শীর্ষবিন্দু নিউজ: স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগের নেতা হিসাবে একাত্তরে জয়পুরহাটে রাজাকার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক নিধনযজ্ঞ চালানোর দায়ে আবদুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
কোনো মানুষ, যে ফিজিকালি ও মেন্টালি আনফিট, তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো উচিৎ নয়। কিন্তু আবদুল আলীমের অপরাধ এতোটাই ঘৃণ্য, তাকে মুক্ত রাখলে মানবতার অবমাননা হবে। এ কারণে তাকে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে বাকি জীবন কাটাতে হবে। তাহলে হয়তো কৃতকর্মের জন্য তার ভেতরে অনুশোচনার সৃষ্টি হবে। এসব অপরাধ সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য হলেও স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনা করে ৮৩ বছর বয়সী এই যুদ্ধাপরাধীকে স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত কারাগারে কাটাতে হবে।
স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য বঙ্গবন্ধু সরকার প্রণীত দালাল আইনের আসামী ছিলেন আলীম। এর আগে একই কারণে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকেও মৃত্যুদণ্ডের বদলে ৯০ বছরের জেল দেয় ট্রাইব্যুনাল।
একজন আইনজীবী হয়েও কীভাবে আলীম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে নিয়ে যুদ্ধের নয়টি মাস একের পর এক হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ ও নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছেন, তা উঠে এসেছে এই রায়ে। মামলার শুনানিতে ওইসব ঘটনার জন্য তাকে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবল’ হিসাবে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।
সে সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া কনভেনশন মুসলিম লীগের এই নেতা জয়পুরহাট মহকুমা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে কীভাবে রাজাকার বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ ও তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন, কীভাবে এক পাট ব্যবসায়ীর গদিঘর দখল করে নির্যাতন শিবির খোলেন- সে বিবরণও এই রায়ে উঠে এসেছে।
তারপরও ফাঁসির রায় না আসায় ট্রাইব্যুনালের বাইরে অপেক্ষায় থাকা কেউ কেউ এবং রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বানে উপস্থিত জনতা অসন্তোষ প্রকাশ করে। আপিলের মাধ্যমে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ারও দাবি জানান তারা।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, পুরো রায় দেখে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আহসানুল হক হেনা বলেন, তারা আপিল করবেন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি অষ্টম রায়। আগের সাতটি রায়ে জামায়াতের সাবেক ও বর্তমান ছয়জন এবং বিএনপির এক নেতাকে দণ্ডাদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও আপিলের রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।