বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭

চিরতরে ধূমপান নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য

চিরতরে ধূমপান নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যকে একটি ধূমপানমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পার্লামেন্টে পাস হয়েছে ঐতিহাসিক ‘টোব্যাকো অ্যান্ড ভ্যাপস বিল’।

যুগান্তকারী এই আইনের ফলে ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারির পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে তামাকজাত পণ্য বিক্রি করা আজীবন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অর্থাৎ বর্তমানের ১৭ বছর বা তার কম বয়সী কিশোর-কিশোরীরা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বা সারাজীবনে কখনোই বৈধভাবে সিগারেট কিনতে পারবে না।

হাউস অব কমন্স এবং হাউস অব লর্ডস উভয় কক্ষেই বিলটির চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদিত হওয়ার পর এটি এখন রাজকীয় সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে।

এই আইন কার্যকর হলে ব্রিটিশ মন্ত্রীরা তামাক ও ভ্যাপিং পণ্যের স্বাদ (ফ্লেভার) এবং মোড়ক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপক ক্ষমতা পাবেন।

মূলত ধূমপানজনিত কারণে মৃত্যু এবং পঙ্গুত্ব রোধে সরকারের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই আইনের আওতায় জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় আরও কিছু বিধিনিষেধ যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে স্কুল প্রাঙ্গণ, খেলার মাঠ এবং হাসপাতালের সামনে ভ্যাপিং করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এছাড়া শিশু বহনকারী গাড়ির ভেতরেও ভ্যাপ ব্যবহার করা যাবে না। তবে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ধূমপান ছাড়তে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত কিছু স্থানে ভ্যাপিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে বাড়ির ভেতরে ধূমপান বা ভ্যাপিং এবং পাব গার্ডেন ও সমুদ্র সৈকতের মতো উন্মুক্ত স্থানে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।

ব্রিটিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এই বিলটিকে দেশের জনস্বাস্থ্যের ইতিহাসে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, প্রতিরোধ নিরাময়ের চেয়ে উত্তম। এই সংস্কার হাজার হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচাবে, এনএইচএস (জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা) এর ওপর চাপ কমাবে এবং একটি সুস্থ ব্রিটেন গড়ে তুলবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারনেস মেরন লর্ডস সভায় আশ্বস্ত করেছেন যে এটি এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যবিষয়ক হস্তক্ষেপ যা অসংখ্য জীবন রক্ষা করবে।

তবে এই বিল নিয়ে তামাক শিল্প এবং খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে।

সাবেক কনজারভেটিভ এমপি লর্ড ন্যাসবি সতর্ক করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত খুচরা বিক্রেতাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি কেবল নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ধূমপান না করার বিষয়ে যথাযথ জনশিক্ষা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জবাবে ব্যারনেস মেরন জানান, সরকার খুচরা বিক্রেতাদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

অ্যাজমা প্লাস লাং ইউকে-র প্রধান নির্বাহী সারাহ স্লীট এই বিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে তামাক শিল্পকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হলো।

তবে তিনি বর্তমান ধূমপায়ীদের এই অভ্যাস ত্যাগ করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি প্রস্তাব করেন, তামাক কোম্পানিগুলোর ওপর বিশেষ শুল্ক আরোপ করে সেই অর্থ দিয়েই যেন দেশজুড়ে ধূমপান বর্জন কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026