শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের জুন মাসে অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছিলেন ব্রিটেনের সুন্দরী মডেল রেশম খান। এই ঘটনার পর তিনি ধরেই নিয়েছিলেন, তার ক্যারিয়ার শেষ। অবশ্য নারীর ওপর অ্যাসিড হামলার ঘটনা এটি একটি ভয়ানক খবর।
ওই অ্যাসিড হামলার অভিযোগে জন টমলিন নামে ২৫ বছর বয়সী ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ। দুষ্কৃতীদের ছোড়া অ্যাসিডে মুখ ও হাতের অনেকটাই পুড়ে গিয়েছিল রেশমের। তবে মনের জোর হারাননি তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অবদানে মাত্র ৩ মাসের মাথায় পুরোপুরি আগের চেহারা ফিরে পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ও ব্লগে ছবি-সহ নিজেই গোটা বিষয়টা জানিয়েছেন রেশম।
রেশম জানান, গত ২১ জুন সকালে তুতো ভাই জামিল মুকতারের সঙ্গে গাড়ি করে এক জায়গায় যাচ্ছিলেন। ট্র্যাফিক সিগন্যালে অপেক্ষারত অবস্থায় আচমকাই তাদের লক্ষ্য করে সালফার অ্যাসিড ছোড়ে এক তরুণ। মুহূর্তের মধ্যে তার সমস্ত জামা কাপড় অ্যাসিডে জ্বলে যায়। এরপর গাড়ি থেকে বেরিয়ে তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে সাহায্যের আর্জি জানান।
এগিয়ে আসেনি কেউই। প্রায় ৪৫ মিনিট পর একজনের সাহায্যে স্থানীয় একটি হাসপাতালে পৌঁছান রেশম ও জামিল। তার পর শুরু হয় তাদের চিকিৎসা। অবস্থা এমনই দাঁড়ায়, রেশম ঠিক করে তার চোখ পর্যন্ত বন্ধ করতে পারছিলেন না। চামড়ায় টান ধরে গিয়েছিল অ্যাসিডের তীব্রতায়। তার কাজিন জামিলের জখম ছিল আরও গুরুতর। তার ডান চোখটি ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে চিকিৎসকরা হাল ছাড়েননি। ধীরে ধীরে দুজনকেই সুস্থ করে তুলেছেন তারা।
রেশমা ও জামিলের সার্জারির জন্য প্রয়োজন ছিল বিপুল পরিমাণ অর্থের। গো ফান্ড মি নামের একটি ওয়েবসাইট চালু করে সেখানেই চিকিৎসার জন্যে টাকা তোলা হয়। সফল প্লাস্টিক সার্জারির সাহায্যে যে এত সহজেই আগের রূপ ফিরে পাওয়া যাবে, তা ভাবতে পারেননি রেশমও।