আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘সূরা আল মাউন’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
সূরা আল মাউন মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ১০৭ তম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৭ টি। এ সূরায় কাফের ও মুনাফেকদের কতিপয় দুষ্কর্ম উল্লেখ করে তজ্জন্য জাহান্নামের শাস্তি বর্ণনা করা হয়েছে।
এ সূরায় এমন সব নামাযীদেরকে ধ্বংসের বার্তা শুনানো হয়েছে যারা নিজেদের নামাযে গাফলতি করে এবং লোক দেখানো নামায পড়ে।
নামকরণ
সূরা মাউন এর সর্বশেষ আয়াতে উল্লেখিত শব্দ থেকে এই সূরাটির নামকরণ করা হয়েছে।
বিষয়বস্ত
সূরা মাউনে দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রথমত, বিচার দিবসে অস্বীকারকারী ব্যক্তির বৈশিষ্ট সম্পর্কে। দ্বিতীয়ত, নামাজে উদাসীন ব্যাক্তি সম্পর্কে।
নাযিলের সময়
এ সূরাটি মাক্কী না মাদানী যুগের, সে বিষয়ে বিস্তর মতভেদ আছে। তবে সূরাটির মধ্যে এমন প্রমাণ রয়েছে, যার দরুন এ সূরাকে মাদানী বলে স্বীকার না করে উপায় নেই।
সূরার ৪-৬ আয়াতে যাদের দিকে ইশারা করা হয়েছে, তারা ঐ শ্রেণীর মুনাফিক, যাদের অস্তিত্ব মাক্কায় ছিল না। মাদীনার বিজয় যুগেই লোক দেখানো নামাযীদের সন্ধান মেলে। এরা আসলে মুসলিম ছিল না। এরা মুসলিম সেজে মুসলিম সমাজে ঢুকে ইসলামের দুশমনী করতো।
কিন্তু নামাযের জামায়াতে যারা হাযির হয় না, তাদেরকে মুসলিম হিসাবে গণ্যই করা হতো না বলে বেচারাদেরকে নামাযী সাজতে হতো। এ জাতীয় মুনাফিক মক্কার সংগ্রাম যুগে ছিল না।
সে সময় তো খাঁটি মুসলমানদের পক্ষেও প্রকাশ্যে নামায পড়া কঠিন ছিল। মাক্কী যুগের মুনাফিকদের পরিচয় সূরা আনকাবুতের পয়লা রুকুতে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই সূরা মাঊন নিঃসন্দেহে মাদানী।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
১। অর্থাৎ এরা ইয়াতীমকে সাহায্য করা দূরের কথা, ভদ্রতার সাথেও বিদায় করে না, বরং গলাধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। আর এদের মালে যে মিসকীনদের হক আছে, সে কথাও তারা স্বীকার করে না।
২। এর অর্থ নামাযে ভুল করা নয়। নামাযে অবহেলা করা মানে, নামাযকে গুরুত্ব না দেয়া। কখনো পড়ে, কখনো পড়ে না, পড়লেও সময় মতো পড়ে না, নামাযে এমন ভাবে যায় যেন এতে কোন আগ্রহ নেই, দায়ে ঠেকে যেন যায়, নামায পড়া অবস্থায় কাপড় নিয়ে খেলে, বার বার হাই তোলে, নামায পড়ছে অথচ মন সেদিকে নেই, এত তাড়াহুড়া করে পড়ে যে, রুকু -সাজদা ঠিকমত হয় না, ইত্যাদি।
খেয়াল রাখা দরকার যে, মিসকীনকে খাবার দেবার কথা বলা হয় নি। মিসকীনের খাবার বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো যে সচ্ছল লোকদের নিকট মিসকীনদের খাবার আছে। যখন মিসকীনকে খাবার দেয়া হয়, তখন তার নিজের খাবারটুকুই সে পায়। এ খাবার দাতার দয়া নয়-মিসকীনের হক।
‘মাঊন’ মানে সাধারণ ব্যবহারযোগ্য এমন সব দৈনন্দিন জরুরী জিনিস, যা প্রতিবেশীরা একে অপর থেকে ধার নেয় এবং কাজ শেষে ফেরত দেয়। এ সব জিনিস ধনী-গরীব সবাই ধার চাইতে লজ্জা করে না।
এ ধরনের জিনিস দেয়া-নেয়া সাধারণভাবে প্রচলিত এবং কেউ চাইলে না দেয়াটা খুব ছোটলোকের স্বভাব বলে মনে করা হয়। যেমন বই-কলম, বাসন-পেয়ালা, দা-কোদাল-কুড়াল-খন্তা, বিছানা-বালিশ, ডেক-ডেকচি, বালতি ইত্যাদি।

Leave a Reply