রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯

হরতাল শেষে গণভবনে যেতে প্রস্তুত বিএনপি

হরতাল শেষে গণভবনে যেতে প্রস্তুত বিএনপি

শীর্ষবিন্দু নিউজ: হরতাল শেষে যে কোনো সময় গণভবনে যেতে প্রস্তুত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২৯ তারিখ সন্ধ্যা ৬টার পর যে কোনো সময় সংলাপের আমন্ত্রণ জানালে নেত্রী যেতে প্রস্তুত আছেন। সোমবার সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই খবর গণমাধ্যমের কাছে জানান।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় নিজের চেম্বারে মির্জা ফখরুল হরতালের দ্বিতীয় দিনের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় ফখরুল বলেন, ২৯ তারিখ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি রয়েছে। এরপর  যে কোনো সময়ে প্রধানমন্ত্রী ডাকলে আমরা সংলাপে বসতে তৈরি আছি। প্রধানমন্ত্রীর ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে রোববার সকাল থেকে সারা দেশে টানা ৬০ ঘণ্টার হরতাল করছে বিরোধী দলীয় জোট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়াকে ফোন করে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন। হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে যেতে আমন্ত্রণ জানান তিনি।

বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সংলাপের আহ্বান জানানোর পরও হরতাল পালন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেষ মুহূর্তে টেলিফোন করেছেন। ওই সময়ে ঘোষিত ৬০ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি স্থগিত করার সুযোগ ছিল না। তাই গণভবনে আজ বিরোধী দলীয় নেতা যেতে পারবেন না। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে দাবি করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, সরকার পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। পুলিশ-র‌্যাবসহ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের আক্রমণ-হামলা-গুলিবর্ষণের পরও সারা দেশে সর্বাত্মক হরতাল হচ্ছে।

তিনি বলেন, সোমবার সকালে রাজশাহী, জামালপুর, জয়পুরহাট, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করেছে। আমাদের কাছে খবর এসেছে, রাজশাহীতে পুলিশের গুলিতে ৪২জন আহত হয়েছে। এছাড়া ঢাকার তেজগাঁও, হাজারীবাগ, খিলগাঁওতেও মিছিল করতে গেলে পুলিশ বেপোরোয়াভাবে গুলি করেছে। ফখরুল বলেন, এভাবে গুলি করে জনগণের দাবির অভ্যুথানকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। আমরা সরকারকে বলব, অবিলম্বে পুলিশের গুলি করে মানুষ হত্যা বন্ধ করুন। এদিকে আগের দিনের মতোই নয়া পল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নিয়ে আছে পুলিশ।

গ্রামীণ ব্যাংক-২০১৩ বিল সংসদে উত্থাপনের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, বিএনপি গ্রামীণ ব্যাংক সরকারিকরণের বিপক্ষে। আমরা মনে করি, সরকারের এই উদ্যোগ গ্রামীণ ব্যাংককে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে ধ্বংস করার শামিল। তিনি বলেন, যে ব্যাংকটি ক্ষুদ্র ঋণ প্রবর্তনের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে সরা দেশে সমাদৃত হয়েছে, খ্যাতি অর্জন করেছে তাদের সরকারিকরণ করে নিয়ন্ত্রণ করতেই সরকার প্রথম থেকে কাজ করে আসছে। এই ব্যাংকটি ধবংস করে দেয়াই এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য। গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনুসকেও সরকার নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে চলেছে বলে অভিযোগ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের।

মির্জা ফখরুল  বলেন, আগেও বার বার বলেছি, আজো বলছি- আমরা সংলাপ ও সমঝোতা চাই। সংলাপের উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। কারণ তারাই চালকের ভুমিকায় আছেন। প্রতিটি জেলা- উপজেলায় জনগণের অভ্যুত্থান শুরু হয়ে গেছে বলেও মনে করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম, সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করীম শাহিন প্রমুখ নেতা রোববার থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026