শীর্ষবিন্দু নিউজ: বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের অধিবেশন চলাকালে পার্লামেন্টের বাইরে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। পার্লামেন্টের বাইরে পুলিশের ওপর ছুরি হাতে ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজে পথচারীদের ওপর গাড়ি তুলে দিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে এক ব্যক্তি।
পার্লামেন্ট ভবনের রেলিং-এ গিয়ে গাড়িটি ধাক্কা দেয়। চালক গাড়ি থেকে বের হয়ে একজন পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা কর্মীরা হামলাকারীকে গুলি ছোড়লে তার মৃত্যু হয়েছে। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ এই ঘটনাকে সন্ত্রাস হামলা বলে আখ্যায়িত করেছে।
পার্লামেন্টের বাইরে পৃথক দুটি সন্ত্রাসী হামলায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মার্ক রাউলি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে পুলিশ সদস্যদের ওপর ছুরিকাঘাতে হামলার পর শুরু হওয়া গোলাগুলির মধ্যেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে‘কে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি সুস্থ ও নিরাপদ আছেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।
ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে পার্লামেন্ট থেকে নাম্বার টেন-এ নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি এখন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। বুধবার শেষ দিকে থেরেসা মে ব্রিটিশ সরকারের জরুরি কোবরা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। হামলার কিছুক্ষণ আগেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার সাপ্তাহিক প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ করেন। পার্লামেন্টের বাইরে গোলাগুলি শুরু হলে তাকে দ্রুত একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
এরপর পার্লামেন্ট স্কয়ারে জরুরি হেলিকপ্টার অবতরণ করে। তা ঘিরে রাখে পুলিশ এবং পার্লামেন্ট এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও পার্লামেন্টের ভেতরে এখনও আটকা আছেন এমপিরা। এছাড়া পথচারী, স্কুলের শিক্ষার্থী ও পার্লামেন্ট ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আটকা পড়েছেন। বিখ্যাত লন্ডন আই দেখতে আসা পর্যটকরাও আটকা পড়েছেন।
মার্ক রাউলি জানান, হামলাকারী একজনই ছিল। আহতদের মধ্যে তিন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছে। তিনি বলেন, দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে পার্লামেন্টের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। হামলাকারী হিসেবে যাকে সন্দেহ করা হচ্ছে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে।
মার্ক রাউলি আরও বলেন, এ পর্যায়ে আমরা সন্তুষ্ট। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, হামলাকারী একজনই ছিল। তবে এ বিষয়ে অতি আত্মবিশ্বাসী হওয়া বোকামি হবে।
পূর্ণ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার পর হামলাকারীদের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী হামলাকারী দুজন বলে জানান। আবার কেউ কেউ হামলাকারী একজন বলেও দাবি করেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজে পথচারীদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ফলে ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। রাউলি জানান, এরপর হামলাকারী গাড়ি নিয়ে সংসদের কাছে ধাক্কা খায়। তখন গাড়ি থেকে ছুরি হাতে এক ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পার্লামেন্টের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো এলাকাজুড়ে সশস্ত্র পুলিশের উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে আততায়ীর ছুরির আঘাতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কতজন আহত হয়েছেন তা জানা যায়নি। আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
দুই ঘটনায় পুরো ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পার্লামেন্টের অধিবেশনও মুলতবি করে দেওয়া হয়েছে। এমপিদের নিজ নিজ কার্যালয়ে থাকতে বলা হয়েছে।