বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১০

জর্ডান থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন খুলনার রেশমা

জর্ডান থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন খুলনার রেশমা

নিউজ ডেস্ক: স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে দালালদের লোভনীয় ফাঁদে পড়ে জর্ডানে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরছেন খুলনার রূপসা উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের গৃহবধূ রেশমা বেগম (৩৫)। তার মৃত্যুতে সাত বছরের ছেলে আবীর ও চার বছরের শিশুপুত্র আমীরকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বামী দেলোয়ার হোসেন দিলু। গত শনিবার ভোরে রেশমার লাশ দেশে আসার কথা।

রেশমার স্বামী রিকশাচালক দেলোয়ার হোসেন দিলু জানান, নন্দনপুর গ্রামের দুই দালালকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল রেশমা জর্ডানে গিয়েছিলেন। ৩ জুন দেশে ফিরে আসার জন্য মোবাইল ফোনে কল করে কান্নাকাটি করেন। এরপর ৮ জুন জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জানানো হয় রেশমা বেগমের লাশ পাওয়া গেছে। শনিবার লাশটি দেশে আসছে। নিহতের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের ডায়াল কলের সর্বশেষ নম্বরটিতে ফোন করে দূতাবাস।

দেলোয়ার বলেন, ৩ জুন রেশমার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। পরে রেশমার মোবাইলও বন্ধ পেয়েছি। রেশমা ফোন করে বলেছিল ‘আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। আমি আর পারছি না। না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ গতকাল শুক্রবার সকালে দেলোয়ারের ছোট ভাই কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ফোন করে জানানো হয়, শনিবার ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দরে ভাবির (রেশমা) লাশ আসবে।

তিনি আরও বলেন, নিহতের খবর পাওয়ার পর দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ঘটনাটি কোথাও না জানাতে বলে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। দেলোয়ার হোসেন ও কামাল হোসেন জানান, তাদের প্রতিবেশী নন্দনপুর গ্রামের ফজলে হওলাদারের স্ত্রী নাসিমা বেগমের জামাই ফুলতলার জাকারিয়া বিদেশে লোক পাঠায়। নাসিমা বেগম প্রায়ই বাড়িতে এসে রেশমাকে বিদেশে যাওয়ার জন্য বলত এবং নানা প্রলোভন দেখাত। একপর্যায়ে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে জর্ডানে যাওয়ার ব্যাপারে কথা হয় তাদের। স্বামীকে না জানিয়ে তার পাসপোর্ট ও ভিসা করেন রেশমার বাবা-মা। দেলোয়ার হোসেন স্ত্রী রেশমার বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে রাজি ছিলেন না।

দালাল চক্রের সদস্য ফুলতলার বাসিন্দা মো. জাকারিয়া এবং মূল হোতা ঢাকার মো. সোহেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেনি। রেশমা ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর বর্ণি গ্রামের মো. শাহজাহান বাওয়ালির মেয়ে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে খুলনার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান এবং রূপসা থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন সমকালকে বলেন, রেশমার মৃত্যু কিংবা তার লাশ দেশে আসার প্রক্রিয়ার বিষয়টি তাদের জানা নেই। এ ছাড়া এ বিষয়ে কেউ থানায় কোনো অভিযোগও করেনি।

খুলনার জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তাদের মৌখিক বা লিখিতভাবে কোনো কিছু জানানো হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা পেলে কিংবা নিহতের পরিবার কোনো সহযোগিতা চাইলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026