শীর্ষবিন্দু আর্ন্তজাতিক নিউজ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাস্ট্রীয় সফরে যাবেন ভারতে। এতে অবশ্য ভারত সরকার বেজায় খুশি কিন্তু বাধ বেধেছে গরিব মানুষদের চেহারা, হতদরিদ্র দশা যাতে বিদেশি অতিথির চোখে না পড়ে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সফরের অংশ হিসেবে আহমেদাবাদ যাওয়ার কথা রয়েছে। তাই ভারত সরকার অনেক ব্যতিব্যস্থ, তাঁর চোখে যাতে গরিব বস্তি না পড়ে তার জন্য তুলে দেওয়া হচ্ছে ছয় ফুট লম্বা দেওয়াল৷
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন সফর উপলক্ষে গরিবি ঢাকার প্রায় সেরকমই চেষ্টা চলছে আহমেদাবাদে৷ সেখানে অবশ্য কাউকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়নি। শুধু মোদী–ট্রাম্প যে রাস্তায় রোড শো করবেন, সেখানে গরিবি ঢাকতে রাস্তার পাশে আধ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছয় ফুট লম্বা দেওয়াল বানানো হচ্ছে৷
আর তা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক৷ প্রশ্ন উঠেছে, এ ভাবে কি গরিবি ঢাকা যায়? গরিবি যদি বাস্তবতা হয় তা হলে কি ঢাকা উচিত? আজকাল কোন তথ্য আর কার কাছে অজানা থাকে?
আহমেদাবাদ প্রশাসনের যুক্তি, তাঁরা কোনও কিছু লুকোচ্ছে না, ঢাকছে না, দেওয়াল তৈরির সিদ্ধান্ত অনেক আগে নেওয়া হয়েছে, তখন ট্রাম্পের সফর চূড়ান্ত হয়নি৷ আহমেদাবাদ পুরসভার কমিশনার বিজয় নেহরার দাবি, সরকারি জমি যাতে বেদখল না হয়, তার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ এর সঙ্গে ট্রাম্পের সফরের কোনও সম্পর্ক নেই৷ আমি কিছুদিন আগে ওই এলাকা পরিদর্শন করি৷
তখন বস্তিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে দেওয়াল বানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ জমি দখল আটকাতে ও গাছ বাঁচাতে এটা জরুরি ছিল৷ বিমানবন্দর থেকে সর্দার বল্লভভাই স্টেডিয়াম পর্যন্ত রাস্তায় রোড শোর দিন কুকুর, বেড়াল বা অন্য পশু যাতে না আসে, সেটাও নিশ্চিত করবে পুরসভা৷
এই স্টেডিয়ামেই হবে, কেম ছো ট্রাম্প (কেমন আছেন ট্রাম্প) অনুষ্ঠান৷ আমেরিকায় হাউডি মোদীর অনুকরণে এই অনুষ্ঠান হবে৷ ট্রাম্পের ভারত সফরের ঘোষণা করে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, লক্ষ লক্ষ লোক থাকবেন রাস্তার ধারে। পুরো রোড শো তে ৫০ থেকে ৭০ লক্ষ লোক হতে পারে৷
আর তার জন্য সৌন্দর্যায়নের ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে পুরসভা৷ বড় বড় সুদৃশ্য গাছ লাগানো হচ্ছে। এমনকী, মেট্রো রেলের অসমাপ্ত পিলার বা অন্য জায়গায় সুন্দর করে রঙ দেওয়া হচ্ছে৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, দেওয়ালও বানানো হচ্ছে ওই লক্ষ্যেই।
আহমেদাবাদে প্রায় চল্লিশ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছেন রথীন দাস৷ তিনিও ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ”বিদেশি প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টদের সফরের সময় তো বটেই, ভাইব্রেন্ট গুজরাট অনুষ্ঠান হলেই গরিব এলাকা ঢাকতে রঙিন কাপড় লাগানো হয়৷ এ বারের নতুনত্ব, দেওয়াল৷ একেবারে পাকাপাকি বন্দোবস্ত৷ কিন্তু এ ভাবে কি গরিবি ঢাকা যায়?
বিশেষ করে সামাজিক মিডিয়ার রমরমার দিনে? যায় না৷ আর যেটা বাস্তব, সেটা ঢাকার চেষ্টা করেই বা লাভ কি? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কথায় কথায় নরেন্দ্র মোদী ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কথা বলেন, সামাজিক উন্নয়নের কথা বলেন। অথচ তাঁর গুজরাটে গরিবির চেহারা দেওয়াল দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। এর চেয়ে নির্মম বিষয় আর কিছু হতে পারে না।
আহমেদাবাদের বাস করেন এমন একজন মানবাধিকার কর্মী বলেন, গুজরাটে এটা নতুন কিছু নয়। এর আগে শি জিনপিং যখন এসেছিলেন, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী যখন এসেছিলেন, তখনও গরিবি ঢাকতে বড় বড় সুদৃশ্য রঙিন কাপড় লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷
এ বার আরও এক ধাপ এগিয়ে একবারে দেওয়ালই তুলে দেওয়া হচ্ছে৷ মেক্সিকো সীমান্তে ট্রাম্প দেওয়াল তোলার আগে নরেন্দ্র মোদীর গুজরাটে দেওয়াল উঠে গেল৷ এ ভাবে গরিবি ঢাকার চেষ্টা নিয়ে কোনও আলোড়ন ওঠে না?
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা এফএও-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে অন্তত ৮২ কোটি মানুষ রাতে না খেয়েই ঘুমাতে যায়৷