রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৭

ফুলেল শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করলেন বিলেত প্রবাসীরা

ফুলেল শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করলেন বিলেত প্রবাসীরা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছে লন্ডনের বাঙ্গালী প্রবাসীরা।

প্রতিবছরের মত এবারও স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে টাওয়ার হ্যামলেটসের আলতাব আলী পার্কে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর্ব শুরু করেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাই কমিশনার নাজমুল কাওনাইন। ডেপুটি হাই কমিশনার খন্দকার এম তালহা ও প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদিরও এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

এরপর ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ করেন টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র জন বিগস ও স্পিকার কাউন্সিলর খালেস উদ্দিন, ডেপুটি স্পিকার সাবিনা আক্তার।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পর স্থানীয় লেবার পার্টির নেতৃবৃন্দ, টাওয়ার হ্যামলেটস পিপলস অ্যালায়েন্স, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

১৯৯৯ সালে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হওয়ার পর থেকে আলতাব আলী পার্কেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন দিবস পালন করে আসছেন প্রবাসীরা। মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত দেড়শর বেশি সংগঠন আলতাব আলী পার্কে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শহীদ মিনার কমিটির মুখপাত্র বিধান চক্রবর্তী জানান, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার শীত কম থাকায় দূর দূরান্ত থেকে এসেও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অনেকে। অনেক মানুষ এসেছেন এবার, তাদের মধ্যে শিশুও আছে। তারা সবাই আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গেয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সনের ২১ শে ফেব্রুয়ারী (৮ ই ফাল্গুন ১৩৫৮ বাংলা) রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের উপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে নিহত হন রফিক,শফিক,জব্বার, সালামসহ আরো অনেকে।সেই থেকেই প্রতি বছর ২১ শে ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবস হিসেবে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া বীর শহীদদের।পৃথিবীর ইতিহাসের একমাত্র আমরাই বাঙালী জাতী যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে।

বাংলার আপামোর জনতার দাবীর মুখে ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৯ মে অনুষ্ঠিত গনপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

কানাডার ভ্যানকুভার শহরে বসবাসরত দুই বাঙালী রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালাম প্রাথমিক উদ্যোক্তা হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ঘোষনার আবেদন জানান ততকালীন জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে ১৯৯৮ খ্রীষ্টাব্দে।

১৯৯৯ খ্রীষ্টাব্দের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ঘোষনা করা হয় এবং ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

২০১০ সালের ২১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের ৬৫ তম অধিবেশনে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করার ঘোষনা দেয় জাতিসংঘ।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026