বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৫

কমনওয়েলথ দেশগুলোতে অভিন্ন ভিসা চালুর প্রস্তাব

কমনওয়েলথ দেশগুলোতে অভিন্ন ভিসা চালুর প্রস্তাব

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে অভিন্ন ভিসাপদ্ধতি, বাণিজ্য উন্নয়ন, ট্যারিফ বিধি-নিষেধ সহজীকরণ এবং অভিন্ন স্বার্থে এক হয়ে কাজ করার প্রস্তাব করা হয়েছে সিপিএ সম্মেলনে। একই সাথে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে মিয়ানমারকে চাপ দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে (সিপিসি) অংশ নিতে আসা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।

এছাড়া বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমস্যা মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলোর অবকাঠাম নিশ্চিত করা, কার্বন নিঃসরণে আইনগত সংস্কার, সংসদ ও রাজনীতিতে নারী ও যুবাদের অধিকসংখ্যক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাসহ একগুচ্ছ প্রস্তাব এসেছে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সম্মেলনে।

সম্মেলনের ষষ্ঠ দিন সোমবার দিনভর অনুষ্ঠিত কর্মশালা থেকে এসব প্রস্তাবনা ও মতামত উঠে এসেছে। এসব কর্মশালায় দাতো ড. নারাইনি এমপি, সাগুফতা ইয়াসমিন এমপি, মুতিমুরা জেনো এমপি, জেমস নরমেন এমএসপি, তানভির ইমাম এমপি, ডা. দিপু মনি এমপি, অধ্যাপক মোঃ আলী আশরাফ এমপি, হুইপ শহিদুজ্জামান সরকার এমপি, মঈন উদ্দীন খান বাদল এমপি, আলেকজান্দ্রা মেন্ডিস এমপি, ড্রেক থমাস এমএলসি এমপি, লিম ব্লো চুয়ান এমপি প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন। পরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সিপিএর মিডিয়া সেন্টারে এসব তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ। এসময় মিডিয়া কমিটির বাংলাদেশী এমপিরা উপস্থিত ছিলেন ।

কমনওয়েলথ দেশসমূহের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য ‘আইন প্রণেতাদের ভূমিকা, বাণিজ্য, ভিসা সমস্যা ও ট্যারিফ বিধি-নিষেধ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় ভিসা সংক্রান্ত প্রস্তাব বা সুপারিশ করা হয়। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় মূল আলোচক ছিলেন নাইজেরিয়ার সিনেটর ইকে ই বেরেমাদু, যুক্তরাজ্যের লর্ড ডেভিস এবং গায়ানার জোসেফ এফ হারমান। সঞ্চালক ছিলেন কানাডার এমপি আলেকজান্দ্রা মেন্ডেজ। কর্মশালায় বলা হয়, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর টিকে থাকতে হলে দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের এমপি অ্যাডভোকেট ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি জানান, সকাল ৮টায় শুরু হয়- ‘জেন্ডার সমতা আনয়নে সংসদে পুরুষ সদস্যদের ভূমিকা’ শীর্ষক সি ডাব্লিউপির কর্মশালা হয়। এ কর্মশালায় সুপারিশে বলা হয়েছে- বিশ্বের অর্ধেকের বেশি নারী হলেও তারা নানাভাবে বঞ্চিত। এদের সমতা আনা বিশেষ জরুরি। কেননা, অর্ধেক অংশ বাদ দিয়ে কোনোভাবেই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেকারণে সমাজে বঞ্চিত, অবহেলিত, দরিদ্র নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য সিপিএ সদস্যদেশগুলোর সংসদে আরও বেশি করে প্রকল্প গ্রহণ করা। একই সাথে নারীদের রাজনীতি ও সংসদে আসার জন্য অনুপ্রেরণা সৃষ্টি ও পরিবেশ নিশ্চিত করা। সংসদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারীদের জন্য অধিক অর্থ বরাদ্দ ও নারীবান্ধব বাজেট প্রণয়ন, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশ এসেছে।

এদিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হযেছে-এদিন মোট ৮টি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মশালায় নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে নারী সংসদ সদস্যদের রোল মডেল ধরে কাজ করার সুযোগ তৈরি, নীতিমালা প্র¯‘ত করা এবং লিঙ্গ সমতাকে সমর্থন, টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আইন প্রণয়ন, বাজেট প্রণয়ন এবং সার্বিক তদারকিতে অংশগ্রহণে সংসদ সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিতকরণ, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সুশাসন নিশ্চিত করতে সংসদে জনগণের অংশগ্রহণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। এছাড়াও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ন্যায় কমনওয়েলথভুক্ত দেশসমূহে অভিন্ন ভিসা পদ্ধতি, বাণিজ্য উন্নয়ন, ট্যারিফ বিধি নিষেধ সহজীকরণ এবং কমন ইন্টারেস্টে সকলকে এক হয়ে কাজ করারও সুপারিশ করা হয়।

