শীর্ষবিন্দু নিউজ: চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানার রসুলবাগ আবাসিক এলাকায় এক জামায়াতকর্মীর বাসায় বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের পর ওই বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বেশকিছু বোমা ও হ্যান্ডগ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।
রসুলবাগ আবাসিক এলাকার একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাত ১টার পর হঠাৎ বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে আসি। দেখি কক্ষের ভেতরে নসরুল্লাহ আছে আর ভেতর থেকে বিষাক্ত ধোঁয়া বের হচ্ছে। আমরা ধাক্কা দিয়ে বারবার নসরুল্লাহকে দরজা খুলতে বলি। এসময় মেঝ ভাই আসাদউল্লাহ বারবার বলেন, আমাদের বাসায় কিছু হয়নি। আপনারা চলে যান। পরে এক ফাঁকে নসরুল্লাহ পালিয়ে যান।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নগরীর বাকলিয়া থানার সরকারী বিএড কলেজের আশপাশের এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করে ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ধরনের নাশকতায় নেতৃত্ব দিতেন নসরুল্লাহ। জামায়াতের নাশকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে এলাকায় নিজ বাসায়ও নিয়মিত থাকতেন না নসরুল্লাহ। তিনতলা ভবনের নিচতলাটি গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। বিস্ফোরণের পর সেখানে রাখা একটি পরিত্যক্ত ফ্রিজের দরজা এবং বাথরুমের দরজা উড়ে গেছে। পুরো কক্ষের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে গান পাউডার, বারুদ, তরল রাসায়নিক পদার্থসহ আরও বেশকিছু সরঞ্জাম। পাওয়া গেছে হ্যান্ড গ্রেনেড তৈরির আলামতও।
নসরুল্লাহ’র বড় ভাই হাটহাজারীর বুড়িশ্চর জিয়াউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক শেখ ফয়জুল্লাহ এবং মেঝো ভাই আসাদুল্লাহও জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়। গ্রেপ্তারের আগে আসাদুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছোট ভাই নসরুল্লাহ এক সময় ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করতেন। পরে সে জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হন।
মেঝ ভাই আসাদউল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালান। প্রথমে পুলিশ আসাদউল্লাহ’র বাসায় উপস্থিত হলে তিনি জানান, ফ্রিজের কম্প্রেসারের বিস্ফোরণ হয়েছে। পরে আবার জানায়, নসরুল্লাহ’র সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বিস্ফোরণ ঘটা কক্ষটিতে তারা কখনো ঢোকেন না। পরে আবার আসাদউল্লাহ পুলিশকে জানান, বান্দরবানে তার আমবাগান আছে। ওই কক্ষে তিনি আমবাগানে ছিটানোর বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ রাখেন।
এর আগে ৭ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে নগরীর লালখান বাজারে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারুল ইসলাম পরিচালিত জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন ছাত্র আহত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার ছাত্র মারা যায়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুফতি ইজহারুল ইসলামের ছেলেসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নসরুল্লাহর বাবা ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ। তিনি মারা গেছেন। এলাকায় তার তিনতলা ভবনটি ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তার বাসা হিসেবে পরিচিত। বিস্ফোরণের পর পরই জামায়াতকর্মী নসরুল্লাহ (৩৬) পালিয়ে গেছেন। তবে নসরুল্লাহর মেঝো ভাই আসাদুল্লাহকে (৪০) আটক করা হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসাদুল্লাহর স্ত্রীকে হেফাজতে রেখেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা মতে, ২৫ অক্টোবরকে সামনে রেখে নাশকতার জন্য বোমা ও হ্যান্ড গ্রেনেড বানানো হচ্ছিল। আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। পলাতক জামায়াতকর্মী নছরুল্লাহকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলবে বলে জানায় পুলিশ।