মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১১

সরকারের ছকে আচরণবিধি চূড়ান্ত করছে নির্বাচন কমিশন

সরকারের ছকে আচরণবিধি চূড়ান্ত করছে নির্বাচন কমিশন

শীর্ষবিন্দু নিউজ: গত ১৮ই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই হবে জাতীয় নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলেও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচনী প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের অবাধ সুযোগের পরিবর্তে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রেখেই আচরণবিধি সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করছে ইসি। প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান হলে তিনি সব নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা চালাতে পারবেন। মন্ত্রীরা প্রার্থী হলে তার নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে তারা প্রটোকল না পেলেও প্রটেকশন পাবেন। সংসদ সদস্যরা স্বপদে থেকেই প্রার্থী হতে পারবেন।

এছাড়া বিরোধী দলের প্রধান বা পার্টির প্রধানসহ প্রতি দলের ২০ জনের প্রচারণায় পৃথক সুযোগ থাকছে। বিভিন্ন দেশের আচরণবিধি পর্যালোচনা করে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা-২০১৩ এর খসড়া তৈরি করেছে কমিশন। এই সপ্তাহের মধ্যেই খসড়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। ইসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিলবোর্ড, ব্যানার ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। নবম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর। ২০০৯ সালের ২৫শে জানুয়ারি সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছিল। সেই অনুযায়ী আগামী ২৭শে অক্টোবর থেকে ২৪শে জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে কমিশনকে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে রোববার নির্বাচন কমিশনে  নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আইনগত নির্দেশনা পেয়েছে ইসি। আমরাও বলে আসছিলাম সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবং সে অনুযায়ী আমরা নির্বাচনের জন্য এগিয়ে যাচ্ছি। সরকারে থেকে নির্বাচন করলে কি কি বাধ্যবাধকতা থাকবে সেই আলোকে আচরণবিধি করা হচ্ছে। যাতে বাড়তি কোন সুবিধা না পায় সরকারি দল। কারণ নির্বাচনের আর বেশি সময় নেই। সব দলের জন্য সমান সুযোগ রেখেই আচরণবিধি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। আচরণবিধির চূড়ান্ত  খসড়া সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হবে। তাদের কোন আপত্তি থাকলে তারা সে বিষয়ে  কমিশনকে জানাতে পারবে। এছাড়াও ইসির ওয়েবসাইটেও আচরণবিধির খসড়া দেয়া হবে।

ইসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন কমিশন  নিশ্চিত  সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী বর্তমান সংসদ বহাল রেখেই দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে সংসদ নেতা থেকে সংসদ সদস্য, স্পিকার থেকে হুইপ, প্রত্যেকেই স্ব-স্ব পদে বহাল থাকছেন। তারা আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ পাবেন। তবে প্রটোকল না পেলেও নির্বাচনী প্রচারণায় নিরাপত্তা প্রটেকশন পাবেন। তবে মন্ত্রীদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে যাওয়ারও সুযোগ রাখা হচ্ছে না।

এক্ষেত্রে দলীয় প্রধানের নেতৃত্বে একটি টিম সারাদেশে প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাবেন। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ১৪(১ক) ধারায় সংশোধনী এনে বলা হচ্ছে- ‘সংসদের সাধারণ নির্বাচন বা কোন শূন্য আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠান হইবার ক্ষেত্রে সরকারের কোন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী কিংবা মন্ত্রীদের পদমর্যাদাসম্পন্ন সরকারি সুবিধাভোগী কোন ব্যক্তি নির্বাচন-পূর্ব সময়ের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় যেতে পারিবেন না’।

তবে (১ক) উপ-বিধির এক উপধারায় বলা হচ্ছে- ‘পদধারীগণ প্রার্থী হইলে তাহার নির্বাচনী এলাকার প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না। এছাড়া দলীয় প্রধানের ক্ষেত্রে উপ-বিধি (১) প্রযোজ্য হইবে না।’ একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের প্রতিটি আসনের জন্য নির্বাচনী জনসভা ও নির্বাচনী ক্যাম্পের সংখ্যাও নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিল বোর্ডের প্রচারণা ও প্রতীক হিসেবে জীবন্ত  প্রাণী ব্যবহার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। এছাড়া, ব্যানার ও ডিজিটাল ব্যানার ব্যবহারে শর্ত জুড়ে দেয়া হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে নির্দিষ্ট মাপের সাদা-কালো ব্যানার ব্যবহারের বিধান রাখা হচ্ছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026