আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘সূরা আল কাফিরুন’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
সূরা আল-কাফিরুন পবিত্র কোরআন শরীফের ১০৯ তম সূরা। এই সূরার আয়াত সংখ্যা ৬টি, রুকু আছে ১টি। সূরা আল-কাফিরুন পবিত্র মক্কায় অবতীর্ণ হয়।
এই সূরা পবিত্র কোরআন শরীফের ৩০ নম্বর পারায় আছে। সূরা আল-কাফিরুনের পূর্ববর্তী সূরা হচ্ছে সূরা আল কাওসার, আর পরবর্তী সূরা হচ্ছে সূরা নাসর।
পবিত্র কোরআনের ১০৯ নম্বর সুরা হলো কাফিরুন। মক্কায় নাজিল হওয়া এই সুরাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ সুরায় তাওহিদের শিক্ষা এবং মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই সুরায় কাফিরদের লোভনীয় প্রস্তাব এবং তাদের ভ্রান্ত মতবাদ বাতিল ঘোষণা করা হয়। (তাফসিরে জালালাইন আরবি-বাংলা: ৭/৫৯৬)
প্রতিদিন সুরা কাফিরুন পাঠ:
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সুরা কাফিরুন খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি সুন্নত নামাজে এটি পড়তেন। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ শেষ করার পরের নামাজেও তিনি এটা পড়তেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের সুন্নত নামাজে সুরা কাফিরুন ও সুরা ইখলাস পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৬৩, আবু দাউদ, হাদিস: ১২৪৬)
ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের সুন্নত দুই রাকাতে এবং মাগরিবের সুন্নত দুই রাকাতে সুরা কাফিরুন ও সুরা ইখলাস পাঠ করতেন। (মুসনাদে আহমাদ: ২/২৪)
সুরা কাফিরুনের ফজিলত:
সুরা কাফিরুন ছোট্ট একটি সুরা। মাত্র ছয়টি আয়াত। পড়তে এক মিনিট লাগে না। অথচ পাঠ করার সওয়াব অনেক বেশি। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইজা জুলজিলাত সুরা যে ব্যক্তি পাঠ করবে, অর্ধেক কোরআনের সমান তার সওয়াব হবে।
ক্বুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন যে ব্যক্তি পাঠ করবে, তার কোরআনের এক-চতুর্থাংশ পাঠের সমান সওয়াব হবে। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৯৩)

Leave a Reply