মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫২

বাংলাদেশ-ভারত বন্দি বিনিময়ের দ্বার উন্মাচন

বাংলাদেশ-ভারত বন্দি বিনিময়ের দ্বার উন্মাচন

শীর্ষবিন্দু নিউজ: অনুসমর্থনের দলিল হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে কার্যকর হলো ভারত ও বাংলাদেশের বহিঃসমর্পণ চুক্তি, যার আওতায় দুই দেশ ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিনিময় করতে পারবে। স্বরাষ্ট্রসচিব সিকিউএম মুস্তাক আহমেদ ও ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ  শরণ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ চুক্তিতে অনুসমর্থনের দলিলে সই করেন এবং বিনিময় করেন।

এর ফলে আসামের বিদ্রোহী সংগঠন উলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়াকে ফিরিয়ে নিতে পারবে ভারত। বাংলাদেশও সুব্রত বাইন ও সাজ্জাদ হোসেনের মতো পলাতক সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখী করতে পারবে। এ চুক্তির  ফলে দুই দেশ এক বছরের বেশি মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের বিনিময় করতে পারবে। তবে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী বা বন্দিদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। যে কেউ ছয় মাসের নোটিশে এ চুক্তি বাতিল করতে পারবে। তবে কোনো দেশ বন্দি বিনিময়ের আবেদন করলে কতো দিনের মধ্যে তা সুরাহা করতে হবে- সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়ের উল্লেখ নেই চুক্তিতে।

এক যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা যাবে। অনুপ চেটিয়া এর আগে বাংলাদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলেও মত বদলে সম্প্রতি ভারতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরেই তাকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ২০০১ সালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে। এদের মধ্যে ঢাকার অপরাধ জগতের তখনকার প্রভাবশালী সেভেন স্টার গ্রুপের প্রধান সুব্র্রত বাইনও ছিলেন।

সুব্রত বাইনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯১ সালে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় জাসদ ছাত্রলীগ নেতা মুরাদ হত্যার মধ্য দিয়ে তার সন্ত্রাসী জীবনের উত্থান হয়। সুব্রত বাইন কলকাতায় এবং সাজ্জাদ তিহার কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সব ঠিকঠাক থাকলে বন্দি বিনিময়ে ‘বহিঃসমর্পণ চুক্তির’ আওতায় এই তিন জনের হস্তান্তর প্রক্রিয়াই হবে প্রথম ঘটনা। কলকাতার স্পেশাল টাস্কফোর্স সেখানকার কারাইয়া থেকে ২০০৮ সালের ১৩ অক্টোবর সুব্রতকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে কলকাতায় অস্ত্র ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলাও হয়। ওই মামলায় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার গা ঢাকা দেন সুব্রত। গত বছরের শেষ দিকে তাকে আবারো গ্রেপ্তার করে কলকাতার পুলিশ।

১৯৯৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে অনুপ চেটিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ, বিদেশি মুদ্রা রাখা এবং স্যাটেলাইট ফোন রাখার অভিযোগে তিনটি মামলায় তাকে যথাক্রমে তিন, চার ও সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। সেই সাজার মেয়াদ ২০০৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হলেও বন্দি বিনিময় চুক্তি কার্যকর না হওয়ায় এতোদিন তাকে ফেরত পায়নি ভারত। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশও পলাতক সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে আনার সুযোগ পাবে।

দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকায় এই ‘বহিঃসমর্পণ চুক্তিতে’ সই করেন। এরপর গত ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওই চুক্তিতে অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। তার আগেই ভারত এ চুক্তিতে অনুসমর্থন দেয়।

 




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026