শীর্ষবিন্দু নিউজ: নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টায় সময় ব্যয় করবো না। আমি জনগণের উন্নয়নে মনোযোগী হবো। আমাদের সরকার হবে মেধা ও মননশীলদের সমন্বয়ে গঠিত। আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আজ তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।
আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গণি, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, এমকে আনোয়ার, ব্রি. জে. (অব.) আসম হান্নান শাহ, সারওয়ারী রহমান, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, খন্দকার মাহবুব হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জোট নেতাদের মধ্যে এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম, জামায়াতের নায়েবে আমীর নাজির আহমেদ, বিজেপি সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গানি, এনডিপি সভাপতি খন্দকার গোলাম মতুর্জা, এনপিপি সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলুসহ বিএনপি ও শরিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিরোধী নেত্রীর তার প্রস্তাবে বলেন, বিগত ‘৯৬ ও ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২০ জন উপদেষ্টার মধ্য থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাঁচ জন করে নাম প্রস্তাব করবে। আর ওই সরকারের প্রধান সবার সঙ্গে আলোচনা করে একজন সম্মানীত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচন করা হবে। প্রয়োজন হলে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়ার আগে তাদের নির্বাচিত করে আনা হবে। আশা করি প্রধানমন্ত্রী আমার প্রস্তাব গ্রহণ করবেন। রাজধানীর গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।
গণতন্ত্রের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থায় জাতীয় ঐক্য জোরদার করা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে। এখন প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। গড়তে হবে অখণ্ড জাতীয় সত্ত্বা। ঐক্যবদ্ধ হতে হবে গণতন্ত্রের জন্য। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সুষ্টু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা তুলে দেয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। খালেদা জিয়া বলেন, মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত। ক্ষমতাসীনরা দ্রুত পেয়ে যান তাদের কাক্সিক্ষত রায়। খুনের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্তরা পেয়ে যান প্রেসিডেন্টের ক্ষমা। প্রতিশোধ প্রহিংসা চরিতার্থ করার জন্য কোন সময় ব্যয় করবো না। তাদের সব ইতিবাচক চিন্তা ও ধ্যান ধারণাকে স্বাগত জানাই।
আগামীতে আমাদের সরকার হবে সকল নাগরিকের সরকার। জাতীয় ঐক্যের সরকার। দেশের জ্ঞানী, গুনি, মেধাবী ও যোগ্য লোকদের জাতীয় ঐক্যের সরকারে অংশ নেয়ার জন্য আমি আগেই আহবান জানিয়েছি। তিনি বলেন, সারা দেশ পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ। শান্তিপূর্নভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তুলেছি। এই দাবি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা জাতীয় দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রধানমন্ত্রী তার প্রস্তাবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কে হবেন তা স্পষ্ট করেননি। এতে সাধারণ মানুষের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, তিনি তার হাতে ক্ষমতা রেখে প্রশাসন হস্তগত করে বিরোধী দলকে একটি অসম প্রতিযোগিতায় নিতে চান। তার এ বক্তব্যে জাতি হতাশ হয়েছে। আমি এখনও মনে করি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা দরকার। এটি যতো দ্রুত হয় ততই মঙ্গল। আশা করি প্রধানমন্ত্রী আমার প্রস্তাব গ্রহণ করবেন। নতুন ধারার সরকারের ধারণা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, অতীতে আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছে আমি তাদেরকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করছি।