স্বদেশ জুড়ে: পুলিশ দম্পতি হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে ঐশী রহমান তার সাত বছর বয়সী ছোট ভাইকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। বারবারই সে ভাইয়ের খোঁজ জানতে চাচ্ছে। ঐশী এখানে সবার সাথেই স্বাভাবিক আচরণ করছে। এখানকার অন্য মেয়েদের সাথে মিশছে, কথা বলছে। তবে বার বার তার ছোট ভাই ঐহী’র কথা জানতে চেয়েছে সে। গাজীপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক লুৎফুন্নেছা এ তথ্য জানান।
শনিবার রাত ৯টার দিকে ঐশী ও তাদের শিশু গৃহকর্মী খাদিজা খাতুন সুমিকে ঢাকা থেকে কোনাবাড়ি কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে নিয়ে আসে পুলিশ। ঐশী এখানে এমব্রয়ডারির প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে প্রশিক্ষণ ক্লাস শুরু হয়, আর শেষ হয় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। পরে বেলা সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তাদের খেলাধুলা করতে সময় দেয়া হয়। তবে রোববার ঐশী কোনো খেলায় অংশ নেয়নি। এদিন বেলা ১১টায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের ডিজি বেগম নাসিমা এনডিসি ও লুৎফুন্নেছা কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র পরির্দন করেন।
জানা যায়, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত গাজীপুর সদর উপজেলার কোনাবাড়িতে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে ধারণ ক্ষমতা ১৫০ জন। এখানে ১১০ জন কিশোরী রয়েছে। এখানকার নিবাসীদের প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাস্তা, বেলা ১টার দিকে দুপুরের খাবার, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নাস্তা এবং রাত ৮টার দিকে রাতের খাবার দেয়া হয়।
গত ১৬ অগাস্ট ঢাকার চামেলীবাগে নিজের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশের এসবির পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ও লেভেলের ছাত্রী ঐশী তার বাবা ও মায়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে পুলিশের দাবি।
গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, ঐশীর ছোট ভাই তার এক স্বজনের কাছে নিরাপদে আছে। সামনে পরীক্ষা বলে ঐশী পড়ার জন্য ইংলিশ মিডিয়ামের বই চেয়েছে বলেও জানান সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই উপ-পরিচালক। ঐশী পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য ইংলিশ মিডিয়ামের বই চেয়েছে। আমরা তার আত্মীয় স্বজনের কথা বলেছি। তারা কেউ এলে বই এনে দিতে বলবো। পরীক্ষা দিতে চাইলে তাকে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেব। আপাতত তাকে বই কিনে দেয়া সম্ভব না হওয়ায় এখানে যে সকল ধর্ম ও গল্পের বই রয়েছে তা পড়ে সময় কাটানোর জন্য ঐশীকে পরামর্শ দিয়েছি।
Leave a Reply