শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে হওয়া নির্যাতনের বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট।
বৃহস্পতিবার মিয়ানমার সফরে দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির সঙ্গে এক বৈঠকে বলেন, বিশ্ব এই ইস্যুতে চুপ করে বসে থাকবে না। দুই দিনের মিয়ারমার সফরে রাখাইন পরিদর্শন করে রোহিঙ্গা নির্যাতনের দায়ভার নেয়ার কথা বলেন।
হান্ট বলেন,বার্মার এটি খুব ভাল করেই বোঝা উচিত যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে চুপ করে থাকবে না। সুচির সঙ্গে বৈঠকের পর হান্ট বলেন, যদি আমরা কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে না পাই তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা তাই করব, এই বিশ্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সুচির সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে তিনি বলেন, এই আলোচনা ছিল সরাসরি ও খোলামেলা। এই বৈঠকে হান্ট রয়টার্সের দুই সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ওয়াল লোন ও কেয়াও সু ওকে জাতীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ৭ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়।
এই সময় রাখাইনে ৩ ঘন্টার পরিদর্শনে হান্ট কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও পাশ্ববর্তী বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। হান্ট বলেন, রাখাইনে ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে।
এক সপ্তাহ আগে জাতিসংঘ মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ ৬ জেনারেলকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ফেসবুকও ঘৃণা ও বিভেদ ছড়ানোর অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের দুইটি অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করার সহ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৯টি অ্যাকাউন্ট ও পেজ বাতিল করে।
এরপর টুইটারে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার সফরের ঘোষণা দেন। যদিও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতন নিয়ে প্রকাশ করা জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও দেশটির উচ্চপদস্থ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক আদালতের মুখোমুখি করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে।
দেশটি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক আদালত মিয়ানমারের সেনবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, যৌন নির্যাতন, জোরপূর্বক উচ্ছেদের জন্য স্থায়ী তদন্ত ফাইল খুলেছে।