বিস্ময়কর ডেস্ক: বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা ষোড়শ শতকের ফরাসি দার্শনিক মিশেল ডি নোস্টরডেম ওরফে নস্ত্রাদামুস। এখন থেকে ৪৭০ বছর আগে দেওয়া তার ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায় এখনও।
১৬৬
৬ সালে লন্ডনের ভয়াবহ আগুন এবং ২০০১ সালে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা থেকে ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়াসহ অসংখ্য বিষয়েই নাকি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তিনি।
নস্ত্রাদামুস ১৫৬৬ সালে মারা যান। তার লে প্রফেটিস ডে মিশেল ডে নস্ত্রাদামুস গ্রন্থ থেকে নতুন বছর ২০১৭ সাল নিয়েও তেমন কিছু ভবিষ্যদ্বাণী ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন বছরেই নাকি ইতালিতে তীব্র অর্থ সংকট দেখা দেবে এবং দেশটিতে বেকারত্ব বেড়ে যাবে। খবর দি সান ও টেক টাইমসের।
নস্ত্রাদামুস তার রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী নিজেই প্রফেটিস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করে গেছেন। ১০ খণ্ডে রচিত ওই গ্রন্থের প্রত্যেকটিতে ৪ লাইনের ২৬টি করে কবিতায় তার ভবিষ্যদ্বাণীগুলো বিধৃত। সেখান থেকে ২০১৭ সাল নিয়ে কিছু ভবিষ্যদ্বাণী খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।
এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে ২০১৭ সালে। তবে কিসের ভিত্তিতে এমনটা ঘটবে, তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ২০১৭ সালে সুপারপাওয়ার হওয়ার পথে চীন আরও এগিয়ে যাবে।
২০১৭ সালের শুরু থেকেই হতে পারে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মহাকাশ ভ্রমণ। এর পরের দু’বছরের মধ্যে চাঁদে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠবে। এ বছরেই উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিভাজন শেষ হবে।
উত্তরের কিম জং উনের জন্য বছরটা খারাপ যাবে। এমনকি তিনি ক্ষমতাচ্যুতও হতে পারেন। পরিবেশ দূষণ ও উষ্ণায়ন নিয়ে দেশে দেশে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হতে পারে। যেটাকে বায়োলজিক্যাল ওয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌরশক্তির ব্যবহার ব্যাপক আকার নেবে।
আমেরিকার ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অফিসে প্রবেশ করার পর থেকে দুর্নিবার ও অনুপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করবেন।
প্রসঙ্গত, ফরাসি ভবিষ্যদ্বক্তা, জ্যোতিষী, লেখক, ওষুধ প্রস্তুতকারক নস্ত্রাদামুস ১৫০৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর দক্ষিণ ফ্রান্সের সেন্ট রেমি দে প্রভিন্সে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল জম দে নস্ত্রাদামুস। নস্ত্রাদামুসের শৈশব সম্পর্কে বেশি জানা যায় না। ১৫ বছর বয়সে স্নাতক ডিগ্রি অধ্যয়ন করতে আভিগনন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু এক বছরের কিছু সময় পর প্লেগের প্রাদুর্ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি তা ত্যাগ করেন। তার ক’বছর পর মন্টিপিলার বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে যান। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবহির্ভূত এক ব্যবসায় জড়িত হওয়ায় তার ছাত্রত্ব চলে যায়। তৎকালীন রেনেসাঁ পণ্ডিত জুল সিজার স্ক্যালিগারের আমন্ত্রণে তিনি এজেনে গমন করেন। সেখানে নাম না জানা এক রমণীকে বিয়ে করেন।
ধারণা করা হয়, প্লেগাক্রান্ত হয়ে তার স্ত্রী-সন্তান মারা যান। এরপর থেকে ফ্রান্স এবং ইতালিতে তিনি ব্যাপক ভ্রমণ করেন। রাজা দ্বিতীয় হেনরির মৃত্যু, অ্যাডলফ হিটলারের পরিণতি, ৯/১১ তার সফল ভবিষ্যদ্বাণী।
রহস্যময়ী ভবিষ্যদ্বাণীর সূত্রেই তিনি কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন। তার চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণীগুলো শুরু হয় ১৫৪৭ সাল থেকে যখন তার বয়স ৪৪ বছর। আগামী কয়েক শতাব্দীর ভবিষ্যদ্বাণী তিনি লিপিবদ্ধ করে গেছেন।
প্রতিটি ভবিষ্যদ্বাণী ৪ লাইনের কবিতায় রচিত। লে প্রফেটিস ডে মিশেল ডে নস্ত্রাদামুস গ্রনের ১০টি খণ্ডে তার ভবিষ্যদ্বাণীগুলো বিধৃত। ১০৪ পঙ্ক্তিতে ২৬টি কবিতা দিয়ে এক একটি খণ্ড রচিত। জীবিতকালেই তিনি ৯টি গ্রন’ সম্পূর্ণ করেন। ১০ খণ্ডটি সমাপ্ত করার পূর্বেই তিনি পরলোকগমন করেন।
নস্ত্রাদামুসের যে সব ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবার বিস্ময় সৃষ্টি করেছে, সেগুলো হচ্ছে ১৬৬৬ খ্রি. লন্ডনের প্লেগ ও অগ্নিকাণ্ড; নেপোলিয়নের উত্থান ও পতন এবং হেলেনা দ্বীপে তার নির্বাসন।
লুই পাস্তুরের রোগজীবাণু আবিষ্কার, জলাতঙ্ক রোগ নিরাময়ের কথা, ফরাসি বিপ্লবে সম্রাট লুইয়ের নির্যাতন, হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমা বিস্ফোরণ, অষ্টম এডওয়ার্ডের সিংহাসন ত্যাগ, মুসোলিনী ও হিটলারের অভ্যুত্থান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কেনেডি হত্যা, জার্মানির বিভাজন ও পুনর্মিলন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ইত্যাদি। নস্ত্রাদামুস মারা যান ১৫৬৬ সালের ২ জুলাই।