শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ভারতের গান্ধী পরিবারের তরুণ সদস্য রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের ওপর দলের আশা-আকাঙ্ক্ষার শেষ নেই। কিন্তু কংগ্রেসের এই প্রিয় যুবরাজ দলকে জয় এনে দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে। ১৭ এপ্রিল বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এমন আভাস দেওয়া হয়।
দলের প্রধান সোনিয়া গান্ধীর অসুস্থতার কারণে গত বছর রাহুলকে কংগ্রেসের সহসভাপতির পদ দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে ক্ষমতা মা থেকে ছেলের দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। চলমান লোকসভা নির্বাচনকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের জন্য এক বিরাট পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরীক্ষায় রাহুল কি উত্তীর্ণ হতে পারবেন?
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন রাহুল। পারিবারিক আসন আমেথি থেকে নির্বিঘ্নে পর পর দুবার লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এবার তৃতীয়বারের মতো জয় প্রত্যাশী রাহুল। তবে এবারের লড়াইটা সহজ হবে না। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থী টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্মৃতি ইরানি এবং আম আদমি পার্টির (এএপি) কবি কুমার বিশ্বাস।
প্রতিপক্ষ বলছে, আমেথির উন্নয়নে কাজ করেননি রাহুল। তাই পরিবর্তন দরকার। সেখানকার ভোটাররাও নানা সমস্যার কথা বলছেন।
উন্নয়ন নিয়ে আমেথির মানুষের মধ্যে হতাশা থাকলেও গান্ধী পরিবারের প্রতি তাঁদের দুর্বলতা আছে। এই দুর্বলতা থেকেই গত দুই দফায় রাহুলকে জয়ী করেছেন তারা। এবারও হয়তো তাঁরা তাঁকে জয়ী করবেন। কারণ আমেথির অধিবাসীদের মতে, রাহুলের পরাজয় মানে তাঁদেরই পরাজয়। কিন্তু সারা দেশ আমেথি নয়। আমেথির বাইরের মানুষ কংগ্রেস বা রুহুলে মগ্ন নয়।
দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা, ফেঁপে ওঠা মুদ্রাস্ফীতি—এসব প্রতিকূলতায় ধরেছে মনমোহন সিংয়ের সরকারকে। এখন পর্যন্ত যত জনমত জরিপ হয়েছে, সব কয়টায় বিজেপি এগিয়ে। বরং এসব জনমত জরিপের ফলাফলে কংগ্রেসের ভরাডুবির জোরালো আভাস মিলছে। দল ও দলের বাইরে রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ আছে। অনেকে বলছেন, এখনো নেতা হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। দেশের মানুষের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাঁর যোগাযোগ দক্ষতা দুর্বল। এমনকি দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রও ব্যর্থ তিনি। অর্থনীতি সম্পর্কে তাঁর ধারণা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
হিন্দু পত্রিকার স্মিতা গুপ্তের মতে, পুরো ভারত আমেথি নয়। এই মুহূর্তে অনেকেই কংগ্রেস বা রাহুলের ওপর আস্থা রাখতে ইচ্ছুক নন। এই নির্বাচনে পরাজয়ের ব্যাপারে কংগ্রেসও মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রশিদ কিদোয়াইয়ের মতে, রাহুলের জন্য চমক দেখানোর নির্বাচন এটা নয়। দেশটির মন্ত্রিসভায় থাকা সদস্যদের গড় বয়স ৬৫। রাহুলের বয়স মাত্র ৪৩। তিনি এখনো ৬০-এর নিচে। ২০১৯ বা ২০২৪ কিংবা ২০২৯ সালের নির্বাচনে চমক দেখাতে পারেন তিনি।