শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ফরাসি সম্রাট চতুর্দশ লুঁইয়ের ঐতিহাসিক প্রাসাদ ‘শ্যাঁতো’ কিনে নিলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। দুর্গ বা এ প্রাসাদটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান একটি সম্পদ হিসেবে বিবেচিত যেখানে সিস্টিন চ্যাপেল শৈলীর কারুকাজ মন্ডিত ছাদ, আস্তাবল, এ্যাকুরিয়াম, ভূগর্ভস্থ নাইট ক্লাব রয়েছে। ২০১৫ সালে এ প্রাসাদটি বিক্রি হয়েছিল ৩’শ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ডেইলি মেইল
পুরোনো এ প্রাসাদটিতে সবধরনের ঐতিহ্য ও নির্মাণ শৈলী অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক ধাঁচের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। পানশালা, ঘরোয়া থিয়েটার হল, ভূগর্ভস্ত এ্যাকুরিয়াম,বিশাল বাগান, ভাস্কর্য, স্কোয়াশ কোর্টসহ নানা ধরনের অত্যাধুনিক উপকরণ সন্নিবেশের ফলে এটি বিশ্বে নজরকাড়া প্রাসাদে পরিণত হয়েছে।
সম্রাট চর্তুদশ লুঁই টানা ৭২ বছর ফ্রান্স শাসন করেন এবং তারই দিক নির্দেশনায় প্রাসাদটি নির্মাণ করা হয়। সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের এ প্রাসাদ ক্রয়ের বিষয়টি ফ্রান্স ও লুক্সেমবার্গের একাধিক বাড়ি ক্রয়-বিক্রয় প্রতিষ্ঠান গোপন রাখলেও নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানে তা প্রকাশ হয়ে যায়।
সৌদি রাজকীয় পরিবারের উপদেষ্টারা স্বীকার করেছেন বাড়িটির মালিক ক্রাউন প্রিন্স। যিনি তার দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ পরিচালনা করছেন এবং শতাধিক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, সাবেক মন্ত্রী ও আমলা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিকে আটক করে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। দিন কয়েক আগে লা ভিঞ্চির একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম মা মেরির ছবি সাড়ে ৪’শ মিলিয়ন ডলারে কিনে নেন ক্রাউন প্রিন্স।
তারও আগে রুশ ভদকা প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে একটি প্রমোদ তরী ‘প্যাগাসাস-৮’ কিনে নেন সাড়ে ৫’শ মিলিয়ন ডলারে। একই সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্স ভিশন ২০৩০’এ অংশ হিসেবে তার দেশকে তেলের নির্ভরতা থেকে দূরে সরিয়ে নিতে আর্থিক সংস্কার শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে দুর্নীতির দায়ে আটক সৌদি রাজপরিবারের অনেকে মোটা অংকের জরিমানা দিয়ে ছাড় পেয়েছেন।
যে কোম্পানিগুলো ফ্রান্সের এই প্রাসাদটি কিনেছে তারা ৬২০ একর জমি কিনে তা শিকার বাড়ি বা ‘হান্টিং লজে’ পরিণত করছে।