শীর্ষবিন্দু নিউজ: পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে বুধবার কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তির সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে দুই নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তাদের বক্ত্যব্যে নিচে তুলে ধরা হলো:
আলোচনার সময় এখনো আছে পরিবেশ তৈরি করুন : খালেদা
আলোচনার মাধ্যমে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিরোধী দলীয় নেতা।
সংসদে প্রস্তাব দিলে আলোচনা হতে পারে: শেখ হাসিনা
নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রধান দুই দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে জনমনে শঙ্কার মধ্যে সংসদে এসে এ বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি নেতারা আগামী ২৫ অক্টোবর চূড়ান্ত আন্দোলনের যে হুমকি দিয়েছেন তা খামোখা বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্যের শুরুতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সংসদ চলবে। আর বিরোধীদল আলোচনা চাইলে তাদের প্রস্তাব দিতে হবে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা যাতে কেউ নষ্ট করতে না পারে সেজন্য দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, গোলমালের কিছুটা আলামত আমরা দেখেছি- চট্টগ্রামের মাদ্রাসায়। বাচ্চারা যায় লেখা পড়া শিখতে, কেনো তাদের বিপথে নেওয়া হচ্ছে। অপজিশন নেত্রী গোলমাল না বাধালে দেশে অশান্তি হবে না।
বিএনপির নির্বাচনে না আসার ঘোষণা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, উনি (বিরোধীদলীয় নেতা) যদি ডেমেক্রেসিতে বিশ্বাস করেন, ভোটে বিশ্বাস করেন- তাহলে কেনো তিনি ইলেকশনে আসবেন না। তাহলে কি তিনি হেরে যাওয়ার ভয়ে ইলেকশনে আসতে চাচ্ছেন না? ইলেকশন ছাড়া আর কোন পথে উনি ক্ষমতায় যাবেন? প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। এই সময়ে সরকারে থাকবে আওয়ামী লীগ এবং সংসদও বহাল থাকবে। তবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না দাবি করে নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল চায় বিএনপি। এ দাবিতে ২৫ অক্টোবর রাজধানীতে জনসভার ঘোষণা দিয়ে সেদিন দা, কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলীয় কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে দা-কুড়াল নিয়ে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। ছুরি-কাঁচি-দা দিয়ে মানুষকে হত্যা করবে- এটা কেনো?
সংসদের চলতি অধিবেশন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, পার্লামেন্ট ততদিন চলবে যতদিন ইলেকশন শিডিউল না হয়। সংবিধানের ৫৭ (৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অযোগ্য করিবে না। এজন্য সবাইকে সংবিধানের ১২৩, ৭২ ও ৫৭ অনুচ্ছেদ পড়ার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।
সংবিধানের ৭২ (৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, “রাষ্ট্রপতি পূর্বে ভাঙ্গিয়া না দিয়া থাকিলে প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর অতিবাহিত হইলে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবে: তবে শর্ত থাকে যে, প্রজাতন্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত থাকিবার কালে সংসদের আইন-দ্বারা অনুরূপ মেয়াদ এককালে অনধিক এক বৎসর বর্ধিত করা যাইতে পারিবে, তবে যুদ্ধ সমাপ্ত হইলে বর্ধিত মেয়াদ কোনক্রমে ছয় মাসের অধিক হইবে না। আর ৭২ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদ ভঙ্গ হইবার পর এবং সংসদের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, প্রজাতন্ত্র যে যুদ্ধে লিপ্ত রহিয়াছেন, সেই যুদ্ধাবস্থার বিদ্যমানতার জন্য সংসদ পুনরাহ্বান করা প্রয়োজন, তাহা হইলে যে সংসদ ভাঙ্গিয়া দেওয়া হইয়াছিল, রাষ্ট্রপতি তাহা আহবান করিবেন।”
সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে (ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নববই দিনের মধ্যে; এবং (খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পরবর্তী নববই দিনের মধ্যে: তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না।
সংবিধানের ১২৩ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদের কোন সদস্যপদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করিবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে; তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোন দৈব-দূর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহা হইলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করায় দেশবাসী উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি এবং উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।