কর্মশালায় সিপিএ কর্তৃক স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে নারী সংসদীয় দলকে ক্ষমতায়িত করার মাধ্যমে জেন্ডার সংবেদনশীল বিল প্রণয়ন এবং জেন্ডার টেকসই বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সংসদে উপস্থাপনসহ কমনওয়েলথভূক্ত সংসদগুলো একটি কাঠামো নিশ্চিত করবে যা ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনকে মোকাবেলা, প্রত্যেক অঞ্চলে তা বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সম্মেলনে সাম্প্রতিক তথ্য উপাত্ত তুলে ধরার সুপারিশ করা হয়।

বিশ্ব সম্প্রদায়কে এক হয়ে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এক হয়ে মিয়ানমারকে চাপ দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে (সিপিসি) অংশ নিতে আসা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে সহসাই রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান হবে না। সমস্যাটি যাতে দ্রুত সমাধান করা যায় তার জন্য বিশ্বের দেশগুলোকে এক হয়ে জাতিসংঘের মাধ্যমে মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে।

রোহিঙ্গা সঙ্কটের মধ্যে ঢাকায় সিপিএ সম্মেলন চলাকালে সোমবার কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এ প্রতিক্রিয়া জানা গেছে। আগের দিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী সিপিসিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের আইন প্রণেতাদের সামনে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি তুলে ধরেন। ওই আলোচনায় রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে সিপিসিতে প্রস্তাব গ্রহণের দাবিও ওঠে।

সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও হাউস অব লর্ডসের সদস্য জর্জ ফোকেস রোহিঙ্গা নির্যাতনের জন্য মিয়ানমারের সমালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ খুবই উদারতা দেখিয়েছে। তাদের আশ্রয়, খাদ্য, স্বাস্থ্য সেবাসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করছে। এজন্য অনেক অর্থও খরচ করতে হচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণ অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা গণহত্যার শিকার হচ্ছেন বলে মনে করে তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো স্বল্প মেয়াদে এই সমস্যার সমাধান খুবই কষ্টসাধ্য। আমি মনে করি না দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে। দীর্ঘ মেয়াদে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে।

রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্রিটিশ এই আইন প্রণেতা বলেন, বিশ্বের সব দেশগুলোকে বাংলাদেশের হয়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য লড়াই করা উচিৎ। প্রত্যেক দেশকে জাতিসংঘে গিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলা উচিৎ। মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে হবে। দ্বিপক্ষীয়ভাবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব মনে করলেও এজন্য জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথসহ অন্যান্যদের সমর্থন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের প্রতি সমব্যথী ক্যামেরুনের পার্লামেন্টের মাইনরিটি চিফ হুইপ বানাদজেম জোসেফ বলেন, একুশ শতকে এসে আমরা এ ধরনের অমানবিকতা দেখতে চাই না। দেখতে চাই না কোনো দেশের নাগরিক নিজ রাষ্ট্রে থেকে বিতাড়িত হয়ে অন্য দেশে উদ্বাস্তু হিসেবে বসবাস করবে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের দ্রুত সমাধানের উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এজন্য মিয়ানমারে ‘সেইফ জোন’ তৈরি করে সেখানে এই জনগোষ্ঠীকে বসবাসের সুযোগ দেওয়া উচিত। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নসহ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে ৫ দফা সুপারিশ করা হয়েছে তার বাস্তবায়ন জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাদেশিক পরিষদের হুইপ ফিলেমন ফালাগা বলেন, আমরা চাই রোহিঙ্গারা যেন দ্রুত তার নিজেদের আবাসভূমিতে ফেরত যেতে পারে। মিয়ানমার সরকারের উচিৎ এদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা। এজন্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

‘সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সিপিএ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) চেয়ারপার্সন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সিপিএ’র ৬৩তম সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সম্মেলন থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সংস্থাটির চেয়ারপার্সন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান। শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সম্মেলনে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাজে অংশগ্রহণমূলক শাসন ব্যবস্থার গুরুত্ব শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে যুব সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। তারা সিপিএ’র ৯টি অঞ্চল থেকে আসা ৯ সংসদ সদস্যের কাছে প্রশ্ন ও বক্তব্য উত্থাপন করবেন। ওই বৈঠকের আলোচনার উপর একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে। যা সিপিএ’র নির্ধারিত কর্মশালায় উত্থাপন করা হবে। কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশমালা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিবে সিপিএ।

স্পিকার বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ সম্মেলনে ইয়ুথ রাউন্ড টেবিল ছাড়াও আটটি নির্ধারিত বিষয়ভিত্তিক কর্মশালা হবে। যেখানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তন, পার্লামেন্টারি প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রসিডিউর বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রতিটি কর্মশালা ও সভার সিদ্ধান্ত ও সুপারিশগুলো ৭ নভেম্বর সাধারণ অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026