শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৭

আল-কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে জঙ্গি সংগঠন আরএসও

আল-কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে জঙ্গি সংগঠন আরএসও

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের বান্দরবান-কক্সবাজার সীমান্তে সত্তরের দশক থেকে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন পরিচালনা করছে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)।   বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে একটি স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই আরএস’র একমাত্র লক্ষ্য।

এছাড়াও ফিলিপাইন, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী এ সংগঠনের নেটওয়ার্ক।   অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঐতিহাসিকভাবেই আল-কায়েদা ও আফগানিস্তানের তালেবান জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করছে আরএসও। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ উৎসাহিত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ভিডিও শেয়ার সাইট ইউটিউবসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তারা খুবই তৎপর।   রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) এখন কয়েকটি অঙ্গ সংগঠন গড়ে উঠেছে। এরই একটি আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন বা আরআরইউ।

২০১২ সালের জুলাই মাসে উইকিলিকসের ফাঁস করা এক তথ্যে জানা যায়, মায়ানমারের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের তার বার্তায় বলা হয়, আরএসওর সঙ্গে আল-কায়েদাসহ আরো কয়েকটি জঙ্গি গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে।নিজেদের পরিকল্পনা পূরণের জন্য কৌশলপত্র নির্ধারণ, মানচিত্র পতাকা তৈরিসহ সংবিধানও রয়েছে তাদের। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি, হিযবুত তাহরীর, হিযবুত তাওহীদ এবং পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই- তৈয়্যবা, হরকাতুল জিহাদ, জয়ইশ-ই মোহাম্মদ, মায়ানমারের বিদ্রোহী জঙ্গি রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), আরাকান মুভমেন্ট, আরাকান পিপলস ফ্রিডম পার্টি, আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এআরএনও), আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন নামের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কর্মীরা এক সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।এদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা জড়িত রয়েছে। কক্সবাজারে পুলিশের হাতে আটক চার জঙ্গির মধ্যে জঙ্গি নেতা আবদুল্লাহ হেল কাফির দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এসব তথ্য বের হয়ে আসে।

গোয়েন্দা সূত্রমতে, আরএসও সংগঠনে রয়েছে, আফগান যুদ্ধফেরত প্রশিক্ষিত দুর্ধর্ষ গেরিলা থেকে শুরু করে আত্মঘাতী বোমা হামলার জন্য প্রশিক্ষিত জঙ্গি সদস্য। বান্দরবান-কক্সবাজার সীমান্তে সক্রিয় ডজনখানেক বিদেশি উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আরএসও-ই সবচেয়ে শক্তিশালী। লন্ডন প্রবাসী জঙ্গি নেতা নুরুল ইসলাম গ্রুপটির অর্থ সংগ্রহের মূল কাজটি করেন। বাংলাদেশে থেকে এর সমন্বয় করেন আরএসও’র সামরিক শাখার প্রধান হাফেজ সালাহুল। আশির দশকে জন্ম নেয় আরএসও।

অভিযোগ রয়েছে, এই গ্রুপটিকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। আরএসও’র প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা বর্তমানে পরিচয় গোপন রেখে ওই সব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের অনেকেই অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায় জড়িত। আরএসও বরাবরই সীমান্তে সক্রিয় ন্যাশনাল ইউনাইটেড পার্টি অব আরাকানসহ (নুপা) মিয়ানমারের আরো কিছু উগ্রপন্থি সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করছে।

তবে প্রতিদ্বন্দ্বী আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনালিস্ট অর্গানাইজেশনের (এআরএনও) সঙ্গে রয়েছে তাদের চরম বিরোধ।   ২০০৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আরএসওর সর্বশেষ সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয় নতুন কমিটির। একই বছর ৩০ জুলাই আরএসও’র নতুন কমিটি গঠিত হয়। কক্সবাজার শহরের কলাতলীর একটি হোটেলে একটি ইসলামিক সংস্থার সেমিনারের নামে আয়োজিত সম্মেলনে আরএসও’র শীর্ষ নেতা লন্ডনপ্রবাসী নুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইউনুছ উপস্থিত ছিলেন। ওই দিন গঠিত আরএসওর ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরি কমিটিতে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন যথাক্রমে জঙ্গি নেতা ড. মোহাম্মদ ইউনুস, হাজি মোহাম্মদ জাবের ও রাশেদ আহমদ।

