শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: আগামী ২৭শে নভেম্বর রোববার কারী ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে জমজমাট আসর বিসিএ‘র বাষির্ক এওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার হাউজ অব কমন্সের একটি কমিটি রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিসিএ এওয়ার্ড অনুষ্ঠানের প্রেস লাঞ্চিং।
কারী ক্যালেন্ডারের গুরুত্বপূর্ন এই দিনে প্রতিবছর যোগ দেন, বৃটেনের বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব, সেলিব্রেটি, রাজনীতিবিদ, মিডিয়া প্রতিনিধিরা এবং কারী শিল্পের সফল ব্যক্তিবর্গ। এবারো যোগ দিবেন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। কারী শিল্পের সবচেয়ে পুরনো ও প্রচীণ সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন বিসিএ প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৬০ সালে। বর্তমানে এই সংগঠনটি প্রতিনিধিত্ব করছে বৃটেনের ১২ হাজার রেস্টুরেন্ট এবং টেইকওয়ে প্রতিষ্ঠান।
চলতি বছর পুরো অনুষ্ঠান যৌথভাবে সঞ্চলনায় থাকবেন আইরীশ কুকিং কুইন খ্যাত র্যাচেল এ্যালিন এবং সেলিব্রেটি টিভি ব্যক্তিত্ব এবং রাইটার রাজ গাই। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ, সেলিব্রেটি, রাজনীতিবিদ, মিডিয়া প্রতিনিধি এবং কারী শিল্পের সফল ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।
সেন্ট্রাল লন্ডনের অভিজাত পার্ক প্লাজা হোটেলে উদযাপন করা হবে চলতি বছর এগারোতম এওয়ার্ড অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের হোস্ট ওয়ার্ক এন্ড পেনশন সেক্রেটারী রিচার্ড হ্যারিংটন এমপির সভাপতিত্বে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিএ প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার। চ্যানেল এস‘র জনপ্রিয় প্রেজেন্টার ফারহান মাসুদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সহকারী প্রেস এন্ড পাবলিকেশনস সেক্রেটারী ফিরোজুল হক।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রতিবারের ন্যয় এবারো জমকালো আয়োজনে বছরের সেরা কারী হিরোদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বিসিএ এওয়ার্ড। অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হবে গর্বের কারী শিল্পের নানা সম্ভাবনার চিত্র। এবারও যথারিতি তিনটি ক্যাটাগরিতে প্রদান করা হবে এওয়ার্ড। এর মধ্যে রেেয়ছে, বিসিএ শেফ অব দ্যা ইয়ার, বিসিএ রেস্টুরেন্ট অব দ্যা ইয়ার এবং বিসিএ অনার অব দ্যা ইয়ার।
এতে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ডিফেন্স মিনিস্টার মাইক পেনিং এমপি, অল পার্টি পার্লামেন্টারী কারী গ্রুুপের চেয়ার পল স্কেলী এমপি, বেরী গার্ডিনার এমপি, মাইকেল এলিস এমপি , লর্ড কারেন বিলোমুরিয়া ও এওয়ার্ড কমিটির কনভেনার কামাল ইয়াকুব।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশী কারী শিল্প বৃটিশ জীবনব্যবস্থার একটি অবিচেছদ্য অংশ। শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয় বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এই শিল্প বিশেষ অবদান রাখছে। আমাদের রঙ্গিন ও বর্ণীল হাইস্ট্রিট বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট ছাড়া কল্পনাই করা যায়না।
বিসিএ প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার বলেন, বিসিএ এওয়ার্ড কারী শিল্পের সত্যিকার ট্যালেন্টদের স্বীকৃতির একটি উদ্যোগ। এই শিল্পের উন্নতি ও অগ্রগতিতে যাদের শ্রম ও ঘাম জড়িয়ে আছে তাদেরকে উৎসাহ প্রদান করতে চাই আমরা। আমরা আশা করি কারী শিল্প সকল সংকট কাটিয়ে দ্রুত প্রান ফিরে পাবে। বৃটিশ কালচারের সাথে কারী শিল্পের আরো সুদুর বন্ধন তৈরী হবে।
বিসিএ সেক্রেটারী জেনারেল এম এ মুনিম বলেন, গত এগারো বছরের ব্যবধানে বিসিএ এওয়ার্ড অনুষ্টান, কমিউনিটির একটি সফল ও সেরা অনুষ্টানে পরিনত হয়েছে। তিনি বলেন, কারী শিল্পের উন্নতির সাথে জড়িয়ে আছে ক্যাটারার্সদের পরিশ্রম ও দক্ষতা। এই শিল্প ভবিষ্যতে সকল বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাবে, এটাই আমাদের দৃর বিশ্বাস।
বৃটিশ এমপি ও রাজনীতিবিদরা প্রতিশ্রুুতি ব্যক্ত করেছেন, তারা কারী শিল্পকে রক্ষায় সত্যিকারের ডায়লগে অংশ নিবেন। সরকারকে একটি বাস্তবমুখি পরিকল্পনা নিয়ে আসতে বাধ্য করার অঙ্গিকার করেন। ব্রেক্সিটের কারনে যাতে বাংলাদেশী কারী শিল্প ক্ষতির সম্মোখিন না হয়, সেদিকে সরকারকে সতর্ক নজর রাখার আহবান জানান তারা।