে। গত ১৪ জুনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
নিহতদের বেশিরভাগই ২৩টি ফ্ল্যাটের বলে জানা গেছে। উত্তর কেনসিংটনের ভবনটিতে মোট ১২৯টি ফ্ল্যাট ছিল। পুলিশ যথাসম্ভব বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করছে। এবং তাদের থেকে এ ঘটনা সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করছে।