মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫২

সৌদির টার্গেট: কে এই আব্দুলাজিজ?

সৌদির টার্গেট: কে এই আব্দুলাজিজ?

শীর্ষবিন্দু আর্ন্তজাতিক নিউজ: তুরস্কে অবস্থিত সৌদি কনসূলে নির্মমভাবে সাংবাদিক জামাল খাশগজিকে হত্যা করে সৌদি থেকে যাওয়া যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কর্তৃক প্রেরিত বিশেষ ইন্টেলিজেন্ট বাহিনীর সদস্যরা।

এবার সৌদি আরবের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছেন তার বন্ধু ওমর আব্দুলাজিজ৷ সৌদি রাজপরিবারের সমালোচক এখন কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন৷ দেশটির পুলিশ তাকে সম্ভাব্য হুমকির ব্যাপারে সতর্ক করেছে৷ ওমর আব্দুলাজিজ জানেন যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না৷ এ কারণেই অনেক বছর ধরেই কানাডায় আশ্রয়ে আছেন তিনি৷

এখন তিনি বলছেন, রয়্যাল ক্যানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ তার বিরুদ্ধেও হামলা হতে পারে বলে তথ্য পেয়েছে৷ সে হুমকির উৎপত্তি সৌদি আরব বলেও জানিয়েছে পুলিশ৷ আব্দুলাজিজ গার্ডিয়ান পত্রিকা এবং নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক ভিডিওতে এমন তথ্য জানিয়েছেন৷

টুইটে শেয়ার করা ভিডিওতে তিনি বলেন, মোহাম্মদ বিন সালমান ও তার লোকজন আমার ক্ষতি করতে চায়৷ তারা আমাকে হত্যা করতে চায় নাকি অপহরণ, তা জানি না৷ এবারই প্রথম ক্যানাডিয়ান পুলিশ তার সঙ্গে যোগাযোগ করলো বলে জানান ওমর আব্দুলাজিজ৷ তার আইনজীবী আলা মহাজন গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, এই হুমকির তথ্য খুবই নির্ভরযোগ্য৷

কাওয়াকিবি ফাউন্ডেশনের প্রধান এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকর্মী ইয়াদ আল-বাগদাদী জানান, তারা আরো আগে থেকেই এমন হুমকির আশঙ্কা করছিলেন৷ তিনি বলেন, আমরা জানি, অনেকদিন ধরেই তাকে টার্গেট করে রেখেছেন এমবিএস (মোহাম্মদ বিন সালমান)৷

আল-বাগদাদীও এমবিএসের অধীনে সৌদি নীতির কট্টর সমালোচক৷ তিনি এখন নরওয়েতে বাস করেন এবং ২০১৯ সালে তাকেও সৌদি আরব থেকে হুমকি পাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল৷ আল-বাগদাদীর সঙ্গে কখনও আব্দুলাজিজের দেখা না হলেও দুজনই লেখালেখি ও একই ধরনের নীতির পক্ষে কথা বলেন৷ ২০১৮ সালে তুরস্কে সৌদি দূতাবাসে খুন হওয়া সাংবাদিক খাশগজির বন্ধু ছিলেন এরা দুজনই৷

২০১৭-১৮ সালে আব্দুলাজিজের সঙ্গে খাশগজির নিয়মিত যোগাযোগ হতো৷ শ্টাইনবার্গ জানান, জামাল খাশগজি যখন ওয়াশিংটন ডিসিতে ছিলেন তখন তিনি আব্দুলাজিজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন৷ তারা একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারেও পরিকল্পনা করেছিলেন৷ ফলে খাশগজি যখন টার্গেট হলেন, সৌদ আরব বুঝতে পারলো আব্দুলাজিজও তাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারেন৷

২০১৮ সালে আব্দুলাজিজ টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটিজেন ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন যে তার ফোন সৌদি আরব থেকে হ্যাক করা হয়েছিল৷ এবং এই হ্যাকের পরই সৌদি আরবে অবস্থানরত তার পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে দাবি আব্দুলাজিজের৷

টুইটারের ভিডিওতে আব্দুলাজিজ বলেন, সমালোচনার কারণে তারা আমাকে আঘাত করতে চায়৷ কিন্তু এর সঙ্গে আমার পরিবারের সম্পর্ক কী? আমার বাবা-মা ও ভাইবোনদের কেন আমার সঙ্গে যোগাযোগ ও ভ্রমণ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না?

নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও একসঙ্গে কাজের পরিকল্পনার ফলেই তাকে ও খাশগজিকে টার্গেট করা হয়েছে বলে দাবি আব্দুলাজিজের৷ ২০১৯ সালের নভেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদকীয়তে এমনটাই দাবি করেছিলেন তিনি৷

তিনি লিখেছিলেন, পুরোটাই একটি সমন্বিত ও পরিকল্পিত হয়রানি৷ সৌদি আরব ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসও এর বিক্রি করা যন্ত্র দিয়ে আমার ও জামালের মধ্যে চালাচালি করা বার্তা পড়েছে৷ আমি আর জামাল টুইটারে সৌদ ট্রলকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছিলাম৷ আমরা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলতে চাচ্ছিলাম৷

আব্দুলাজিজের পাঁচ লাখের মতো ফলোয়ার রয়েছেন টুইটারে৷ নিজের আর্টিকেলে তিনি নিজেকে সৌদি আরবের শীর্ষ তিন টুইটার ইনফ্লুয়েন্সারের মধ্যে জায়গা দিয়েছেন৷ এর মধ্যে তিনি আছেন নির্বাসনে, দ্বিতীয় জনকে আটক করা হয়েছে, তৃতীয় জন নিখোঁজ রয়েছেন৷

আব্দুলাজিজের মতে, ২০১৭ সালে মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজ হওয়ার পর দেশটিতে টুইটারও পালটে গেছে৷ ওমর আব্দুলাজিজের মতে, এর আগে মানুষ টুইটারে পোস্ট করে নিজেদের মত জানাতে পারতো, সমালোচনা করতে পারতো৷

ওমর আব্দুলাজিজকে কয়েক বছর আগে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া হয়৷ জার্মানির ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স এর গুইডো শ্টাইনবার্গ মনে করেন, তার (ওমর আব্দুলাজিজ) অবস্থান খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ এরই মধ্যে সৌদি সরকারের বিরোধিতাকারী সবাইকে চুপ করিয়ে দেয়া হয়েছে৷ তাদের বেশিরভাগই হয় কারাগারে, অথবা অন্য কোনোভাবে তাদেরকে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়েছে৷ কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকায় আব্দুলাজিজের গুরুত্ব আরো বেড়েছে বলেও মনে করেন তিনি৷




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026