মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৫

সোলাইমানির জানায় পদপিষ্ট হয়ে ব্যাপক নিহতের ঘটনায় দাফনে বিলম্ব

সোলাইমানির জানায় পদপিষ্ট হয়ে ব্যাপক নিহতের ঘটনায় দাফনে বিলম্ব

শীর্ষবিন্দু আর্ন্তজাতিক নিউজ: ইরানে জেনারেল সোলাইমানির দাফনে অংশ নিতে লাখ লাখ শোকার্ত মানুষের ঢল নেমেছিল। এতে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন।

এমন অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোলাইমানির দাফন স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে ইউএসএ টুডে।

মঙ্গলবার ইরানের দক্ষিণ পূর্বের শহর কেরমানে সোলাইমানির দেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সেখানে শামিল হতে যোগ দেন হাজার হাজার মানুষ। ফলে সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলার। সেখান থেকে হঠাৎ হুরোহুরি শুরু হলে ঘটে এই বিপত্তি।

দেশটির জাতীয় জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান কুলিবান্দ জানান, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে শেষ শ্রদ্ধা ও দাফন অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে ঘরে ফেরার অনুরোধ করা হয়েছে। এর আগে সোমবার তেহরানে সোলাইমানির শেষ যাত্রায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। ইরান দাবি করে তাতে অংশ নিয়েছিলেন দশ লক্ষের বেশি মানুষ। তবে এ সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত হওয়ার চার দিন পর মঙ্গলবার বিকালে সুলাইমানির নিজ শহর কারমানে তার দাফন শুরু হয়। নিহত জেনারেল কাসেম সোলাইমানির শোক মিছিলে পদদলিত হয়ে তার নিজশহর কারমানে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে দাফনে নেয়ার সময় এমন ঘনটা ঘটে। এতে তার দাফনে বিরতি দেয়া হয়।

এদিকে এএফপি জানিয়েছে, জেনারেল কাসেমির শোক মিছিলে কেরমানে পদদলিত হয়ে ৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছন। এছাড়া ২১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, শোকার্ত লোকজন অবসন্ন হয়ে ফ্লোরে পড়ে আছেন। অন্যরা তাদের বুকে ঘষামাজা করছেন। মাটিতে পড়ে থাকা কারো কারো মুখ জ্যাকেট ও কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখা গেছে।

এর আগে শুক্রবার ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরে রকেট হামলা চালিয়ে ইরানের আল-কুদস ফোর্সের প্রধান ও বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরানের মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল মুহানদিসকে হত্যা করা হয়।

শোকমিছিলের পদদলিত হয়ে এই হতাহতের আগে বিপ্লবী গার্ডসের কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসাইন সালামি বলেন, শহীদ সোলাইমানি ছিলেন খুব ক্ষমতাবান। এখন তিনি মৃত। শত্রুরা অন্যায়ভাবে তাকে হত্যা করেছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই সোলাইমানির নিজ শহরে হাজার হাজার শোকার্ত মানুষকে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে। এছাড়া তেহরান, কুয়াম, মাশহাদ ও আহভাজ শহরেও মানুষের ঢল নেমেছে।

এর আগে সোমাবার তার জানাজা উপলক্ষে রাজধানী তেহরানের সড়কগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুক্রবার ভোরে বাগদাদে ড্রোন হামলা চালিয়ে সোলাইমানিকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী।

রোববার সোলেমানির লাশ ইরাক থেকে ইরানে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার ইরানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের জুমার নামাজ চত্বরে তার জানাজা হয়।

ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, এখানে সোলেমানিসহ তার সাথে নিহত সবার জানাজা হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জানাজায় ইমামতি করেন, এর এক পর্যায়ে তাকে কাঁদতে দেখা গেছে।

জানাজায় যোগ দিতে তেহরানে ব্যাপক লোক সমাগম হয়েছিল। তাদের অনেককেই কাঁদতে দেখা গেছে। কেউ কেউ নিহত কমান্ডারের ছবি নিয়ে জানাজায় যোগ দিতে এসেছিলেন।

গত শতকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় থেকে যুদ্ধের ময়দানে থাকা সোলাইমানিকে জাতীয় বীর হিসেবে দেখে ইরানিরা। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা খামেনির পর তিনিই ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাবান লোক ছিলেন বলে ধারণা করা হয়।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026