শীর্ষবিন্দু নিউজ:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জুয়েল নামের এক যুবক খুনের ঘটনার সাত মাস পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জুয়েল হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্পৃক্ত রয়েছেন সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের ‘বান্ধবী’ নারী কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা, যাকে সোমবার সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জুয়েল হত্যাকাণ্ডের পর নীলার নাম উঠে আসলেও সে সময়ে পুলিশ এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত একজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তদন্ত করা পুলিশের একজন এসআইকে সে সময়ের এসপি ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও বদলি করে দেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সেভেন মার্ডারের ঘটনায় দায়ের করা দু’টি মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে গডফাদার হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সাবেক এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়ালসহ অনেকেই। রোববার এ দুইজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত সাত সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। তাছাড়া গত বছরের ১১ নভেম্বর নূর হোসেনের ছেলে বিপ্লব হোসেনকে মারধরের পর তিনি মারা গেলে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়। সেটাই প্রতিষ্ঠিত করার পেছনেও এসপি নুরুল ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। কারণ, গত বছরের ১১ নভেম্বর রাত ১১টা থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত এসপি ছিলেন নূর হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসাতে। কবরস্থানে আত্মহত্যার লাশ দাফনে নিয়ম না থাকলেও এসপির নির্দেশে ওই সময়ের ওসি আবদুল মতিন কবরস্থানের মোতয়াল্লিসহ অন্যদের হুমকি দিয়ে জোর করে লাশ দাফন করান।
জানা গেছে, গত বছরের ২৬ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জের আইউবনগর আজিবপুর এলাকা থেকে জুয়েল নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরদিন থানার এসআই জিন্নাহ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করেন থানার ওই সময়কার এসআই নজরুল ইসলাম। মামলার পরেই কাউন্সিলর নীলার সম্পৃক্ততার কথা উঠে আসলেও নূর হোসেনের দাপট আর অর্থের জোরে পুলিশ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর মধ্যে সোহাগ ও মনা নামের দুইজনকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুইজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন। গত ২৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মনা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে মনা স্বীকার করেন, ইয়াবা ও হেরোইন ব্যবসার চালানোর ৭০ লাখ টাকা লেনদেনে ঝামেলা করার কারণে কাউন্সিলর নীলার সঙ্গে ১ লাখ টাকা চুক্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জের আইউবনগর আজিবপুর এলাকায় খুন করা হয় জুয়েলকে। মনা আদালতকে জানান, কাউন্সিলর নীলার সঙ্গে ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসার ৭০ লাখ টাকা নিয়ে জুয়েলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে কাউন্সিলর নীলার সঙ্গে ১ লাখ টাকা চুক্তি করেন মনা, সোহাগ ও সোহেল। এসময় নীলার মামাতো ভাই শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন। আর জুয়েলকে জবাই করা হয়েছিল অহিদ কসাইয়ের গোয়ালঘরে। ওই ঘরের ১০ হাত দূর থেকে জুয়েলের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মনার স্বীকারোক্তির পর নীলার নাম উঠে আসায় এসআই ফজলুল হককে ওই সময়ের এসপি নুরুল ইসলাম ডেকে নিয়ে প্রচুর গালমন্দ করেন। এর পরদনিই ৩০ এপ্রিল ফজলুল হককে কিশোরগঞ্জের ইটনা থানায় বদলি করা হয়। এ ব্যাপারে মামলার সাবেক তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের এসআই নজরুল জানান, মনার জবানবন্দি গ্রহণের একদিন পরে ৩০ এপ্রিল তাকে প্রথমে আড়াইহাজার ও পরে কিশোরগঞ্জের ইটনা থানায় বদলি করা হয়েছিল। ওই সময় পুলিশের এক বড় কর্মকর্তা তাকে ডেকে নিয়ে গালমন্দ করেছিলেন। কারণ, কাউন্সিলর নীলা ছিলেন নূর হোসেনের কথিত স্ত্রী।