কমিটির অন্যরা হলেন- ইউনুস আবাদী, আবু আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, মৌলভী আবুল ফয়েজ, নুর মোহাম্মদ মনসুর, আবদুল রশিদ, মোহাম্মদ সায়েদ, আবু কাদের, আবু ইয়াহিয়া মীর আহমদ, হামিদ, রুহুল আমিন ও আবদুল্লাহ মোহাম্মদ। ওই দিন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে ছিলেন এজাহার হোসেন।এ কমিটির মধ্য দিয়ে টানা ২০ বছরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট নুরুল ইসলাম অবসরগ্রহণ করেন। তাকে সংগঠনের মূল দায়িত্বের বাইরে রেখে এনজিও বিভাগ, সামরিক বিভাগ ও বহির্বিশ্বের যোগাযোগের জন্য নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আরআরইউর কক্সবাজারের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আবু সিদ্দিক আরমানকে। ২০১২ সালের ১৩ জুলাই রিয়াদ থেকে বাংলাদেশে ফেরেন তিনি। ৩০ আগস্ট গোপন বৈঠক চলাকালে কক্সবাজারের রামুর খুনিয়া পালংয়ের দারিয়ারদীঘি এলাকা থেকে পুলিশ আরমানসহ ছয়জন অভিযুক্ত জঙ্গি সদস্যকে আটক করে। আটকদের মধ্যে অন্যরা হলেন- মুহাম্মদ ইউনুচ, রুহুল আমিন, লোকমান হাকিম, মুহাম্মদ ওয়াজেদ জালাল ও মুহাম্মদ নুর আল ফয়সাল। ওই সময় রামু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোকাদ্দেস বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেন। পরে উচ্চ আদালত থেকে আসামিরা জামিনে ছাড়া পেয়ে গা-ঢাকা দেন। এখন তাদের পাসপোর্ট জব্দ রয়েছে।

আরএসও’র এক শীর্ষ নেতার তথ্যমতে, রোহিঙ্গাভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের তৎপরতায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ থেকে বিশাল অঙ্কের তহবিল বাংলাদেশে আসে।   আরএসওর শীর্ষ জঙ্গিদের মধ্যে রয়েছেন- হাফেজ সালাউল, মৌলভী সেলিম, হাফেজ আইয়ুব, শাকিল জেহাদী, হাফেজ রশিদসহ অনেকে। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে তারা এখন আবারও তৎপর হয়ে উঠেছেন।

২০১১ সালের ৩০ ও ৩১ মে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সংগঠনটির জন্ম হয়। এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আবুল ফয়েজ জিলানী, ড. মোহাম্মদ ইউনুস ও নুরুল ইসলামকে। সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় সালামত উল্লাহকে। সালামত উল্লাহ বর্তমানে ব্যবসায়ী ও এনজিওর সমন্বয়কারী। তিনি মিয়ানমারের বুচিদং এলাকার থামিংচং গ্রামের হামিদ হোসেনের ছেলে। ১৯৯২ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশে আসেন। ১৯৯৪ সালে তিনি আফগানিস্তান যান। আফগানিস্তান থেকে লিবিয়া হয়ে সৌদি আরবে থাকেন কিছুদিন। এরপর বাংলাদেশে ফিরে আসেন ২০০৪ সালে।

এরপর ফের দেশের বাইরে যান তিনি। রিয়াদে বৈঠক শেষে ২০১২ সালের ১১ জুন তিনি আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। রিয়াদে অনুষ্ঠিত ওই সভায় নাজমুল নামের আরেক দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা জঙ্গি উপস্থিত ছিলেন। তিনি বৈঠক শেষে রিয়াদ থেকে বাংলাদেশ হয়ে মালয়েশিয়া চলে যান। বঙ্গোপসাগরে ১৪ মাঝিমাল্লা হত্যা মামলার আসামি হিসেবেও তার নাম রয়েছে।

 




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026