শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: আজ শনিবার মালদ্বীপে নতুন করে হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির পুলিশ। অবশ্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে মোহামেদ নাশিদের সমর্থকরা আশাবাদী। নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
নাশিদের এখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ৩০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমের সত্ভাই আবদুল ইয়ামিন এবং ব্যবসায়ী ও গাইয়ুমের আমলের অর্থমন্ত্রী গাসিম ইব্রাহিম। এই দুই প্রার্থী ভোটার তালিকা অনুমোদন করেননি। কয়েক দশকব্যাপী স্বৈরশাসনের পর মালদ্বীপে ২০০৮ সালে প্রথম অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোহাম্মদ নাশিদ বিজয়ী হয়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে দেড় বছর আগে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল গত সপ্তাহে বাতিল করেন মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট। ওই নির্বাচনে প্রধান বিরোধী নেতা ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। মোহাম্মদ নাশিদ ক্ষমতা ছাড়ার পর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণকারী মোহাম্মদ ওয়াহিদ হাসান মানিকও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে তিনি মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পাওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান।
পুলিশ দাবি করেছে, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লঙ্ঘন করে নির্বাচন অনুষ্ঠান বেআইনি। ভোটার তালিকা অনুমোদন না করায় আজকের নির্বাচন স্থগিত করার জন্য দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে গতকাল শুক্রবার দুই প্রার্থী গাসিম ইব্রাহিম ও আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবেদন করেন। নির্বাচন স্থগিত করতে কোনো আদেশ দেননি আদালত। আবার নির্বাচন হওয়ার বিষয়েও কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা দেননি। পুলিশ বলেছে, মাত্র একজন প্রার্থী ভোটার তালিকা অনুমোদন করেছেন। এ অবস্থায় নির্বাচন হলে তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার লঙ্ঘন হবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান ফুয়াদ তৌফিক অভিযোগ করেছেন, কমিশনের সচিবালয় ঘিরে রেখেছে পুলিশ। তারা কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আজকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ায় মালদ্বীপে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।