শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: গত শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ২০ বছর বয়সী এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক নাম রাশান চার্লসকে ডালস্টোন এলাকার কিংসল্যান্ড রোডে পুলিশ দাওয়া করে। ঐই যুবক গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
আর হঠাৎ ঐ যুবকের কার থামানোর চেষ্টা করে পুলিশ। সংকেত পেয়ে ঐ যুবক গাড়ি থামায় এবং হাঁটা শুরু করে। তাকে পেছন থেকে একজন সাদা পোষাকের পুলিশ তাড়া করছিল তখন। সে পাশ্ববর্তী একটি দোকান লক্ষ্য করে দোকানে প্রবেশ করে সে কিছু একটা গিলে ফেলে।
এরপর তাকে একটি পূর্ব লন্ডন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে প্রায় এক ঘণ্টা পরে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তার প্রশ্নবিদ্ধ মৃত্যুর কারণ জানতে ওই দিন থেকেই বিক্ষোভ করে আসছেন স্থানীয়রা। রাশানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকাল থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত দাঙ্গা হয়েছে ইস্ট লন্ডনের হ্যাকনি কাউন্সিলে। প্রশ্নবিদ্ধ এই মৃত্যুর প্রতিবাদে শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে বিক্ষোভ শুরু হয় ডালস্টোন এলাকার কিংসল্যান্ড রোডে।
পুলিশের হাতে প্রশ্নবিদ্ধ মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন বেনারের পাশাপাশি কেউ কেউ ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার্স লিখা বেনার ফেস্টুন নিয়েও আসেন। রাত ৮টার দিকে ধীরে ধীরে বিক্ষোভ অগ্নিমূর্তি ধারণ
করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কালো মুখোশধারী কিছু বিক্ষোভকারী রাস্তায় অসংখ্য বিন, ম্যাট্রেস ইত্যাদিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। রাত প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে দাঙ্গা পুলিশ ধীরে ধীরে তাদের কাছে যাবার চেস্টা করলে পুলিশের উপর আক্রমণ শুরু হয়।
এ সময় পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইট-পাটকেল, বোতল, আগুন বোমা নিক্ষেপ শুরু করে বলে পুলিশ জানায়।
এ সময় মুখোশধারীরা স্থানীয় দোকানপাটও ভাংচুর করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাত প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে পুলিশ। এ সময় ১০ থেকে ১৫টি দাঙ্গা পুলিশের ভ্যান সেখানে ছিল বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। এছাড়াও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ঘোড়া এবং হলিকপ্টারও ব্যবহার করে।
উল্লেখ্য, পুলিশের তাড়া খেয়ে স্থানীয় দোকানের ভেতর গ্রেফতারের সময় হ্যান্ডকাফ পরা রাশানকে নিয়ে দু’জন পুলিশ অফিসার মাঠিতে পড়ে দস্তাদস্তি করছেন। এমন একটি সিসিটিভি ফুটেজ তাৎক্ষনিকভাবেই সামাজিক মাধ্যমে আসে।
তবে পুলিশের ধাওয়ার মধ্যে রাশান কিছু একটা গিলার চেস্টা করছিল বলে দাবী পুলিশের। সেটা বের করার জন্যে তার গলায় অতিমাত্রায় চাপাচাপির কারনে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
অবশ্য স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানিয়েছে, যুবকটি ফ্লোরে বসে নিজেকে নিজে আঘাত করার চেস্টা করছিল। এম্বুলেন্স আসার পূর্ব পর্যন্ত পুলিশ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেস্টা করে।