যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) আগের প্রান্তিকের তুলনায় কমেছে। দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (ওএনএস) জানায়, এপ্রিল-জুন সময়ে যুক্তরাজ্যের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়েছে ০.৪ শতাংশ। এর আগের তিন মাস অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ সময়ে অর্থনীতি ০.৬ শতাংশ বেড়েছিল।
জুনের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেন। প্রায় এক মাস পর তার স্থলাভিষিক্ত হন অ্যান্ডি বার্নহাম। এর মধ্যে জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিকে পেছনে ফেলে ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে এগিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের পর দেশটির নতুন অর্থমন্ত্রী জন হিলি বলেন, বার্নহামের নেতৃত্বে লেবার সরকার ‘সক্রিয়ভাবে কাজ করছে’ এবং ব্রিটিশ স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপে থাকা মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া, দেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করা এবং মানুষের মধ্যে আশাবাদ ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
এদিকে মূল্যস্ফীতি আগে থেকেই ব্রিটিশ অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছিল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশটির কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে।
জন হিলি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন। দীর্ঘদিন ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি থাকার পাশাপাশি এই সংঘাত ব্রিটিশ ব্যবসাগুলোর ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।
ওএনএস-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের সেবা খাতের উৎপাদন ০.৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে নির্মাণ খাতও সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় স্থবির।
অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিভাগের পরিচালক লিজ ম্যাককিওন বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পর বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। তবে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি এখনও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে।
তিনি বলেন, সেবা খাতই আবারও যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
Leave a Reply