শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, নামাজের প্রতি আহ্বানের জন্য সব ধরণের সুযোগ সুবিধাকে কাজে লাগাতে হবে। ২৬তম বার্ষিক নামাজ সম্মেলনে পাঠানো এক বার্তায় তিনি আজ একথা বলেছেন।
বার্ষিক নামাজ সম্মেলনকে মহান এক ঐশী সাফল্য হিসেবে মন্তব্য করে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, নামাজের দাওয়াত দেয়া জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও মহান একটি কাজ। নামাজ জীবনের অন্যতম সুন্দর একটি অধ্যায়। নামাজের মাধ্যমে মানুষ সরাসরি আল্লাহর সান্নিধ্যে নিজের সব চাওয়া পাওয়ার কথা বলার সুযোগ পায়। নামাজিদের অন্তরগুলো কল্যাণ ও সৌন্দর্যে ভরে ওঠে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আল্লাহর নেক বান্দাদের উচিত কুরআনের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নামাজের দিকে মানুষকে আহ্বান জানানো।
সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা, শিক্ষক, পরিচালক, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব, ইসলামি চিন্তাবিদসহ সবার দায়িত্ব হলো এই দাওয়াতি কাজের জন্য ব্যাপক সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা এবং সেগুলোকে কাজে লাগানো।
২৬তম নামাজ সম্মেলন আজ ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বান্দার-আব্বাসে শুরু হয়েছে। শিয়া এবং সুন্নি আলেমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলগণ ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন।
অজুহাত খুঁজছে আমেরিকা : ইরান
ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ সম্পর্কে ইরান বলেছে, দেশটির সাথে ওই ক্ষেপণাস্ত্রের ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। ইরানের সংসদ স্পিকারের বিশেষ সহকারী ও সাবেক উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান এ মন্তব্য করেছেন।
জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি গত ১৪ ডিসেম্বর একটি পাইপ সদৃশ বস্তুর সামনে দাঁড়িয়ে দাবি করেন, ওগুলো ইয়েমেন থেকে রিয়াদে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ এবং ইরান এটি ইয়েমেনকে সরবরাহ করেছিল।
আমির আব্দুল্লাহিয়ান বুধবার তেহরান সফররত লেবাননের আমোল আন্দোলনের নেতা খলিল হামদানের সাথে সাক্ষাতে বলেন, মার্কিন সরকারের উচিত ইয়েমেনের নিরপরাধ জনগণকে হত্যা করার কাজে সৌদি আরবকে দেয়া অস্ত্র সহায়তা দেয়া বন্ধ করা। তা না করে উল্টো ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।
ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার পথে বাধা সৃষ্টি করার অজুহাত খুঁজছে আমেরিকা। কিন্তু ওয়াশিংটনের সে ‘খাহেশ’ কোনোদিনও মিটবে না। আব্দুল্লাহিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ বৈধ এবং তাতে হস্তক্ষেপ করার অনুমতি কাউকে দেয়া হবে না।
চলতি মাসের গোড়ার দিকে সৌদি আরবের রাজধানী কিং খালিদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিলেন ইয়েমেনের জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা। সৌদি আরব সেটিকে রিয়াদের আকাশে ধ্বংস করে দেয়ার দাবি করে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কথিত ওই ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ওয়াশিংটনে প্রদর্শন করেন।
হাউছি যোদ্ধারা এরপর গত সোমবার রিয়াদে সৌদি রাজার আল-ইয়ামামা প্রাসাদ লক্ষ্য করে আরেকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এবারও সেটিকে গুলি করে নামানোর দাবি করেছে রিয়াদ।