শিহাবুজ্জামান কামাল: শুক্রবার ৩১ মার্চ পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেল রোডের একটি রেস্টুরেন্টে ‘ গ্লোবাল কমিটি ফর ফেয়ার সিতিজেনশীপ ল ইন বাংলাদেশ’র এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংগঠনের আহবায়ক বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা সাংবাদিক কে এম আবুতাহের চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব, ব্যারিস্টার নাশিদ রহমান। সভায় সংগঠনের বিগত দিনের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম তুলে ধরেন সংগঠনের অন্যতম কর্মকর্তা ব্যারিস্টার নজরুল খসরু।
সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশে প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন ২০১৬’র নিতীমালায় প্রবাসীদের স্বার্থ বিরোধী ধারা বাতিলের দাবীতে যারা এবং যেসব কমিউনিটি সংগঠন, নেতৃবৃন্দ, আইঞ্জিবি্ সাংবাদিক এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, রাজনীতিবিদসহ যারা সোচ্চার ভুমিকা রাখেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ক্যাম্পেইন কমিটির আন্দোলন, সেই সাথে বিভিন্ন সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে ঢাকায় অতিসম্প্রতি একটি সেমিনারে বাংলাদেশের মাননী্য় আইনমন্ত্রী বলেছেন যে, বাংলাদেশে দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারীরা তাঁদের (১) রাজনীতি করার অধিকার (২) তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
এছাড়া তাঁদের সন্তানদের নাম হাইকমিশনে রেজিস্ট্রেশনের দুই বছরের সময় সীমা বাতিল হবে। কিন্ত এতে পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছে যে দ্বৈত নাগরিকের কোন লোক বাংলাদেশের প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হতে পারবেনা এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মদের নাগরিকত্বের হওয়ার ব্যাপারে কোন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
এছাড়া নাগরিকত্ব এই আইনে বংশসুত্রে নাগরিক প্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কেউ যদি কোন অভিযোগ করে তাহলে সরকার তার নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারবে এবং সরকার পার্লামেন্টে না গিয়ে নাগরিকত্ব আইনে শর্ত আরোপের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে বলে যে সব বিধান রাখা হয়েছে সে ব্যাপারে সঠিক কোন বক্তব্য নেই।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে ইতিপূর্বে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন চলে আসলেও আজ পর্যন্ত সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। তাছাড়া বহির্বিশ্বে বসবাসরত বাংলাদেশীদের এখন পর্যন্ত কোন জাতীয় পরিচয় পত্র নেই। প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকার কারণে প্রবাসিরা দেশে বেড়াতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন
সভায় জানানো হয় ক্যাম্পেইন কমিটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রস্তাবিত নাগরিক আইনে আরো সংশোধন এবং প্রবাসীদের স্বার্থে নিম্নে বর্ণিত সুপারিশমালা গুলো বাস্তবায়নে সরকারের কাছে জোর দাবী জানানো যাচ্ছে।
সুপারিশমালা গুলো হচ্ছেঃ (১) প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইনে বহির্বিশ্বে বসবাসরত সকল দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হওয়ার সুযোগ রাখতে হবে।
(২) এ আইনে বংশসুত্রে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মসহ পরবর্তী সকল বংশধরদের বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার বিধান রাখতে হবে।
(৩) দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী সবাইকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে দ্বৈত নাগরিকত্ব কার্ড প্রদান করতে হবে যা জাতীয় পরিচয়পত্রের সমান ক্ষমতা সম্পন্ন হবে।
(৪) নাগরিকত্ব আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারের সীমাবদ্ধতা ও যে কোন শর্ত আরোপে পার্লামেন্টে নাগিয়ে নির্বাহী ক্ষমতা আরোপের অধিকার প্রত্যাহার করতে হবে।
(৫) বংশসুত্রে প্রাপ্ত নাগরিকদের বিরুদ্ধে যে কেউ কোন অভিযোগ করলে তার নাগরিকত্ব বাতিল না করা আপিল করার সুযোগ রাখতে হবে। পিতার অপকর্মের কারণে পুত্রের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার বিধান রহিত করতে হবে।
(৬) দ্বৈত নাগরিকত্বের নাগরিকত্ব বাতিলের ব্যাপারে ২১, ২২ ও ২৩ নং ধারা বাতিল করতে হবে।
(৭) বহির্বিশ্বে বসবাসরত বাংলাদেশীদের বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় প্রবাসীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং তাঁদের ভোট প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দরা বলেন, আমরা আশা করব বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের স্বার্থে এই সুপারিশমালা মেনে নিয়েন এবং নাগরিকত্ব আইনের চুড়ান্ত খসড়ায় তা অন্তর্ভুক্ত করবেন। তারা বলেন আমরা প্রবাসীদের স্বার্থে কাজ করছি। আমাদের এসব কর্মকাণ্ডকে সরকারের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিসর্গ সহ যে সব লোক অপপ্রচার বলে মিথ্যাচার করছেন, বক্তারা তার তীব্র প্রতিবাদ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, সাবেক মেয়র আব্দুল আজিজ সরদার, এডভোকেট মাহবুব আলম তোহা, আলহাজ এম আলা উদ্দিন, জাহাঙ্গীর খান, আবু হোসেন প্রমুখ। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।